1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা না চাইলে ডিম হামলা চলবেই'

ছাত্রলীগ নেতার কথায়, ‘‘সন্ত্রাসী হামলা নয়, ইমরানের ওপর ডিম ছোড়া হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা না চাইলে এই ডিম হামলা চলবে৷'' ওদিকে ‘‘আদালতেও নিরাপত্তা নেই'' বলে দাবি করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার৷

সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানো নিয়ে গত ২৮ শে জুন ঢাকার শাহবাগে মশাল মিছিল এবং প্রতিবাদ র‌্যালি করে গণজাগরণ মঞ্চ৷ ঐ র‌্যালি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হয়েছে – এই অভিযোগে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ দু'জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী৷ গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার সেই মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নেন রবিবার৷ কিন্তু আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার পরপই হামলার মুখে পড়েন তিনি৷

ইমরান ডয়চে ভেলের কাছে অভিযোগ করেন, ‘‘আমি গাড়িতে ওঠার সময় আমার ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়৷  মামলার বাদী ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে হামলা করে৷ এরপর আমাদের কর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে আদালতের ভিতরে নিয়ে রাখে৷ সেখানেও মারামারি হয়৷ এমনকি আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহতও হয়৷''

অডিও শুনুন 04:42

‘রাজপথের প্রতিবাদকেও তারা হামলা-মামলা দিয়ে দমন করতে চায়’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘‘এর আগেও আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল৷ আমার বিরুদ্ধে মামলা করার পর তারা সমাবেশে বলেছিল, আমাকে যেখানেই পাওয়া যাবে হত্যা করা হবে, কুকুরের মতো জবাই করা হবে৷ তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেোয়া হয়নি৷ তার মানে রাজপথের প্রতিবাদকেও তারা হামলা-মামলা দিয়ে দমন করতে চায়৷ আদালত এলকায়ও আমাদের ওপর হামলা হলো৷ এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা তো নেই-ই, নাগরিক সুরক্ষাও নেই৷ উপরন্তু মানুষের যাওয়ার জায়গা আদালতেও নিরাপত্তা নেই৷ সেখানেও তারা মানুষের ওপর হামলা করছে৷''

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘‘আমি আদালত থেকে বের হওয়ার পর তারা আমার ওপর বোমা হামলারও পরিকল্পনা করেছিল৷ এটা তাদের কথায়ই প্রকাশ পেয়েছে৷''

অন্যদিকে ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী  ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘ইমরান নাটক করছে৷ তার ওপর কোনো হামলা হয়নি৷ আমাদের ছাত্রলীগের কর্মীরা আদালতের গেটের বাইরে যখন প্রতিবাদ করছিল, তখন তাদের ওপর হামলা হয়৷ পুলিশ এবং ওরা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করে৷ হামলা করার পর ইমরানের গাড়িতে কয়েকটি ডিম মারা হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করার পর মাস দুয়েক আগে আমরা মামলা করি৷ মামলার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতারা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইমরান মাফ না চাইলে তার ওপর ডিম ছোড়া হবে৷ ঐ ঘেষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটতে পারে৷''

অডিও শুনুন 03:25

‘ডিম ছোড়া ছাড়া কোনো হামলার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘‘আমি নিজেও সেখানে ছিলাম৷ ডিম ছোড়া ছাড়া কোনো হামলার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না৷ তবে আমি নিজে ডিম ছুড়িনি৷''

মামলার অভিযোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে মূর্তি সরানোর বিষয়টি ছিল আদালতের বিষয়৷ এটা প্রধানমমন্ত্রীর কোনো বিষয় ছিল না৷ তারপরও ঐ দিন প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে বলা হয় – ‘ছি ছি হাসিনা লজ্জায় বাঁচিনা, মুক্তিযুদ্ধ হারেনি হেরেছে হাসিনা, বাংলাদেশ হারেনি হেরেছে হাসিনা৷'

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ইমরান যতদিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা না চাইবে, ততদিন তাকে যেখানেই দেখা যাবে সেখানেই তাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া অব্যাহত থাকবে৷ এছাড়া তার ওপর কোনো ধরনের হামলা হবে না৷ একটি ইটও ছোড়া হবে না৷ তাকে ডিম হামলা চালিয়ে অপমান করা হবে যতদিন সে না ক্ষমা চায়৷ বাংলাদেশে ছাত্রলীগের ৪০ লাখ নেতা-কর্মী এটা করবেন৷ এটাই আমাদের প্রতিবাদ৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও