1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে৷ বুধবার জাতীয় সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আবার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আসলে নির্বাচনই হবে না৷’’

এ মন্তব্যের কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে সবারই অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ বিরোধী দলীয় নেত্রীর দুই ছেলেকে উত্তমমধ্যম দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে৷ বিরোধী দলীয় নেত্রীকেও বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে৷ তাই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু থেকে ফিরে আসতে বিরোধী দলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি৷

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফেরদৌস হোসাইন ডয়চে ভেলেকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাংলাদেশে কোনো নতুন বিষয় নয়৷ এর আগে একাধিকবার তত্ত্বাবধায়ক সরকরের অধিনে জতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে৷ যে নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে৷ আগে সংবিধানে এই পদ্ধতি ছিল৷ পঞ্চদশ সংশোধীতে সেটা তুলে দেয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, সংশোধনীতে তুলে দেয়া মানে এই নয় যে, আর ফিরে আসতে পারবে না৷ নতুন করে সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূনবহাল করলেই এই মুহূর্তে সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি৷

Bangladesch Parlament Gebäude in Dhaka

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আবার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আসলে নির্বাচনই হবে না৷’’

অধ্যাপক ফেরদৌস হোসাইন বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হলে সাধারণ মানুষ সরকারি দলকেই দায়ী করে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ফিরে এলে নির্বাচনই হবে না – প্রধানমন্ত্রীর এমন আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটা নতুন এক বিতর্কই শুধু তৈরি করবে৷ এতে সমস্যার কোনো সমাধান হবে না৷ তাই প্রধান দুই দলকে নিজেদের অবস্থানে গো ধরে বসে না থেকে সংকট উত্তরণে সমঝোতায় আসার আহবান জানান এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী৷

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘‘নির্বাচন দেয়া হবে না – এই কথা বলে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল৷'' তিনি বলেন, ‘‘সংবিধান যেভাবে সংশোধন করেছেন সেভাবেই তারা কথা বলছেন৷ সংবিধান সংশোধন করে লেখা হয়েছে, নির্বাচন না হলেও তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন৷ এটা কি রাষ্ট্রদ্রোহের সামিল না?''

তাঁর কথায়, ‘‘সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে৷'' সরকার পক্ষের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘দেশের মানুষকে এত বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই৷ আপনারা ভাবছেন বিরোধীদলকে কোনো মতে নির্বাচনে নিয়ে আসবেন৷ এই চিন্তা কখনও করবেন না৷ এটা অলীক চিন্তা৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিরোধীদল কোনো নির্বাচনে যাবে না৷'' নেতাকর্মীদের সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি আদায়ের আহ্বান জানান তিনি৷

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এককালে তাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু ছিল সুশীল সমাজ৷ সেই সুশীল সমাজকেও কটুক্তি করতে তারা দ্বিধা করছে না৷ আসলে তারা একেবারে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে৷ সত্য কথা লেখা সত্যিকার চিত্র তুলে ধরা তারা কখনও সহ্য করতে পারে না৷''

এদিকে বুধবারও সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে আর নড়ানো যাবে না৷ তারা নির্বাচন দেবে না৷ তিনি বলেন, মাইনাস টু ফর্মুলা যারা করেছিলেন, তারা এখনো আছেন৷ তারা তত্‍পর৷ তারা সুযোগের অপেক্ষায় বসে আছেন৷ ১/১১-এর সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার জন্য তাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল৷ তিনি বলেন, সে সময় তিনিই শুধু প্রতিবাদ করেছিলেন৷ বিরোধী দলের নেত্রী করেননি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়