1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

প্রাচীন চিকিৎসার পথে রোমানিয়া

মৌমাছির হুল, মধু যে নানা রোগের চিকিৎসায় খুব উপকারী সেটা আবারো উপলব্ধি করেছেন রোমানীয়রা৷ প্রাচীনকাল থেকে নানা রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় মৌ-পণ্য৷ সেই প্রথাকে এখন বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তারা৷

প্রাচীন গ্রিসে হিপোক্রেটিস ক্ষত সারানোর জন্য মধু ব্যবহার করেছিলেন৷ মৌমাছির গায়ে যে পরাগ লেগে থাকে রোমানীয়দের কাছে সেটা ‘জীবনদানকারী পরাগ'৷

ভারত, চীন, মিশরেও মধু বহু রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়৷ বিশেষ করে মৌচাক থেকে পাওয়া প্রপোলিস জনপ্রিয় অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে৷ বুখারেস্টের ইনস্টিটিউট ফর এপিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিনা মাতিসকু সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘‘মৌচাক সবচেয়ে পুরোনো এবং স্বাস্থ্যসম্মত প্রাকৃতিক ফার্মাসি৷ রোমানিয়ার কার্পেথিয়ান পর্বতমালায় এখনও মৌ-চাষ করা হয়৷ ধীরে ধীরে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে৷''

বুখারেস্টের চিকিৎসক মারিয়ান স্টান বলেন, ‘‘আমার প্র-মাতামহী আমাদের গ্রামে মৌ-চাষ এবং মৌচাক থেকে উৎপন্ন সবকিছু কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করতেন৷ তিনিই এ কাজে আমায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন৷'' স্টান বহু বছর ধরে সুনামের সঙ্গে এলাকাবাসীর চিকিৎসা করে আসছেন৷ কিন্তু সম্প্রতি তিনি তার চিকিৎসায় মৌমাছি পণ্য ব্যবহার করে নিজেকে ‘এপিথেরাপিস্ট' হিসেবে পরিচিত করে তুলতে চাইছেন৷ তিনি বলেন মৌ-পণ্য থেকে যে ওষুধ উৎপাদন হয়, তা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে ফল দেয়, কিন্তু সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়৷

এপিথেরাপি নিয়ে কাজ করেন বিশ্বের এমন ব্যক্তিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে উঠেছে এপিমোনডিয়া কমিশন অফ এপিথেরাপি৷ ১৯৭৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়৷ বর্তমানে সেখানে কাজ করে ১০৫ জন ব্যক্তি৷ মৌমাছি থেকে উৎপন্ন ৩০টি পণ্য সারা বিশ্বে বিক্রি করেন৷

সম্প্রতি সেখানে মধু দিয়ে এমন ওষুধ তৈরির পরিকল্পনা চলছে যা বিড়াল ও কুকুরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে৷ বিশ্বের প্রথম এপিথেরাপি মেডিকেল সেন্টার নির্মিত হয় বুখারেস্টে৷ মৌমাছির বিষ, মধু, মোম বা প্রোপলিস থেকে ওষুধ তৈরি করে তারা কম দামে তা বিক্রি করে৷

স্কেলেরোসিস এ আক্রান্ত ডয়না পোস্তোলাচি প্রতি সপ্তাহে দুবার এখানে আসেন৷ মৌমাছির হুলের বিষ দিয়ে তৈরি ইনজেকশন তাঁকে দেয়া হয়৷ যেটার নাম অ্যাপোক্সিন৷ তিনি জানালেন গত এক বছর ধরে হাঁটতে পারতেন না৷ কিন্তু এই ইনজেকশন নেয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে তিনি পায়ে শক্তি ফিরে পাচ্ছেন, হাঁটতেও পাচ্ছেন৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন