1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রাণভিক্ষা না চাইলে যে কোনো সময় নিজামীর ফাঁসি

মানবতাবিরোধী অপরাধে চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে৷ অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাইলে যে কোনো সময় তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে৷

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ রায় ট্রাইব্যুনাল হয়ে কারাগারে গেছে এবং নিজামীকে তা পড়ে শোনানো হয়েছে৷ এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলেই কেবল ‘যুদ্ধাপরাধী' নিজামীর মৃত্যুদণ্ড রহিত হতে পারে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ডয়চে ভেলেকে জানান৷ নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ইতিমধ্যে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘‘নিজামী প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন না৷'’

তিনি বলেন, ‘‘নিজামী তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সময় জানিয়েছেন, জীবন-মরণের মালিক আল্লাহ৷ প্রাণভিক্ষা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না৷’’ তবে তার পরিবারের সদস্যরা এখন আর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন না৷

কারাসুত্র জানিয়েছে, ‘‘মঙ্গলবারের মধ্যেই একজন ম্যাজিস্ট্রের সামনে নিজামী প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা তা জানতে চাওয়া হবে৷’’

অডিও শুনুন 00:22

‘একমাত্র প্রাণভিক্ষা চাইলেই যুদ্ধাপরাধী নিজামীর মৃত্যুদণ্ড রহিত হতে পারে’

যে কোনো সময় ফাঁসি

এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নিজামী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান, তাহলে তার প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগবে৷ আর না চাইলে সরকার যে কোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে৷ এরজন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই৷ আর প্রাণভিক্ষারও নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই৷' নিয়ম অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান৷’’

মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজের রায় সোমবার প্রকাশ করা হয়৷ সোমবারই সেই রায় ট্রাইব্যুনাল হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়৷ রাতে নিজামীকে তা পড়ে শোনানো হয়৷

এর আগে রবিবার নিজামীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়৷ গত ৫ মে নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের এই বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী৷

নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ, বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷ নিজামী আপিল করলে ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আপিল শুনানি শুরু হয়৷ গত ৬ জানুয়ারি আপিলে ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ৷ এরপর গত বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদনও খারিজ হয়ে যায়৷

অডিও শুনুন 00:27

‘নিজামী কিছুতেই প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন না'

২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের একটি মামলায় মতিউর রহমান নিজামীকে আটক করা হয়৷ পরে ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়৷ নিজামী একাত্তরে ‘আলবদর' প্রধান ছিলেন৷ আর তিনিই এখন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ নেতা৷ ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি শিল্পমন্ত্রী ছিলেন৷

প্রসঙ্গত, নিজামী আরো একটি মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি৷ ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মতিউর রহমান নিজামীসহ ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত৷

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল গভীর রাতে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড বা সিইউএফএল জেটিঘাটে ধরা পড়ে ১০ ট্রাক অস্ত্র৷ নিজামী তখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরোধীতা

ওদিকে নিজামীর ফাঁসি স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷ সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলাটির বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী না হওয়া এবং ন্যায় বিচার নিয়ে প্রশ্ন থাকায় রায় কার্যকর করা থেকে বাংলাদেশ সরকারকে বিরত থাকার জন্য বলে তারা৷

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে৷ এটি একটি অমানবিক ও নিষ্ঠুর শাস্তি৷ এর মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কোনো অনুশোচনা বা পরিবর্তন হয় না৷'’

বন্ধু, আপনি কি এই মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করেন? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়