1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রথম দিন থেকেই মোদী সরকারের বাজেট অধিবেশন উত্তাল

৭ই জুলাই থেকে শুরু হয় মোদী সরকারের ৪২ দিনের প্রথম বাজেট অধিবেশন৷ দ্রব্যমূল্য ইস্যুতে প্রথম দিন থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ৷ বিরোধীদের ক্রমাগত বাধায় অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা হয় সংসদের নিম্নকক্ষ সভার স্পিকারকে৷

Narendra Modi Indien besucht Kaschmir

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

নতুন মোদী সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনে প্রথম দিন থেকেই উভয়কক্ষ উত্তাল হয়ে ওঠে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইস্যু নিয়ে৷ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যেমন কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, আম আদমী পার্টি এবং বামদল, একযোগে আগ্রাসী ভূমিকা নেয়৷ স্লোগান দেয়, স্পিকারের মঞ্চের সামনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ জানাতে থাকে৷ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী বীরাপ্পা মইলির অভিযোগ মোদী সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল জনমত নিয়ে সরকার গঠন করে সেই প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে৷ বারংবার বাধা দিতে থাকায় অধিবেশন সারাদিনের মতো মুলতুবি ঘোষণা করেন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন৷

উল্লেখ্য, সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিজেপি-জোট সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা থাকলেও উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় নেই৷ বিল পাশ করাতে তাই সরকারকে বেগ পেতে হবে৷ রাজ্যসভার অনুমোদনে পথ আটকাতে পারে কংগ্রেস ও অন্য বিরোধীদল৷ সেই বাধা অতিক্রম করা হবে মোদী সরকারের পক্ষে এক চ্যালেঞ্জ৷ তবে জয়ললিতার এআইএডিএমকে দলকে পাশে টানতে পারে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে৷ মহিলাদের সম্পর্কে তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের কুৎসিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বাম মহিলা সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকেরা৷

৮ই জুলাই রেল বাজেটের পর ৯ই জুলাই প্রকাশিত হবে দেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা এবং ১০ই জুলাই সাধারণ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷ সাধারণ বাজেটে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকার কী কী ব্যবস্থা নিতে পারে, তাই নিয়ে চলছে কর্পোরেট মহলে জল্পনা৷ অর্থনীতিকদের মতে, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হবে লাগাম ছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির রাশ টানা৷ সেটা করার উপায় কী? রাজকোষ ঘাটতি কমানো, বেহাল অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ তথা আর্থিক সংস্কার, ভরতুকির ছাঁটাই করা কিংবা ঢেলে সাজানো ইত্যাদি৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভরতুকি ছাঁটাই করা খুব সহজ হবে না, বিশেষ করে খাদ্যা ও সারে৷ ভরতুকি ছাঁটাই করলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরো বাড়বে৷ কাজেই ভরতুকি হ্রাস ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বিপ্রতীপ জায়গায় রয়েছে৷ ইতিধ্যেই জ্বালানির দাম এক প্রস্ত বাড়ানো হয়েছে৷ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এবং ইরাকে অস্থিরতার দরণ আন্তর্জাতিক পেট্রোপণ্য আমদানিতে সমস্যা৷ বৃষ্টির ঘাটতি পূরণে চাষীদের সেচের জন্য বেশি করে পাম্প চালাতে হবে৷ জ্বালানি খরচ বাড়বে চাষীদের৷ তাই অর্থমন্ত্রী যেটা করতে পারেন, তা হলো, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের পথ সহজ ও সুগম করা৷

অন্যদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর সি. রঙ্গরাজন কমিটির রিপোর্টে দারিদ্র্যের যে পরিবর্তিত সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তা অনুসারে ভারতে প্রতি ১০ জনের মধ্যে তিনজন গরিব৷ এই সংজ্ঞা অনুসারে শহরাঞ্চলে যে সব পরিবার দৈনিক গড়ে ৪৭ টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ৩২ টাকা ব্যয় করে থাকে, তাঁরা গরিবদের পর্যায়ে পড়ে৷ সেই হিসেবে ভারতে ১২০ কোটি মানুষের মধ্যে গরিবের সংখ্যা ৩৬ কোটি ৩০ লাখ, এর মধ্যে ১০ কোটি শহরাঞ্চলে৷ সংসদের বর্তমান বাজেট অধিবেশনে এই রিপোর্ট নিয়ে ব্যপক বিতর্ক হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়