প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে জামায়াতের বিচার | বিশ্ব | DW | 17.07.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে জামায়াতের বিচার

যুদ্ধাপরাধের দায়ে শীর্ষ নেতাদের অনেকেরই ফাঁসি কার্যকর হয়েছে৷ কিন্তু সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত আছে ৩ বছর ধরে৷ সরকারের রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টাই এই উদাসীনতার কারণ বলে মনে করছেন অনেকে৷

এরই মধ্যে ছয় যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে৷ রায় কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত আব্দুল কাদের মোল্লা, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী এবং মীর কাসেম আলী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা৷

ফাঁসি কার্যকর হওয়া অপর যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা৷

এই মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে বাংলাদেশজুড়ে৷ কিন্তু সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামের বিচার৷ একে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস সরকারের নানা তরফ থেকেও এসেছে বারবার৷

তিন বছর আগেই জামায়াতের বিচারের সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে রেখেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন৷ তাহলে তিন বছরেও এই মামলার বিচার কাজ শুরু হচ্ছে না কেন?

জামায়াতে ইসলামীর বিচার মামলায় প্রসিকিউশনের নেতৃত্বে আছেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, বল এখন সরকারের কোর্টে৷ ‘‘তদন্ত সংস্থা তদন্ত শেষ করে ২০১৪ সালের ২৭শে মার্চ প্রসিকিউটর অফিসে জমা দেয়৷ তারপর আমাদের কাজ যখন শেষের দিকে তখন, ১৯শে মে, ২০১৪, আইনমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন বিচারের যে বিষয়টি আছে তার আইনি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে৷''

অডিও শুনুন 03:44
এখন লাইভ
03:44 মিনিট

'পার্লামেন্ট কোনো আইন না দেয়ায় আমাদের কাজ আর এগোয়নি'

এই মামলায় সংশোধিত আইনেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের কথা ভাবছে প্রসিকিউশন৷ ‘‘এখনও পর্যন্ত পার্লামেন্ট থেকে কোনো আইন না পাওয়ায় আমাদের তরফ থেকে কাজ আর এগোয়নি'', জানালেন তুরিন আফরোজ৷

বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধকালে অপরাধী সংগঠনের বিচারের সুযোগ থাকলেও তার শাস্তির কোনো স্পষ্ট বিধান নেই৷ ফলে সংগঠনকে নিষিদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান যুক্ত করে সংশোধনী আনার কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক৷

কিন্তু আদৌ সেই সংশোধনীর প্রয়োজন আছে কিনা, সে নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের সাথে দ্বন্দ্বেও জড়িয়েছেন বর্তমান আইনমন্ত্রী৷ কিন্তু কী হলো সেই সংশোধনীর?

তুরিন আফরোজ বলছেন, ‘‘আমাদের সাথে কয়েক দফা কথা হয়েছে৷ যতবারই কথা হয়েছে বলা হয়েছে, আইন খুব তাড়াতাড়ি সংশোধিত হয়ে আসছে৷ এখন খুব তাড়াতাড়িটা আসলে কত দূর, সেটা পার্লামেন্টই বলতে পারবে৷''

গত তিন বছরে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী সংশোধিত আইন ‘দ্রুতই মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হবে' বললেও এখন এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব আইন মন্ত্রণালয়৷

সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশ ও সবুজ সংকেত না পাওয়ায় মন্ত্রণালয় আইনটি সংশোধন করতে ধীরগতিতে চলছে বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে৷

একই ধরনের অভিযোগ তুলছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আন্দোলন করে আসা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও৷ ‘বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা' হাসিলের উদ্দেশ্যেই এই ধীরগতি কিনা, প্রশ্ন তুলছেন তিনি৷ ‘‘অন্তত ৫-৬ বার তারিখ পেছানোর কথা আমরা জেনেছি, যখন আমাদের কর্মসূচি ছিল৷ কিন্তু এরপর থেকে সে কথাটিও ধামাচাপা পড়ে গেছে৷ আদতে তারিখ পেছানোর যে কথাটি, সেটিও তারা এখন আর বলছে না৷''

অডিও শুনুন 01:58
এখন লাইভ
01:58 মিনিট

'সরকার নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতকে কব্জাবন্দি করতে চায়'

নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের সাথে সরকারের বিশেষ কোন ‘চুক্তি' হয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও তুলছেন ইমরান এইচ সরকার৷ ‘‘সরকার নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতকে কব্জাবন্দি করার জন্য নিষিদ্ধের প্রক্রিয়াটি বন্ধ রেখেছে৷ আমরা দেখছি দু'টো কিন্তু একসাথে চলছে৷ একদিকে জামায়াতেরও কোনো তৎপরতা নেই, আরেক দিকে সরকারও জামায়াত নিষিদ্ধে কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না৷''

আইন সংশোধনের সবশেষ তথ্য পেতে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও আইনমন্ত্রীর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি৷ তবে কথা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক৷ ‘দেরি হচ্ছে' মানলেও কেন হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনিও৷ এতে জনগণের প্রত্যাশায় কিছুটা চিড় ধরছে, সেটাও মানছেন তিনি৷

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা এখনও বিশ্বাস করি যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতের এই দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নাই৷ সেজন্য আইন তৈরির জন্য বলা হয়েছে৷ সে কাজে বিলম্ব হচ্ছে, সেটা ঠিক, তবে এটা হতে বাধ্য৷''

ভিডিও দেখুন 01:04
এখন লাইভ
01:04 মিনিট

'জনগণের প্রত্যাশায় কিছুটা চিড় ধরছে'

জামায়াতে ইসলামীর বিচার কেন দীর্ঘায়িত হচ্ছে? আপনার মন্তব্য লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও