1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

প্রশ্নপত্রে ‘একজন লোভী ডাক্তার’, ফেসবুকে প্রতিবাদ, বিতর্ক

এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নে একজন চিকিৎসককে লোভী হিসেবে উপস্থাপন করায় ক্ষুব্ধ ডাক্তার সমাজ৷ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনেকেই প্রশ্নকর্তার সমালোচনা করছেন৷ অবশ্য চিকিৎসকদের রাগের কারণ ধরতে পারছেন না এমন ব্যক্তিও আছেন৷

ঢাকা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের সৃজনশীলের ২ নম্বর প্রশ্নে বলা হয়, ‘‘জাহেদ সাহেব একজন লোভী ডাক্তার৷ অভাব ও দারিদ্র্য বিমোচন করতে গিয়ে তিনি সবসময় অর্থের পেছনে ছুটতেন৷ এক সময় গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পদ সব কিছুর মালিক হন৷ তবুও তার চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই৷ অর্থ উপাজনই তার একমাত্র নেশা৷ অন‌্যদিকে তাঁর বন্ধু সগীর সাহেব তাঁর ধন-সম্পদ থেকে বিভিন্ন সামাজিক জনকল‌্যাণমূলক কাজে ব‌্যয় করেন৷ তিনি মনে করেন, সুন্দরভাবে জীবনযাপনের জন‌্য বেশি সম্পদের প্রয়োজন নেই৷’’

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, বিএমএ এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে৷ বিবৃতিতে বিএমএ লিখেছে, ‘‘দেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে চিকিৎসা পেশার মতো মহান ও মহৎ একটি পেশা সম্পর্কে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা প্রদান করে দেশের সব থেকে মেধাবী ও মহৎ পেশায় নিয়োজিত চিকিৎসক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে৷’’ বৃহস্পতিবারের পরীক্ষার এই প্রশ্নপত্র প্রণয়নে জড়িতদের আগামী তিন দিনের মধ্যে খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান ও চিকিৎসকদের কাছে প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনায় বাধ্য করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি৷ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে৷

এদিকে, ফেসবুক ব্যবহারকারী চিকিৎসকরা বলছেন, ভালো-খারাপ সব পেশাতেই আছে৷ তাহলে প্রশ্নপত্রে কেন শুধু ডাক্তারদের নাম উল্লেখ করা হলো? মেডিক্যাল শিক্ষার্থী রাকিবুজ্জামান খান মনে করেন, দুটি কারণে মানুষ সবসময় ডাক্তারদের পেছনে লাগেন, তাদের সমালোচনা করেন, এক, তাঁরা ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন, পারেননি৷ দুই, তাঁদের ছেলেমেয়ে কেউ মেডিকেলে চান্স পায়নি৷

রংপুর মেডিকেল কলেজের খান মুহাম্মদ শিহাবের একটি লেখা ফেসবুকে শেয়ার করছেন অনেকে৷ শিহাব তাঁর লেখায় একজন ডাক্তারের দৈনন্দিন কষ্টের জীবনের বর্ণনা দিয়েছেন৷ কীভাবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জীবন-যৌবন সবকিছুর বিনিময়ে একজন ডাক্তার হন সেটি উল্লেখ করেন তিনি৷

প্রথম আলোর সাংবাদিক শরিফুল হাসান প্রশ্নপত্রে ডাক্তারদের এভাবে উপস্থাপন করায় কিছুটা আহত৷ ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘সব পেশায় ভালো-মন্দ লোক আছে৷... কিন্তু কোমলমতি শিশুদের প্রশ্নপত্রে যেভাবে বিষয়টা উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটা ঠিক হয়নি৷’’ তাঁর আশা, ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে৷ তবে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ চিকিৎসকদের উপর কেন ক্ষুব্ধ তা ডাক্তারদেরই খুঁজে বের করতে হবে৷

হাসানের এই স্ট্যাটাসের নীচে গোলাম ইস্তেজা চৌধুরী লিখেছেন, প্রশ্নটি করা হয়েছে একবচনে (অর্থাৎ একজন ডাক্তারের কথা বলা হয়েছে)৷ তাই পুরো ডাক্তারসমাজ কেন সমালোচনায় মুখর হচ্ছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘একবচনে করা প্রশ্নটা কী করে বহুবচন হয়ে গেল ঠিক মাথায় ধরেনি৷ প্রশ্নটা লোভী ডাক্তার না হয়ে লোভী কৃষক হতে পারতো, লোভী ব্যবসায়ী হতে পারতো, লোভী সরকারী কর্মকর্তা হতে পারতো, লোভী সাংবাদিক হতে পারতো৷ তখনও কি একই সমস্যা হতো নাকি? মানুষই তো লোভী হয়, আর মানুষই তো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হয়৷’’

ইস্তেজা চৌধুরীর মতো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে কাউসার আলমের স্ট্যাটাসেও৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘জাহেদ সাহেব একজন অসৎ ব্যাবসায়ী - এই টাইপের প্রশ্ন তো অহরহ হয়৷ কিন্তু কোনো ব্যবসায়ী কি কোনোদিন এর প্রতিবাদে কিছু বলেছে? বলে নাই, কারণ, জানে অসৎ ব্যবসায়ী অনেক আছে৷ তেমনি লোভী ডাক্তারও অনেক আছে৷’’

ক্যানাডাপ্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘... প্রশ্নটি পড়ে মানুষের মনে কতটা পরশ্রীকাতরতা, হীনমন্যতা থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এই ধরনের একটি বক্তব্য সম্বলিত প্যারাগ্রাফ দেওয়া যায়৷ বাংলাদেশে অন্য আর দশটা পেশার মতোই ডাক্তারদের নিয়েও সমালোচনা আছে৷ আমরা খোলামনে তাদের সমালোচনা করি, তিরষ্কার করি৷ কিন্তু পরীক্ষার খাতায় একটি পেশাকে হেয় করে এই ধরনের বক্তব্য জুড়ে দেওয়া মানা যায় না৷ এটি এক ধরনের ঘৃনা সৃষ্টির চেষ্টা- ‘হেট ক্রাইম’৷’’ তিনি মনে করেন, প্রশ্নপত্রটি যিনি তৈরি করেছেন আর যাঁরা এর অনুমোদন দিয়েছেন তাঁদের খুজেঁ বের করে শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন৷

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

প্রিয় পাঠক, এই বিষয়ে আপনাদের মতামত জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন