1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রশ্ন করলেই নাক কেটে ফেলবেন!

নারী নির্যাতন বিষয়ক একটি আইন নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে আফগানিস্তান৷ এবার এক সংসদ সদস্যকে আইনটির কার্যকারিতা ও ধর্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে নাক হারানোর হুমকির মুখে পড়েছেন এক সাংবাদিক৷

‘ভাইস নিউজ'-এর হয়ে আফগানিস্তানের সাংসদ নাজির আহমাদ হানাফির সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন ইসোবেল ইয়ুং৷ সংসদ সদস্য হানাফির সামনে সরাসরিই প্রশ্ন রেখেছিলেন তিনি৷ বলেছিলেন, ‘এই আইন যদি পাশ হয়, তবে নারীদের পক্ষে বিচার পাওয়া হয়ত অসম্ভব হয়ে উঠবে, এটা কি আপনি বিশ্বাস করেন?' প্রশ্ন শুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন সাংসদ৷ এমনধারা প্রশ্ন করলে নাকি ইয়ুং-এর নাকটাই কেটে দেবেন উনি৷

আপাতদৃষ্টিতে নারী নির্যাতনবিরোধী এই আইনটি বেশ প্রগতিশীল৷ এতে শুধু ধর্ষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধেই শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়নি, বাল্যবিবাহ, জোর করে বিয়ে দেওয়া, নারী ব্যবসা ইত্যাদিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে৷

মুশকিলটা হলো, ঐ আইনে বলা হয় যে, অভিযুক্ত নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে পরিবারের কোনো সদস্য সাক্ষী দিতে পারবে না৷ অথচ আফগান নারীরা প্রধানত পরিবারের ভেতরেই নির্যাতনের শিকার হন৷ বলা বাহুল্য, এই আইনের ফলে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আফগানিস্তানে বাল্য বিবাহ, ধর্ষণ ও পারিবারিক নির্যাতন বন্ধে যেসব অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে৷ তাই আইনটি সংশোধনের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রথম থেকেই আফগানিস্তানকে চাপ দিয়ে আসছে৷ তারপরও অবশ্য সাংসদ নাজির আহমাদ হানাফিরা এই আইনের কোনো সংশোধন চান না৷

উল্টে যাঁরা এ নিয়ে প্রশ্ন করেন তাঁদের ব্যতিব্যস্ত বা একঘরে করার চেষ্টা করেন, তাঁদের ‘নাক কেটে দেবো' বলে হুমকি দিতেও পিছ-পা হন না তাঁরা৷ ঠিক এমনটাই ঘটেছে ইসোবেলের ক্ষেত্রে৷

এমন একটা আইনে পরিবর্তন না এলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলায় অপরাধীকে সাজা দেয়া যে একরকম অসম্ভব – সে কথা আফগান সরকারকে বোঝাবে কে?

ডিজি/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন