1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কিছুই নিলেন না রমা চৌধুরী

দু’জনই সব হারিয়েছেন৷ একজন একাত্তরে, আরেকজন পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্টে৷ বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তাদের দেখা হয়েছে শনিবার, গণভবনে৷ তারা দু’জনে একান্তে কথা বলেছেন৷ ভাগ করে নিয়েছেন বেদনার গল্প৷

রমা চৌধুরী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সব হারিয়েছেন৷ পাকিস্তানি হায়েনারা একাত্তরে তাঁর সন্তান, ভিটেমাটি, সম্ভ্রম সব কেড়ে নিয়েছে৷ আর তখন তিনি ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক৷ চট্টগ্রামের প্রথম নারী এমএ রমা চৌধুরী ১৯৬২ সাল থেকে ১৬ বছর শিক্ষকতা করেছেন৷ আর গত ২০ বছর ধরে লেখালেখি করে কাটিয়েছেন৷

কিন্তু একাত্তরে সব হারানো এই নারী যেন পথকেই তার ঠিকানা করে নিয়েছেন৷ চট্টগ্রামের রাস্তায় বই ফেরি করে তার জীবন চলে৷ মুক্তিযুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘‘একাত্তরের জননী৷''

Title: Roma shares wartime experiences with Hasina Description Birangana (war heroine) Roma Chowdhury of Chittagong has narrated her experiences and various incidents of the Liberation War of Bangladesh to Prime Minister Sheikh Hasina in an emotion-choked voice. She expressed her heartfelt blessings to the premier as she called on the PM at her official residence Gono Bhaban in Dhaka Saturday morning. Keywords: Roma Chowdhury, Sheikh Hasina, Bangladesh, Declaration: DW correspondent Harun Ur Rashid Swapan sent these photos to DW. Zulieferer: Arafatul Islam

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজের লেখা বই উপহার দিচ্ছেন রমা চৌধুরী

রমা চৌধুরীর এই দুঃসহ জীবন এবং সংগ্রামের কথা সংবাদ মাধ্যম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়৷ আর তা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার৷ আর তিনি দায়িত্ব দেন তাঁর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিলকে৷ তাদের দু'জনের যোগাযোগ হয়৷ রমা চৌধুরী শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে দেখা করেন৷ তিনি দেখা করতে আসেন খালি পায়ে৷ ২ সন্তানকে হারানোর পর থেকে রমা চৌধুরী আর পায়ে জুতা বা স্যান্ডেল পড়েন না৷ চলাফেরা করেন নগ্ন পায়ে, জানান মাহবুবুল হক শাকিল৷

শাকিল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী রমা চৌধুরীর সঙ্গে একান্তে আধাঘণ্টা কথা বলেন৷ তারা একান্তে কথা বলার সময় তাদের জীবনের সংগ্রাম আর কষ্টের কথা বলেছেন৷ এসময় রমা তাঁর লেখা বই ‘‘একাত্তরের জননী’’ প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন৷ প্রধানমন্ত্রী রমা চৌধুরীর আত্মসম্মান দেখে মুগ্ধ হয়েছেন৷ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোন সহায়তা চাননি৷''

তবে রমা নিজে অনাথ আশ্রম গড়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন, জানান শাকিল৷ আর সেই স্বপ্ন তিনি পুরণ করতে চান ফেরি করে বই বিক্রির টাকায়৷ প্রধানমন্ত্রী রমা চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরে বলেন সব হারানোর কষ্ট তিনি বোঝেন৷

রমা চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তাঁর নিজের কোন চাওয়া পাওয়া নেই৷ সবাই মিলে যদি দেশটাকে গড়া যায় তাহলে তিনি খুশী হবেন৷ বিলাসিতা-উপভোগ বাদ দিয়ে সবাই মিলে দেশটাকে গড়ার কথা বলেন তিনি৷

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর রমা চৌধুরী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান৷ সেখান থেকেই তিনি চট্টগ্রামের পথে রওয়ানা হন৷ এখন পর্যন্ত রমার ১২টি বই প্রকাশ পেয়েছে৷ আর এই বই তিনি ফেরি করে বিক্রি করেন৷ নগ্ন পায়ে হেঁটে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন