1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

প্রস্রাবের বিনিময়ে অর্থ দিতে রাজি ডারবান শহর

প্রস্রাবের বিনিময়ে টাকা - দক্ষিণ আফ্রিকার শহর ডারবানে এরকমই এক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে৷ যেখানে পানিবিহীন টয়লেট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে শহরবাসীদের কাছ থেকে এই তরল বর্জ্য কিনে নিতে চাচ্ছে নগর পরিষদ৷

Urinal,South Sfrica, Urine, Money, Container,Sanitation,পানি, প্রস্রাব, টাকা, বিনিময়, দক্ষিণ আফ্রিকা

স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এবং খরচ কমানোর জন্য শহরের বাড়ির বাগানগুলোতে প্রায় নব্বই হাজার টয়লেট বসিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ, যাতে একবিন্দুও পানি ব্যবহার করতে না হয়৷ এখন শহরের এই ধরণের ৫শ' টি টয়লেটে একটি করে কন্টেইনার বসাতে চাচ্ছে কর্তৃপক্ষ৷ যাতে ২০ লিটার ধারণ ক্ষমতার এই কন্টেইনারগুলোতে নাইট্রেটস, ফসফরাস ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ প্রস্রাব রাখা যায়৷ এবং পরে তা সারে পরিবর্তন করা যেতে পারে৷ নতুন এই প্রকল্পের আওতায় একজন পৌরকর্মী সপ্তাহে একদিন জেরিক্যানগুলো সংগ্রহ করবেন এবং এর বিনিময়ে ঐ পরিবারগুলোকে ৩০ ব়্যান্ড অর্থাৎ চার ডলার বা তিন ইউরো পরিমাণ টাকা দেবেন৷ যে দেশের তেতাল্লিশ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন দুই ডলারের কম টাকা দিয়ে জীবনধারণ করে সেই দেশটির জন্য সপ্তাহে চার ডলার কম নয়৷

ডারবান শহরের পানি এবং স্যানিটেশন বিভাগের প্রধান নেইল ম্যাক লিওড বলছেন, ‘‘আমরা যদি টয়লেটগুলোকে আয়ের একটা উৎস হিসেবে নিয়ে আসতে পারি তাহলে মানুষ টয়লেটগুলো ব্যবহার করতে চাইবে৷''

যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিভিন্ন অনুশাসনের কারণে বেশিরভাগ মানুষই পানি ছাড়া এই টয়লেট ব্যবহারে নারাজ৷ পানি বিভাগের সঙ্গে কাজ করেন এমন একজন কর্মকর্তা লাকী সিবিয়া বলেন, ‘‘যখন শহর কতৃর্পক্ষ নগরবাসীর জন্য টয়লেটগুলো চালু করল তারা এটাকে ভালো চোখে দেখেনি৷ সাধরণ মানুষ এর গুরুত্ব বোঝেনি৷ তাদের ধারণা, মলমূত্র ছোঁয়াছুঁয়ি করা মানে দুর্ভাগ্য ডেকে আনা''

শতবছর আগে ইয়েমেনে পানিবিহীন টয়লেটের প্রচলন শুরু হয়৷ দক্ষিণ আফ্রিকার একজন পানি এবং স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ পিয়ের ইভ ওগার বলেন, ‘‘গ্রামে ভালোভাবে কাজটি করা যায়৷ কারণ মলমূত্র থেকে যে সার তৈরি করা হয় তা স্থানীয়ভাবেই ব্যবহার করা হয়৷'' তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু শহরে যাদের কাছ থেকে এই বর্জ্য আসছে এবং যারা এর পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াজাত করছে তারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন৷ মানসিক এই বাধাকে অতিক্রম করে সেখানে কাজ করাটা খুব কঠিন৷''

২০০২ সালে ডারবানে কলেরা রোগ দেখা দিয়েছিল৷ সেই সময়েই লক্ষ করা যায় যে শহরের ১০ লাখ বাসিন্দার জন্য কোন মলমূত্র নিষ্কাশন ব্যবস্থাই নেই৷ তখনই চালু হয় প্রকল্পটি৷ পূর্ণাঙ্গ কোন স্যানিটেশন ব্যবস্থা এড়াতে এবং পানির সাশ্রয় ঘটাতে ডারবান শহর পানিবিহীন টয়লেট চালু করে৷

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক