1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

প্রতিবাদী শিল্পী আই ওয়েওয়ে

চীনে ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর সরকারি নিপীড়ন ও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিশিষ্টতম প্রতিভূ সম্ভবত আই ওয়েওয়ে, বিশেষত করে জার্মানির মানুষদের কাছে৷ শিল্পীর অনুপস্থিতিতেই বার্লিনে চলেছে তাঁর সর্বাধুনিক শিল্পকলার প্রদর্শনী৷

আই ওয়েওয়ে-র বৃহত্তম একক প্রদর্শনীতে তাঁর নিজের উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি, কেননা তাঁর পাসপোর্ট এখনও চীন সরকারের হাতে৷ বার্লিনের মার্টিন-গ্রোপিয়ুস-বাউ মিউজিয়ামের ১৮টি কক্ষ জুড়ে ‘‘আই ওয়েওয়ে – সাক্ষ্যপ্রমাণ'' নামধারী যে প্রদর্শনী চলেছে, তা শিল্পীর কনসেপচুয়াল আর্টের মাধ্যমে এক গভীরভাবে রাজনৈতিক অভিব্যক্তি৷

বার্লিনের প্রদর্শনী শুরু হয় বৃহস্পতিবার, চৌঠা এপ্রিল, ২০১৪ তারিখে৷ এর ঠিক তিন বছর আগে চীনে আই ওয়ে ওয়ে-কে গ্রেপ্তার করে ৮১ দিনের জন্য কারাগারে রাখা হয়৷ বার্লিনের প্রদর্শনীতে আই ওয়েওয়ে-র সেই সাদা সেল বা কারাকক্ষের একটি হুবহু নকল সাজানো রয়েছে, এমনকি কমোড ও হাত-মুখ ধোয়ার বেসিন পর্যন্ত বাদ পড়েনি৷ কারাকক্ষের দেওয়াল ফোম দিয়ে ঢাকা৷ সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা, অর্থাৎ নজরদারির ক্যামেরা ঝোলানো রয়েছে৷

Ai Weiwei Ausstellung in Martin-Gropius Bau Berlin 01.04.2014

কারাকক্ষের একটি হুবহু নকল সাজানো রয়েছে

পাসপোর্ট বস্তুত বাজেয়াপ্ত, তবুও আই ওয়ে ওয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে তাঁর ভিডিও-বার্তায় বলেছেন, তিনি আসলেও আসতে পারেন, যদিও আপাতত সেটা তাঁর জানা নেই৷ তাঁর আসা না আসাটাকেও শিল্পে পরিণত করেছেন আই ওয়েওয়ে: মিউজিয়াম ভবনের বাইরে একটি সাদাসিধে সাইকেল দাঁড় করানো আছে; সাইকেলের বাস্কেটে রাখা রয়েছে এক তোড়া ফুল৷ এইভাবে চীনে যেখানে তাঁর বাস, সেখানেও নাকি একটি সাইকেলের উপর ফুল রাখা আছে৷ সেই ফুলও নাকি প্রতিদিন বদলে দেওয়া হবে, যতোদিন পর্যন্ত না আই ওয়েওয়ে বার্লিনে তাঁর প্রদর্শনীতে আসতে পারেন৷

আই ওয়েওয়ে জার্মান সরকার ও জনগণের কাছ থেকে চিরকালই সমর্থন ও সাহায্য পেয়ে এসেছেন৷ ২০১১ সালে তাঁকে বার্লিনের কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ‘চেয়ার', অর্থাৎ অধ্যাপকের মর্যাদা প্রদান করা হয়৷ শুধু বার্লিনের প্রদর্শনীর জন্য একাধিক নতুন ইনস্টলেশন সৃষ্টি করেছেন আই ওয়েওয়ে৷ সবচেয়ে চমকপ্রদ ইনস্টলেশনটি রাখা রয়েছে মিউজিয়ামের অ্যাট্রিয়ামে: মেঝে জুড়ে ছয় হাজার কাঠের টুল, যেগুলো উত্তর চীনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে৷ সব ক'টি একই চেহারার কিন্তু বিভিন্ন রঙের এবং বিভিন্ন ধরনের নকশা করা – অর্থাৎ প্রতিটিই একক ও সবিশেষ৷ এগুলি কারখানায় তৈরি প্লাস্টিকের টুলের মতো এক নয়, এগুলি হল ইতিহাসের নীরব সাক্ষী – যা কিনা আই ওয়েওয়ে-র চূড়ান্ত বার্তা৷

Ai Weiwei Ausstellung in Martin-Gropius Bau Berlin 01.04.2014

মেঝে জুড়ে ছয় হাজার কাঠের টুল

আইওয়েওয়ে-র মধ্যে যেন কোনো ‘দাদাইস্ট' লুকিয়ে রয়েছে: নয়তো চীনের হান রাজবংশের আমলের, অর্থাৎ প্রায় দু'হাজার বছরের পুরনো ফুলদানিগুলোতে হালফ্যাশনের মার্সিডিজ কিংবা বিএমডাবলিউ গাড়ির মেটালিক পেন্ট লাগানোর কথা ভাবতে পারতেন না আর কোনো শিল্পী ৷ এগুলো কিন্তু চীনে নয়া বড়লোকদের গাড়ি কেনার ধুমের প্রতিও ইঙ্গিত, যেমন একটি পাথরের গ্যাস-মুখোশ বেইজিং-এর বায়ুদূষণের প্রতি ইঙ্গিত করছে৷ ২০০৮ সালের অলিম্পিকের জন্য বেইজিং-এর ‘পাখির বাসা' স্টেডিয়ামের নকশা তৈরিতে যেমন আই ওয়েওয়ে-র হাত ছিল, তেমনই লন্ডনের ‘‘সূর্যমুখীর বীজ'' প্রদর্শনীর জন্য দশ কোটি হাতে-রং-করা চীনেমাটির বীজ প্রদর্শন করেছিলেন আইওয়ে ওয়ে৷

শিল্পীকে আটকে রাখা যেতে পারে, কিন্তু তার শিল্পকে নয়৷ বার্লিনের প্রদর্শনী সেই কথাই আবার নতুন করে প্রমাণ করল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়