1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রমাকে আরো স্বনির্ভর করে তুলেছে জার্মানি

আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রশিক্ষণ জার্মানিতে দেওয়া হচ্ছে, তারই আওতায় ৩রা জানুয়ারি এ দেশে এসেছেন প্রমা পারমিতা৷ কাজ করছেন ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক'-এর সঙ্গে৷ ১২টা সপ্তাহ এখানে কাটিয়ে ৩০শে মার্চ বাংলাদেশে ফেরার কথা তাঁর৷

জার্মানির নর্থ রাইন ভেস্টফেলিয়া রাজ্যে যেসব উন্নয়ন সংস্থা রয়েছে, তাদের ‘আম্ব্রেলা সংগঠন' বা মাতৃসংস্থা হলো এই ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক'৷ তাই প্রমার কাছে আমাদের প্রথম প্রশ্ন, এই মুহূর্তে ঠিক কী ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত আপনি?

প্রমা পারমিতা: জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নানারকম কাজ করছে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক'৷ এর মধ্যে অন্যতম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া৷ আমি এ মুহূর্তে সেটাই করছি৷ বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সব বিপন্ন দেশ রয়েছে, সেই দেশগুলি সম্পর্কে, তাদের অবস্থা এবং সমস্যাগুলো সম্পর্কে প্রথমে পড়াশোনা করি আমি৷ তারপর তার থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের জন্য কিছু ‘পোস্ট' তৈরি করি৷ পরে সেগুলোকেই ওরা ওদের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পাতায় দেয়, যাতে মানুষ জানতে পারে অন্যান্য দেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কী কী করছে৷

ডয়চে ভেলে: এই বিপন্ন দেশগুলির তালিকায় নিশ্চয় বাংলাদেশ রয়েছে...?

প্রমা পারমিতা: হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই৷ বিপন্ন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম৷ বাংলাদেশের আগে রয়েছে ভানুয়াতু, টোঙ্গা, ফিলিপাইন্স এবং গুয়াতেমালা৷ আমরা মোটামুটি বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বিপন্ন প্রথম দশটি দেশকে ‘হাইলাইট' করছি৷

এছাড়াও কি কোনো প্রশিক্ষণ আপনাকে দেয়া হচ্ছে এখানে?

না, এখানে ঐ অর্থে কোনো প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না৷ এখানে একটা সংস্থায় কীভাবে কাজ হয় – শুধু সেটা আপনি দেখতে পারবেন, শিখতে পারবেন৷ এই ‘ফেলোশিপ'-এর জন্য আবেদন করার সময় আমার ইচ্ছে ছিল এটা জানা যে, একটা উন্নত দেশের ‘ডেভেলপমেন্ট সেক্টর' কেমনভাবে কাজ করে৷ বাংলাদেশে আমি একটা কনসালটেন্সি ফার্মে কাজ করি৷ আমি দেখেছি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে একরকমভাবে কাজ হয়, কিন্তু একটি উন্নত দেশ উন্নয়নখাতে কী ধরনের কাজ করে – সেটা জানার একটা আগ্রহ ছিল আমার৷ তারা কি শুধু দাতা দেশ হিসেবেই কাজ করে থাকে নাকি তাদের অন্য কোনো কাজ আছে? এখানে এসে দেখলাম, এদের মূল কাজ হলো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা – সেটা সামাজিক কোনো বিষয় হতে পারে অথবা অর্থনৈতিক কোনো ইস্যু৷

আপনি এই অভিজ্ঞতা থেকে কী নিয়ে ফিরবেন?

ওরা আগে শুধু এটুকু জানতো যে, জলবায়ু পরিবর্তনের একটা বিরাট প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশের ওপর৷ জানতো যে, এর ফলে বাংলাদেশ সমুদ্রে তলিয়েও যেতে পারে৷ কিন্তু বাংলাদেশেও যে এই প্রভাব মোকাবিলায় কাজ হচ্ছে, আমরাও যে সেখানে কিছু কাজ করছি, সে সম্পর্কে ওদের তেমন ধারণা ছিল না৷ তাই আমি বললাম যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী যে সব কাজ করছে, সেটা অন্যদের জানানো উচিত৷ এছাড়া জার্মানি নিজে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপন্ন না হলেও, নানারকম কাজ হচ্ছে এখানে৷ সেগুলো আমি বাংলাদেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা যাঁরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জানাতে পারবো৷ এই যেমন, ভানুয়াতু-তে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে একটি অ্যানিমেশন ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে, যাতে একটা টিয়াপাখি ঘুরে ঘুরে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে যা যা হচ্ছে, মানে জলবায়ু পরিবর্তনের খারাপ দিকগুলো মানুষকে জানায়৷ সত্যি, এরকম একটা টিয়াপাখি যদি বাংলাদেশের সমুদ্র তীরবর্তী মানুষদের জন্য সৃষ্টি করা যেত, যে সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষকে বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর দিকগুলো এবং কোনো বিপর্যয়ের আগে কী করা উচিত – সে সম্পর্কে বুঝিয়ে দিতে পারে!

সাধারণত মুসলিম দেশগুলো থেকে এই আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রশিক্ষণ নিতে ছেলে-মেয়েরা জার্মানিতে আসছে৷ আপনিই বললেন যে এটা হাতে-কলমে শিক্ষা নয়৷ অর্থাৎ এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে, জার্মানির মানুষদের সঙ্গে চেনা-পরিচয়, আলাপচারিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়৷ তা জার্মানি বা জার্মানদের সঙ্গে এ ক'দিনে আপনি কতটা সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন?

জার্মানিতে আসার আগে শুনেছিলাম বিদেশিদের ব্যাপারে জার্মানরা খানিকটা রক্ষণশীল৷ কিন্তু এখানে এসে আমার যাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, যেমন শুরুতে আমার ‘গাইড' ছিল বারবারা, সে আমার জন্য যতটুকু করা উচিত তার থেকে অনেক বেশি সাহায্য করেছে৷ এমনকি ও আমায় তাদের বাড়িও নিয়ে গেছে, যেটা ড্যুসেলডর্ফ শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে, একটা ছোট্ট গ্রামে৷ সেখানে ওর বাবা-মার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে৷ এমনকি আমার অফিসে যারা আছে – আমি ছাড়া এখানে সবাই জার্মান, ওরাও খুব ‘ফ্রেন্ডলি'৷ আমি যাতে বিভিন্ন জায়গা দেখতে পারি, বেড়াতে পারি, তার জন্য টিকিট কাটতে সাহায্য করে ওরা, অন্যান্য শহরে কী ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে, সে সব বিষয়ে আমাকে তথ্য, ইন্টারনেট লিংকও দেয়৷ এছাড়া আমার যিনি ‘সুপারভাইজার', মনিকা, তাঁর দারুণ ‘নেটওয়ার্ক'৷ তিনি আমায় কোলন, বন, স্টুটগার্ট, বার্লিন, এমনকি ব্রাসেলস-এও নানা ধরনের ওয়ার্কশপে পাঠিয়েছেন৷

এখানকার জীবনযাপনের সঙ্গে নিজেকে কতটা মানাতে পেরেছেন?

এখানে আমার বাড়ি ঠিক দিয়েছে ওরা, চলাফেরার জন্য ট্রেন-বাস-ট্রামের ‘মান্থলি'-ও কিনে দিয়েছে৷ এমনকি আমার কোনো অসুবিধা হলে ২৪ ঘণ্টার জন্য রয়েছে একজন ‘গাইড', তাঁকে ফোন করলেই মুশকিল আসান৷ ভাষাটা যদিও একটা সমস্যা, বিশেষ করে দোকান-পাট করার সময়৷ সাধারণত এখানে কেউ আগ বাড়িয়ে ইংলিশ বলে না৷ তবে জিজ্ঞাসা করলে বলে৷ আর জিনিস-পত্র দেখিয়ে, হাত-পা নেড়ে দিব্যি চলে যায়৷ তবে এর আগে পরিবার ছাড়া কখনও একা থাকিনি আমি৷ তাই তাদের ‘মিস' করি৷ অবশ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে বেশ নিয়মিতই যোগাযোগ আছে৷ তাছাড়া এখানে নিজের একটা ‘স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট' আছে৷ সবকিছুই সেখানে নিজে করতে হচ্ছে৷ এটা আমার জন্য নতুন, বিশেষ করে রান্নাটা আমি একেবারেই পারি না, তবে খুবই মজা লাগছে৷ একদিকে এখানে কারুর ওপর আমি নির্ভর করে নেই, এটা একটা ভালো দিক৷ আবার অন্য ভালো দিকটা হলো, এখানে স্বাধীনতাও আছে৷ আমরা যারা মুসলিম দেশে থাকি, তাদের জন্য এটা একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা তো বটেই৷

জার্মানির কোন জিনিসটা দেখে আপনার মনে হয়েছে, ‘আহা, এমনটা যদি বাংলাদেশে হতো'?

জার্মানির থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে৷ এখানে সবকিছু কেমন সময়মতো হচ্ছে, সব কেমন ‘সিস্টেম্যাটিক'৷ এই যেমন পরিবহণ ব্যবস্থা – বাস, ট্রাম সব সময়মতো আসছে, যানজট নেই৷ এমনকি আমি যখন লুক্সেমবুর্গে যাচ্ছিলাম, তখন আমার ট্রেনটা ‘মিস' হয়ে যায়৷ কিন্তু টিকিট কাউন্টারে যেতই ওরা টিকিট কেটে দিল, কোন ট্রেনটা নেব, সেটা কত নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসবে, কখন আসবে – সবকিছুর একটা চার্ট হাতে ধরিয়ে দিল, কোনো অসুবিধাই হয়নি৷ তাছাড়া যা বলছিলাম, এখানে আমার কারুর কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না৷ আমি নিজের সময়মতো বের হচ্ছি, নিজের মতো কাজ করছি৷ এরপর কাজ যখন শেষ হচ্ছে, তখন ফিরছি৷ নির্দিষ্ট সময়ে বাসায় ফেরার তাড়া না থাকায়, কোনোরকম পিছুটান ছাড়াই আমি পুরো মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারছি৷ নিজের ওপর ভরসা বাড়ছে৷ প্রথমদিকে ভয় লাগলেও, জানি যে এই ‘কনফিডেন্স', এই স্বনির্ভরতাটা দরকার, পরবর্তীতে কাজে লাগবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন