1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

প্রতিবাদের আগুন জ্বেলে দিল্লি ছাড়লেন গুরমেহের কৌর

দিল্লির রামজস কলেজের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হওয়া ছাত্রী গুরমেহের কৌর ফেসবুক-টুইটারে লাগাতার আক্রমণ ও ধর্ষণের হুমকি আর সহ্য করতে পারলেন না৷ মঙ্গলবার জানালেন, আন্দোলন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি৷

টুইটার মারফত তিনি জানান, তাঁকে যেন একা থাকতে দেওয়া হয়৷ অবশ্য আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য সকলকে অভিনন্দনও জানান তিনি৷ টুইটে গুরমেহের লেখেন, ‘‘আমার মতো ২০ বছরের মেয়ের পক্ষে এর থেকে বেশি চাপ নেওয়া সম্ভব নয়৷’’

গত কয়েকদিন ধরে গুরমেহের কৌরকে ঘিরে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তাকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে ২০ বছরের ছাত্রীটির পাশে এসে দাঁড়ালেন ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর৷ গম্ভীরের এক সময়ের সতীর্থ বীরেন্দ্র শেহবাগ এবং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী কুস্তিগির যোগেশ্বর দত্তরা গুরমেহেরের বিরোধী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন৷ কিন্তু মেহেরকে সমর্থন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘‌কলকাতা নাইট রাইডার্স’-‌এর অধিনায়ক৷ গম্ভীর টুইটারে বলেছেন, ‘‘‌প্রত্যেকেরই ব্যক্তিস্বাধীনতা রয়েছে৷ প্রতিদিনই এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হয়৷’’

এদিকে, রামজস-‌বিতর্ক যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে তাতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আশঙ্কায় ঘুম ছুটেছে বিজেপি তথা কেন্দ্র সরকারের৷ চাপে দিল্লি পুলিশও৷ বিরোধীদের সমালোচনার মুখে দেরিতে হলেও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি-র দুই সদস্যকে গ্রেপ্তারও করেছে তারা৷ কিন্তু ধর্ষণের হুমকি দেওয়া জনৈক রাহুলের এখনও কোনো সন্ধান জানতে পারেনি পুলিশ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বামপন্থি ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসা-র সদস্যদের মারধরের অভিযোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি নষ্ট করার অভিযোগে এই দুই ছাত্রকে দল থেকে ‘সাসপেন্ড’ করেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ৷ অভিযুক্ত দুই এবিভিপি সদস্য হলেন, প্রশান্ত মিশ্র এবং বিনায়ক শর্মা৷

ঘটনার সূত্রপাত কিছুদিন আগে৷ রামজস কলেজের একটি সভায় জওহলরাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ওমর খালিদের ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল৷ ওই সভার বিরুদ্ধে রামজস কলেজে ‌এবিভিপি সদস্যরা তাণ্ডব চালায়৷ সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘটনা৷ নিন্দায় সরব হয় প্রায় সব মহল৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত লেডি শ্রীরাম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী গুরমেহের ভূমিকা অন্যরকম৷ তিনি কার্গিল যুদ্ধে শহিদ ক্যাপ্টেন মনদীপ সিংয়ের মেয়ে৷ বাবার শহিদ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘‌‌আমার বাবার মৃত্যুর জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়, দায়ী যুদ্ধ৷’’ এরপরেই সোশ্যাল সাইটে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়৷ তাঁকে ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়৷ ক্রিকেটার শেহবাগ তো পাল্টা ২০ বছরের গুরমেহেরকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি৷ টুইটে তিনি লেখেন, ‘‘‌‌দু’টো ত্রিশতরান আমি নিজে করিনি৷ আমার ব্যাট রান করেছে৷’’ এরইমধ্যে তাণ্ডবের প্রতিবাদে একদিন আগেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের মিছিল বেরোয়৷ সেই মিছিলে সক্রিয় ভূমিকা নেন গুরমেহের৷

তারপরই গম্ভীর গুরমেহেরের পাশে দাঁড়িয়ে পড়লেন৷ এদিকে প্রাক্তন সতীর্থ গুরমেহেরের পাশে দাঁড়ানোয় বুধবারই নিজের সুর নরম করেছেন শেহবাগ৷ তিনি একটি টুইট করে বলেছেন, ‘‌‘‌কাউকে আক্রমণ করতে চাইনি৷ নিজের মতামত জানিয়েছি মাত্র৷ প্রত্যেকেরই নিজের মত জানানোর অধিকার আছে৷’’

গুরমেহেরের বন্ধুরা মনে করেছেন, এমনিতেই মানসিকভাবে চাপে ছিলেন তিনি৷ পুলিশ বা কেন্দ্র তবু গুরমেহরের পাশে দাঁড়াতে সে ভাবে উদ্যোগী হয়নি৷ রামজস কলেজের গণিত অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্রী শ্রীজিতা পাল মনে করেন, কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অথবা এইভাবে কটাক্ষ করার কোনো অধিকার শেহবাগের নেই৷ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রামজস কলেজের গায়ে ‘‌দেশদ্রোহী’ তকমা সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে৷ তাঁর কথায়, ‘‌‘রামজস কলেজে যে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল তাতে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ-এর ওমর খালিদ-‌সহ মোট ১৩ জন বক্তা ছিলেন৷ অন্যদের কাউকে নিয়ে কোনো সমস্যা না করে খালিদকে নিয়ে নোংরামি করেছে এবিভিপি সদস্যরা৷ অথচ ওই আলোচনায় কাউকে জোর করে যেতে বলা হয়নি৷ পরে বাধ্য হয়েই সেই অনুষ্ঠান বাতিল করে দিতে হয়েছে৷ এটা ছাত্রছাত্রী তথা সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ৷ তাছাড়া এই ঘটনার পর ‌শুধু গুরমেহের নয়, আরও অনেককে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে এবিভিপি-‌র সমর্থকরা৷ হুমকি এমন স্তরে পৌঁছেছিল তাতে মেহেরের জায়গায় অন্য যে কেউ থাকলে তাঁকেও দিল্লি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই হতো৷ তবে এইভাবে ছাত্র আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না৷’’

অডিও শুনুন 03:29

কাউকে এভাবে কটাক্ষ করার অধিকার শেহবাগের নেই: শ্রীজিতা পাল

গুরমেহেরকে কেন্দ্র করে রাজনীতিও চলছে সমান তালে৷ কংগ্রেসের অভিযোগ, ধর্ষণ ও খুনের হুমকিতে ভীত হয়েই দিল্লি ছেড়েছেন ওই ছাত্রী৷ তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু বলেন, ‘‘গুরমেহের কোথায় থাকবেন বা থাকবেন না, তা নিয়ে চাপ দেওয়া উচিত নয়৷’’ তবে তিনি নিশ্চিত, গুরমেহেরকে বোড়ে বানিয়েছে বামেরা, যাঁরা আসলে আফজল গুরুকে সমর্থন করেন (‌‌সংসদ হামলার জন্য ২০১৩ সালে ফাঁসি হয় গুরুর)‌‌৷ রিজিজুর টুইট, ‘‌‘‌কারা গুরমেহেরের মাথা খাচ্ছে?‌ শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী যুদ্ধ আটকায়৷ ভারত কাউকে আক্রমণ করেনি, কিন্তু দুর্বল ভারতকে শত্রুরা আক্রমণ করেছে৷’’

তবে গুরমেহেরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বলিউড পরিচালক কবির খানের মতো আরো অনেকে৷ 

এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু, বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজের পর এবার গুরমেহেরকে আক্রমণ করলেন হরিয়ানার মন্ত্রী অনিল ভিজ৷ বিতর্কিত মন্তব্য করতে পটু ভিজ বুধবার বলেছেন, ‘‌‘‌যাঁরা তাঁর প্রচারকে সমর্থন করেন তাঁরা আসলে পাকিস্তানের সমর্থক৷ এই সব লোকদের দেশ থেকে তাড়ানো উচিত৷’’

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়