1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

প্রতিহিংসার রাজনীতি কি বন্ধ হবে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা একটি সাধারণ বিষয়৷ ক্ষমতাসীন আর ক্ষমতা হারানোদের মধ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে বছরের পর বছর৷ এই রাজনীতির শিকার হন শীর্ষ নেতা থেকে তৃণমূলের কর্মীরা৷ প্রতিহিংসার প্রধান হাতিয়ার মামলা৷

বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে৷ গ্রেপ্তার, হামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা৷ এমনকি এখনকার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মামলা হয় তখন৷ এখন আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায়৷ এই সময়ে বিএনপির শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, হচ্ছে৷

বিএনপি শাসনামলে এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা হয়৷ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হয় মামলাগুলো প্রত্যাহার, নয়তো খারিজ হয়ে গেছে৷ এসময় রাজনৈতিক মামলা বিবেচনায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওই সময় দায়ের করা কয়েক হাজার মামলা প্রত্যাহার হয়৷ ২০০৯-১৩ মেয়াদে আওয়ামী লীগের মহাজোট সরকারের আমলে ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বিবেচনায় ৭ হাজার ১৯৮টি মামলা সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা করা হয়৷ এই আমলেও তা অব্যাহত আছে৷

তবে ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারও একই কায়দায় ৫ হাজার ৮৮৮টি মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং ৯৪৫টি মামলা থেকে কিছু আসামিকে অব্যাহতি দেয়৷ ওই সময় মোট ৭৩ হাজার ৫৪১ জন আসামি এই প্রক্রিয়ায় বিচার এড়াতে সক্ষম হন৷

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতি, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানিসহ মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে৷ এরমধ্যে দুর্নীতির মামলা পাঁচটি৷ এই পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে৷ বাকি মামলা দায়ের হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে৷ দুর্নীতির মামলাগুলোর বিচার চলছে৷

বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে চতুর্থ দিনের বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘প্রতিহিংসার বিপরীতে সংযম ও সহিষ্ণুতার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা আমরা বারবার করে এসেছি৷ কিছুদিন আগেও আমি সংবাদ সম্মেলনে অতীতের তিক্ততার কথা তুলে ধরেছি৷ আমার ও শহিদ জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ক্রমাগত অশোভন উক্তি, প্রতিহিংসামূলক বৈরি আচরণ সত্ত্বেও আমি ক্ষমা করে দিয়েছি৷ আমি তার প্রতি কোনও প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবো না৷’’

খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তাঁর উপদেষ্টা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ গত ৯ বছরে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়েছে৷ নেতা-কর্মীরা, হত্যা, গুম এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন৷’’

অডিও শুনুন 02:38

গত ৯ বছরে এই সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৩৮ হাজার মামলা করেছে: আযম খান

 তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন আওয়ামী লীগ যদি বিরোধী দলে যায় এবং আমাদের অত্যাচার, নির্যাতন ফিরে আসে তাহলে পরিস্থিতি কী হবে? আর সেকারণেই খালেদা জিয়া ক্ষমা করে দেয়ার কথা বলেছেন৷ আমাদের নির্যাতন, নিপীড়নের প্রতিবাদে আমরা কোনো প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি করবনা৷’’

তিনি দাবি করেন, ‘‘গত ৯ বছরে এই সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৩৮ হাজার মামলা করেছে৷ আর এইসব মামলায় বিএনপির অন্তত ১০ লাখ নেতা-কর্মী নির্যাতিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন৷ এক হাজারের বেশি নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন৷ বিএনপি'র  সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করে ডান্ডাবেড়ি পড়ানো হয়েছে৷ এরকম বহু লোমহর্ষক নির্যাতনের প্রমাণ সরকারের কাছে আছে, আমাদের কাছেও আছে৷’’

এর জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না৷ তাই কারুর ক্ষমা করে দেয়ার প্রশ্ন ওঠেনা৷ বরং বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে৷ বিএনপি প্রতিহিংসা দিয়েই রাজনীতি শুরু করেছে৷ তাই খালেদা জিয়ার কথা হাস্যকর৷’’

অডিও শুনুন 04:35

খালেদার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে: হানিফ

তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির শাসনামলে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে৷ তাদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসানুল্লাহ মাস্টার, নাটোরের সাবেক এমপি মমতাজ আহমেদ, খুলনার মেয়র প্রার্থী মঞ্জুরুল ইমামের মত সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করানো হয়েছে৷ ওনার (খালেদা জিয়া) সরকারের তত্ত্বাবধানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়৷ সেই হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন৷ এখনো ৮০ জন নেতা-কর্মী স্প্রিন্টারের আঘাত নিয়ে এখন পঙ্গু জীবন যাপন করছেন৷ আর এই হামলার পর আমাদের মামলা করতে দেয়া হয়নি৷ তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন বলেই ১৫ আগস্ট তাঁর জন্মদিন না হওয়ার পরও ওইদিন জন্মদিন পালন করেন৷’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ দাবি করেন, ‘‘এই সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি৷ তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে৷ উনি আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আরও খুশি হব৷’’

অডিও শুনুন 01:42

প্রধান দুটি দলের মধ্যে আস্থা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে: শামসুর রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার রাজনীতি একটি বড় সংকট৷ এটি দূর করা সুস্থ রাজনীতির পূর্বশর্ত৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রধান দু'টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আস্থা এবং শ্রদ্ধার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে৷ আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই দুটি দলের ভূমিকাই প্রধানভাবে দেখেছি৷ তাই তাদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে৷’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘মামলা ও বিচারের বিষয়টি আইনের হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত৷ প্রশাসন এবং বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন হয় তাহলে প্রকৃত অপরাধী ও দুর্নীতিবাজরা শাস্তি পাবে৷ যদি রাজনৈতিক কারণে মামলা দায়ের ও তা প্রত্যাহার করা হয় তাহলে তার সুযোগ নেয় প্রকৃত দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীরা৷ তারা এই সুযোগে ছাড়া পেয়ে যায়৷’’

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়