1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

প্রতিভাবানদের ‘পাগলামি’র বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিলল!

প্রতিভাবান ও সৃজনশীল মানুষদের নানারকম ‘পাগলামি’ থাকে, তাঁরা ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের হন, স্থায়ী বিষাদে নিমগ্ন থাকেন৷ অধুনা গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিভাবানদের এমন ‘পাগলামি’র বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিলেছে৷

default

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভান গখ

প্রতিভাবানদের মধ্যে ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার' বা ‘ম্যানিক ডিপ্রেশন' এর নজির দেখা গেছে হাজার হাজার বছর ধরেই৷ ভান গখ, সিলভিয়া প্লাথ কিংবা ভার্জিনিয়া উল্ফে'র মতো খ্যাতিমান চিত্রকর-কবি-লেখকদের ভাবোন্মত্ত জীবনযাপন দেখে সহজেই তা বোঝা যায়৷ অ্যারিস্টটল, প্লেটো ও সক্রেটিসের জবানিতেও এর উল্লেখ আছে৷ অ্যারিস্টটল একসময় দাবি করেছিলেন, ‘‘পাগলামির ধাত্ ছিল না - অদ্যাবধি কোনো মহান প্রতিভাধরের জন্ম হয়নি৷'' কিন্তু, পাগলামি-ক্ষ্যাপামি-বিষাদগ্রস্ততা বা ইত্যকার সব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে প্রতিভার যোগসূত্রের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা এতোদিন দুর্বলই ছিল৷

৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক নরনারীর ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ছাত্রাবস্থায় স্কুলপর্যায়ে খুব ভাল ফলাফল করেছিলেন এমন মানুষদের মধ্যে পরবর্তী জীবনে ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার' দেখা দেওয়ার হার সাধারণ ফলাফল করাদের প্রায় চারগুণ বেশি৷ সঙ্গীত বা শিল্প-সাহিত্য নিয়ে লেখাপড়া করেছেন এমন মানুষদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি৷ শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে এই প্রবণতা ইতিহাসেও স্পষ্ট৷ লন্ডনের কিংস কলেজের ‘ইন্সটিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি'র গবেষকরা স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইন্সটিটিউটের গবেষকদের সঙ্গে নিয়ে এ জরিপ চালিয়েছেন৷

Ausstellungstipps vom 12. September 2008 Vincent Van Gogh

ভান গখ-এর আঁকা বিখ্যাত সূর্যমুখী

‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার' স্থায়ী বিষাদগ্রস্ততা বা ‘ম্যানিক ডিপ্রেশন' হিসেবে পরিচিত৷ ‘মুড' বা ভাবের পরিবর্তনে ম্যানিয়া বা ‘ইলেশন' থেকে সহজেই ‘ডিপ্রেশন'-এ চলে যেতে পারেন এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরা৷ ম্যানিক পর্যায়ে এঁরা নিজের সক্ষমতা বা অক্ষমতা সম্পর্কে অতিশয়োক্তিতে ভোগেন, কথাবার্তায় অভাবনীয় চাতুর্যের পরিচয় দেন এবং বিশ্রামহীন হয়ে পড়েন, অনিদ্রায় ভুগতে শুরু করেন৷

১৯ শতকের মার্কিন লেখক এডগার অ্যালান পো ‘ম্যানিক ডিপ্রেশন'-এ ভুগেছেন বলে বিশ্বাস করা হয়৷ পো একবার বলেছিলেন, ‘‘লোকে আমাকে পাগল বলে৷ কিন্তু পাগলামিতেই বুদ্ধিবৃত্তির সবচেয়ে শিখরস্পর্শী অবস্থান নিহিত কিনা সেই প্রশ্নের এখনও সুরাহা হয়নি৷''

জীবনভর মানসিক অস্থিতিশীলতার প্রমাণ দিয়ে গেছেন ভিনসেন্ট ভান গখ৷ তাঁর অনেক জীবনীকাররই লিখেছেন, ভান গখ ডিপ্রেশন ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগেছেন৷ ১৮৮৮ সালে মানসিক আঘাতের চরম পর্যায়ে আর একটু হলেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু পল গঁগার জীবননাশ করতে চলেছিলেন তিনি৷ ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে এক নারীকে নিজের কানের একাংশ কেটে উপহার দেন তিনি৷

কবি সিলভিয়া প্লাথ নিজেকে সামলাতে ভয়াবহ যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন বারবার৷ আত্মহত্যার প্রবণতা, নিজেকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া থেকে শুরু করে কী করেন নি তিনি৷ এসব কারণে তাঁর কোনো সম্পর্কই টেকেনি৷ শেষপর্যন্ত গ্যাস-ওভেনে মাথা ঢুকিয়ে আত্মহত্যার পর প্লাথের এই চরম আত্মঘাতী প্রবণতার রহস্য নিয়ে বহু জল্পনা-কল্পনা করেছেন ভক্ত-পাঠকরা৷গবেষকরা বলছেন, সম্ভবত বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগেছিলেন প্লাথও৷

ভার্জিনিয়া উল্ফ ১৯১৩ সালে জীবনের প্রথম উপন্যাস ‘দ্য ভয়েজ আউট' শেষ করার পরপরই ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন৷ উল্ফ নিজেই লিখেছেন, ‘‘আমি বিয়ে করে ফেললাম এবং আমার মাথায় যেন আতশবাজির আগুনের ফুলকি ফুটতে শুরু করল৷ পাগলামির অভিজ্ঞতাটা আসলেই ভয়াবহ ভীতিকর৷ কিন্তু, আমি এখনই খুঁজে পাই যে, আমি যা কিছু লিখেছি, যেসব নিয়ে লিখেছি তা ওই আগুনের লাভাতেই জন্ম নিয়েছিল৷''

Die britische Schriftstellerin Virginia Woolf

ব্রিটিশ লেখিকা ভার্জিনিয়া উল্ফ

প্রতিভাবানদের মধ্যে পাগলামির এমন আরও ভুরি ভুরি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে৷ তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মনোবিশ্লেষক, মনস্তত্ত্ববিদ এবং মনরোগবিশষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিভাবানদের সঙ্গে পাগলামির যোগসূত্রটা আসলে এক ধরণের স্নায়বিক ভারসাম্যহনীতার মধ্যে নিহিত৷

ইন্সটিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি'র সিনিয়র লেকচারার ড. জেমস ম্যাকাবে এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন৷ ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সুইডেনের ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সি সব স্কুলছাত্রছাত্রীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর জরিপ চালান তারা৷ এইসব ছাত্রছাত্রীদের কতোজন ৩১ বছর বয়সের মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডারের কারণে চিকিৎসা নিতে গিয়েছে হাসপাতালের রেকর্ড থেকে তাও দেখা হয়েছে৷ গবেষকরা জানান, উচ্চ প্রতিভাবানরা যেমন মানসিক ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছেন তেমনি এই ঝুঁকি রয়েছে স্কুলে খুব খারাপ ফলাফলকারীদেরও৷ আর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যাখ্যা করতে না পারলেও দেখা গেছে নারীদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যে এমন পাগলামি জেগে ওঠার সম্ভাবনা বেশি৷

প্রতিবেদন : মুনীর উদ্দিন আহমেদ

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়