1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রথম বিদেশ যাত্রায় মোদী ভুটানকে বেছে নিলেন কেন?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবার পর প্রথম বিদেশ যাত্রায় ভুটানে পা রাখলেন নরেন্দ্র মোদী৷ দুদিনের সফরে ভারত-ভুটান নিবিড় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তিনি৷ বুঝিয়ে দেন পররাষ্ট্র নীতিতে হিমালয়-দেশ ভুটানের স্থান প্রথম সারিতে৷

default

ভুটানের রাজা রানির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী

গত ১৩ বছরে এই প্রথম ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী হিমালয়ের কোল ঘেঁষা ভুটানে গেলেন সরকারি সফরে৷ মোদী সরকারের পররাষ্ট্র নীতির প্রথম কথা প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরো মজবুত ভিত্তিতে দাঁড় করানো৷ সেটা বোঝা গিয়েছিল গত মাসে নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্ক দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি৷

সাবেক মনমোহন সিং সরকারের আমলে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল৷ দূরত্ব বাড়ছিল বিশেষ করে পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে৷ সেই দূরত্বকে কাজে লাগিয়ে চীন ক্রমশই তার ‘‘সম্প্রসারণবাদের'' পাখা বিস্তার করে চলেছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর৷

Bhutan - Indiens Premierminister Narendra Modi zu Besuch

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের সঙ্গে মোদী

পরোক্ষে ভারতকে কূটনৈতিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন করা৷ ভুটানের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে ভুটানকে সে বিষয়ে সতর্ক করে দিতে ভারত-ভুটান দীর্ঘ বহুমাত্রিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মোদী চলতি সফরের আলোচনায়৷

উল্লেখ্য, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে আর্থিক ও বিনিয়োগ সহযোগিতা লাগাতার বাড়িয়ে চলেছে চীন৷ চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে চীনের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ভারতের চেয়ে অনেক বেশি৷ আর্থিক মন্দাহেতু ভারত সেদিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ে৷ নির্মাণ করে চলেছে সামরিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো৷ যেমন পাকিস্তানের গদর ও শ্রীলঙ্কার হামবানটোটা সমুদ্র বন্দর৷ মিয়ানমারেও গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হচ্ছে চীনের সহযোগিতায়৷ ভারত মহাসাগরীয় মালদ্বীপে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য বেছে নিয়েছে চীন৷ বাংলাদেশের চট্টগ্রামে কন্টেনার সার্ভিস গড়ে তুলতে আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে চীন৷

ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জাতিসত্তার দিক থেকে ভারত-নেপাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা থাকলেও ইদানীং নেপাল ক্রমশই যেন চীন ঘেঁষা হয়ে উঠছে৷

তাই মোদীর ভুটান সফরের প্রাথমিক লক্ষ্য দুটি৷ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা তথা কৌশলগত সহযোগিতা৷ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে এবং ভুটানের রাজা জিগমে নামগিয়াল ওয়াংচুকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়৷ জলবিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিমেন্টসহ ১৬টি প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে ভারত৷ চলতি সফরে মোদী একগুচ্ছ আর্থিক সহযোগিতার কথা ঘোষণা করেছেন৷ ভারত থেকে গুঁড়ো দুধ, গম, ভোজ্য তেল, ডাল এ অ-বাসমতী চাল রপ্তানিতে পরিমাণগত নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবেনা৷ দু'দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য নিয়েও মত বিনিময় হয়৷ একাদশ যোজনায় ৪,৫০০ কোটি টাকার প্যাকেজ দেয়া হবে ভুটানকে৷ গুরুত্ব দেয়া হবে কৃষি পরিকাঠামো এবং পর্যটন শিল্পকে৷ ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার খিলোংচু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি৷ এতে ভুটানের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি ভারত পাবে কম দামে বিদ্যুৎ৷ সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে কেএলও এবং আলফাহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ভারত-বিরোধী নাশকতামূলক কার্যকলাপ দমনে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে ভারত৷ ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের কথায়, ‘‘ভারত-ভুটান সম্পর্ক অনন্য ও বিশেষ৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়