1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রাণ দিতে হলো ‘কাবুলিওয়ালার বাঙালি বৌ’কে

বাঙালি লেখিকা সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আফগানিস্তানের পাকটিকা প্রদেশে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে আফগান জঙ্গিরা গুলি করে হত্যা করে৷ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তালিবানকে সন্দেহ করা হলেও তারা তা অস্বীকার করে৷

শুধু সাহসী নন, অসমসাহসী বাঙালি লেখিকা ৪৯ বছরের সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাকটিকা প্রদেশের খারানা শহরের উপকণ্ঠে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে আর প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারলেন না৷ জঙ্গিরা রাতে তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে গুলিতে ঝাঁজরা করে দেয়৷ তারপর কাছের এক মাদ্রাসার সামনে ফেলে রেখে চলে যায় তাঁর লাশ৷ পরে তাঁকে কবর দেয়া হয়৷ এই হত্যার জন্য তালিবানকে সন্দেহ করা হলেও তারা তা অস্বীকার করেছে৷ অনেকের সন্দেহ, সুস্মিতার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের হাত আছে এই হত্যার পেছনে৷

যারাই সুস্মিতাকে হত্যা করুক, হত্যার কারণ – সুস্মিতা তাঁর লেখায় তুলে ধরেছিলেন আফগান মেয়েদের ওপর অমানুষিক ব্যবহার, আফগান সমাজ জীবনের নানা অন্যায়-অবিচারের কথা৷ সেই রাগের শোধ তুলতেই এই হত্যা, জানান পাকটিকা প্রদেশের পুলিশ প্রধান৷

কলকাতায় এক আফগান ব্যবসায়ী জানবাজ খানকে সুস্মিতা বিয়ে করেছিলেন সকলের নিষেধ অগ্রাহ্য করে৷ বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম নেন সায়েদ কামালা৷ মোহভঙ্গ হতে দেরি হয়নি সুস্মিতার৷

Bollywood Schauspielerin Manisha Koirala

‘এসকেপ ফ্রম তালিবান’ ছবিতে সুস্মিতার চরিত্রে অভিনয় করেন মনিষা কৈরালা

১৯৮৯ সালে আফগানিস্তানে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে সেখানকার পারিবারিক তথা সামাজিক জীবন তাঁকে বিস্মিত ও বিধ্বস্ত করে দেয়৷

অসীম সাহসে ভর করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তালিবানের চোখ এড়িয়ে ১৯৯৪ সালে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছলে তাঁর দেওর তাঁর পিছু ধাওয়া করে সুস্মিতাকে আবার শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যায়৷ ভারতে ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দিয়েও তা রাখেনি৷ সুস্মিতা তারপর থেকে গৃহবন্দি৷ কাবুলের ভারতীয় হাইকমিশনও এ ব্যাপারে সাহায্য করেনি৷ তালিবান তাঁকে নষ্ট চরিত্র বলে বদনাম দেয়৷ মৃত্যুদণ্ডের ভয় দেখায়৷

আবার পালাবার পথ চলে৷ পালাবার আগে সুস্মিতা স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আফগান মেয়েদের চিকিৎসা করতেন৷ একদিন রাতের আঁধারে মাটির বাড়ির দেয়ালে গর্ত করে সুস্মিতা পালাতে গিয়ে আবার ধরা পড়ে যান তালিবানের হাতে৷ তালিবান তাঁকে জেরা করে সারারাত ধরে৷ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করায় পরের দিন সকালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কাবুলের ভারতীয় হাইকমিশনে৷ সেখানে হাইকমিশন তাঁকে ভারতে পাঠাবার ব্যবস্থা করে৷ ফিরে আসেন উনি কলকাতায় আবার৷

শ্বশুরবাড়ি থেকে পালানোর রোমহর্ষক আখ্যান নিয়ে ১৯৯৫ সালে তিনি লেখেন ‘কাবুলিওয়ালার বাঙালি বৌ’৷ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বেস্টসেলার৷ পরে ইংরেজি সংস্করণ বের হয়৷ ঐ কাহিনি নিয়ে বলিউডে ‘এসকেপ ফ্রম তালিবান’ ছবি তৈরি হয় ২০০৫ সালে৷ তারপর আফগানিস্তান নিয়ে একাধিক বই লেখেন৷ যেমন, ‘তালিবান, আফগান ও আমি’‘, ‘একবর্ণ মিথ্যা নয়’৷

অনেকেরই প্রশ্ন, জেনেশুনে নিজের অভিজ্ঞতার পরেও কেন তিনি আবার আফগানিস্তানে গেলেন নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে? এই দুঃসাহসের মধ্যে বিচক্ষণতার কি অভাব ছিল না? কেউ কেউ বলছেন, আফগান সমাজজীবন – বিশেষ করে নারীদের অবস্থা নিয়ে আরো লেখালেখির রসদ সংগ্রহ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য৷ তবু বলতেই হবে সুস্মিতা বন্দোপাধ্যায় বাঙালি নারীদের ভীরু লবঙ্গলতা ভাবমূর্তিটাকেই দিলেন পালটে৷ তালিবানের গুলি পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইকে মারতে না পারলেও বাঙালি সুস্মিতাকে নারীমুক্তির লড়াই-এ জীবন দিতে হলো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন