1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফর

ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ২৫ বছর পর ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলে গেলেন৷ সফরকালে প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাস ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি হবে৷

তিনদিনের ইসরায়েল সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু একান্ত বৈঠকে যেসব বিষয় উঠে আসবে, তার শীর্ষে আছে – প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাস, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা অবকাঠামো গড়ে তোলা৷  কূটনৈতিক সূত্রের খবরে বলা হয়, গত ১৮ বছর ধরে এইসব ক্ষেত্রে ভারত-ইসরায়েল সহযোগিতা চলে আসছে৷ কিন্তু তা নিয়ে কোনো হৈ চৈ ছিল না৷ ১৯৯৯ সালে ভারত-পাকিস্তান কার্গিল যুদ্ধের সময় থেকে যার সূত্রপাত৷ মুম্বই ও দিল্লিতে সংসদ ভবনের ওপর জঙ্গি হামলার তদন্তে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ভারতকে সাহায্য করেছিল৷ মোদীর চলতি সফরকালে দু'দেশের প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে কোনো ঢাক ঢাক গুড় গুড় নেই৷ কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, মোদীর ভেবেচিন্তেই এই কৌশলগত পথ বেছে নিয়েছেন৷ এই সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলা হয়, দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে৷

টুইটারে মোদী স্বয়ং মন্তব্য করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দু'দেশের পার্টনারশিপ এবং বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে৷

অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ভারতের মত দ্রুত বিকাশমুখি ১২৫ কোটি জনসংখ্যার দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক উচ্চাকাঙ্খামূলক সন্দেহ নেই৷ বিশ্বে সমরাস্ত্র আমদানিকারক দেশের মধ্যে ভারতের স্থান তৃতীয়৷ এর একটা বড় অংশের সরবরাহ করে ইসরায়েল৷ মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রতিরক্ষা ‘সিস্টেম' নিয়ে আলোচনা হবে৷ এছাড়া দু'দেশের আলোচনায় উঠে আসবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা কৃষি, সেচ প্রযুক্তি ইত্যাদি৷

প্রবাসী ভারতীয় ইহুদি অভিবাসীদের সামনে বক্তব্য রাখবেন মোদী৷ বর্তমানে ইসরায়েলে প্রায় ৮০ হাজারের মতো ভারতীয় ইহুদি থাকেন, যাঁদের ভারতে ফেরার সম্ভাবনা কম৷ এঁরা সেখানে গিয়েছিলেন ১৯৫০ ছেতে ৬০-এর দশকে৷ এখন মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার ইহুদি বর্তমানে ভারতে রয়ে গেছেন৷ ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ককে কিভাবে আরও মজবুত করা যায় এবং সে বিষয়ে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কিভাবে তাঁরা পালন করবেন, সেকথা তাঁদের মুখ থেকেই শুনতে চাইবেন মোদী৷

সফরকালে মোদীর প্রতিটি অনুষ্ঠানে কার্যত উপস্থিত থাকবেন নেতানিয়াহু, যাকে এক বিশেষ সম্মান বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা৷ সন্ত্রাস উভয় নেতার কাছে এক অভিন্ন চ্যালেঞ্জ৷ দু'দেশই সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত৷ তার মোকাবিলা নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হবে উভয় নেতার মধ্যে৷ তাঁরা মনে করেন, কিছু ধর্মান্ধ ব্যক্তি ধর্মের নামে যুবকদের বিপথে চালিত করছেন৷মোদীর ইসরায়েল সফরকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না৷ বিচার করতে হবে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে৷ বিজেপি জোট সরকার মধ্যপ্রাচ্যে আরব এবং অ-আরব দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করছেন, ডয়চে ভেলেকে বললেন দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ইসরায়েল বিশেষজ্ঞ পি. আর. কুমারস্বামী৷ পাশাপাশি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাজদি এল-খালদীর মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের যত গভীর সম্পর্কই থাকুক না কেন, সেটা ফিলিস্তিনি স্বার্থের বিনিময়ে কখনই নয়৷ যদিও এবারের সফরে মোদী প্যালেস্টাইনের রামাল্লায় যাচ্ছেন না৷ অতীতে সব ভারতীয় নেতারা ইসরায়েল সফরে রামাল্লা গিয়েছিলেন৷ পাকিস্তানের তরফে অবশ্য মোদীর ইসরায়েল সফরকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে৷ চীন ও পাকিস্তানকে চাপে রাখতে নাকি প্রতিরক্ষার নামে সমরসজ্জায় উঠে পড়ে লেগেছে নতুন দিল্লি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়