1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির সময় কেন পরীক্ষা দিতে হবে?

আমি বাংলাদেশের একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র৷ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমি৷ একজন ছাত্র হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নানান সময় নানান কথা মাথায় ঘুরেছে আমার৷ জেগেছে বহু প্রশ্ন৷

স্কুলগুলোর লেখাপড়ার মান নিয়ে যখনই ভাবি, তখনই মাথায় আসে কোচিংয়ের কথা৷ আমার মনে হয়, স্কুলে পড়ার পর আবার কোচিংয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে কেন? তার মানে, স্কুলে পড়ানোর পরেও অভাব রয়ে যাচ্ছে৷ এ অভাবটা যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ আমি চাই, এমন একদিন আসবে যখন কাউকে কোচিংয়ে দৌড়াতে হবে না৷ স্কুলগুলোতে প্রতি পাঠের পর কোনো শিক্ষার্থীর সমস্যা থাকলে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত৷ সিলেবাস শেষ করার তাড়া থাকে কিংবা কখনো শিক্ষকরা বাধ্য করেন কোচিং করতে৷ এ সংস্কৃতি দূর করতে হলে স্কুলে পড়ালেখার মান আরো বাড়াতে হবে৷

বর্তমানে ইট-পাথরের এ শহরের স্কুলগুলো অনেক যান্ত্রিক৷ আগের দিনের স্কুলের মতো নেই খোলা মাঠ৷ শুধু তাই নয়, এখন কোনটি ভালো স্কুল তা শুধু পরীক্ষার ফলের ওপরেই যেন ঠিক করি আমরা৷ স্কুলগুলো হয়ে উঠেছে পাখির খোপের মতো৷ পড়ালেখার পরিবেশের পাশাপাশি স্কুলগুলোতে চাই সহশিক্ষা কার্যক্রম৷ পূর্ণাঙ্গ মানসিক বিকাশে খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থাকা উচিত স্কুলগুলোতে৷

শিক্ষার উদ্দেশ্য তো শুধু বইয়ের পড়া গেলানো নয়! অন্যান্য গুণাবলীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্যও কার্যক্রম দরকার৷

শিক্ষকদের পড়ানোর পদ্ধতিতেও চাই পরিবর্তন৷ অনেক পরীক্ষায় শিক্ষকরা গাইড থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেন৷ এ কারণে শিক্ষার্থীরাও হয়ে যাচ্ছে গাইডনির্ভর৷ তাই শিক্ষকদের উচিত মৌলিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ করা৷ পাঠদানের বিষয়টিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা উচিত৷ বিভিন্ন স্কুলে প্রজেক্টরের সাহায্যে পাঠদান করা হলেও আমার স্কুলে এখনো তা চালু হয়নি৷ পাশাপাশি পাঠের বিষয়বস্তু ব্যবহারিকভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা উচিত৷ কিন্তু স্কুলগুলোতে ব্যবহারিক পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অপ্রতুলতা রয়েছে৷

পাশাপাশি শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এক প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিচ্ছেন৷ আমরা যতটুকু না শিক্ষার্থী, তার চেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী৷ শিক্ষকদের উচিত, শিক্ষার্থীদের মন থেকে এ পরীক্ষাভীতি দূর করা৷ বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণইতে সমাপনী পরীক্ষার কারণে ছোট্ট শিশুগুলোর কাঁধে থাকে পাহাড়সম চাপ৷ যে চাপ সামলাতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হয় তারা৷ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে স্কুলে হরেক রকমের পরীক্ষা দেয়৷ বাসার স্যারের কাছে পরীক্ষা দেয়৷ কোচিংয়ে পরীক্ষা দেয়৷ একটুখানিও অবসর মেলে না এ ছোট্ট শিশুদের৷

আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তখন দেখেছিলাম প্রশ্ন ফাঁসের হিড়িক৷ অষ্টম শ্রেণির জেএসসি আর এবারের এসএসসিতেও দেখলাম৷ এ প্রশ্নফাঁস আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ডকে ভেঙে দিচ্ছে৷ প্রশ্নফাঁস বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপও দেখিনি৷ বিষয়টা সাংবাদিকদের প্রশ্ন আর তার জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর তদন্তের আশ্বাসেই আটকে আছে৷

আজমল তানজীম সাকির, শিক্ষার্থী

আজমল তানজীম সাকির, শিক্ষার্থী

এছাড়া শিশুদের যখন শিক্ষার হাতেখড়ি হয়, তখন পরীক্ষার প্রয়োজন আমি দেখি না৷ প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির সময় কেন পরীক্ষা দিতে হবে? এটা কি তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সময়? এ সময়টা শিশুরা মাত্র পড়াশোনা শুরু করে৷ সংখ্যা গণনা কিংবা বর্ণ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে তাদের পড়ালেখা৷ এত ছোট্ট বয়সে এ জ্ঞান নিয়ে তারা কী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে? কী যোগ্যতা প্রমাণ করবে?  

বেশ কয়েক বছর ধরে বছরের প্রথম দিনই বই হাতে পাওয়ার আনন্দ পায় আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা৷ কিন্তু এবারের পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো৷ কিছু কবিতার শব্দবিন্যাস ঠিক ছিল না৷ পাঠ্যবই বছরের প্রথম দিন হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বইয়ে যেন ভুল না থাকে সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে৷

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যবই তিনটি৷ কিন্তু কিন্ডারগার্টেনগুলোতে দেখছি এগুলোর সাথে আরো অনেক বই পড়ানো হয়৷ এত অল্প বয়সেই বইয়ের ভারে শিশু কুঁজো হয়ে গেলে তার মনে পড়ালেখা নিয়ে ভয় জন্মাবে৷ আমি মনে করি, পাঠ্যবই ছাড়া অন্য কিছু পড়ানো ঠিক হবে না৷ এ সময়টাতে তাদের পড়ালেখা হতে হবে মজার ছলে৷  

প্রতিটি স্কুলে একটি পাঠাগার থাকা উচিত৷ প্রমথ চৌধুরী তার ‘বই পড়া' প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা৷ স্বেচ্ছায় জ্ঞান অর্জনের জন্য পাঠাগারের চেয়ে সেরা জায়গা আর নেই৷ অথচ অনেক স্কুলে পাঠাগার দেখা যায় না৷ পাঠাগারের সংস্কৃতি চালু হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি৷

এই লেখাটি লিখেছেন ঢাকার ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র আজমল তানজীম সাকির (১৩)

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়