1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

প্রতিবন্ধী শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ

প্রতিবন্ধী মানেই কি তাঁদের সমাজের মূল স্রোত থেকে আলাদা থাকতে হবে? আলাদা শিক্ষা, আলাদা জীবনযাত্রা, আলাদা ভবিষ্যৎ? ‘ডাউন সিন্ড্রোম' থাকা সত্ত্বেও জার্মানির বার্লিন শহরে একদল মানুষ কিন্তু দিব্যি নিজেদের এক জগত গড়ে তুলেছেন৷

মা হিসেবে আনকে কাল্ক যখন জানতে পারলেন যে, তাঁর কন্যা আনা ‘ডাউন সিন্ড্রোম' নিয়ে জন্মাবে, তখন তিনি বেশ দমে গিয়েছিলেন৷ তা সত্ত্বেও তিনি পিছিয়ে আসেন নি৷ আনা বার্লিনে কিন্ডারগার্টেনে যাচ্ছে৷ সেখানে প্রতিবন্ধী ও স্বাভাবিক শিশুরা মিলেমিশে খেলা করে৷ আনা-র শিখতে বেশি সময় লাগে বটে, কিন্তু সে বাকিদের দেখে নকল করতে পারে৷ আনকে বলেন, ‘‘টিচার একদিন বললেন, আনা ‘বুক' বা বইকে ‘বু' বলেছে৷ ডাউন সিন্ড্রোম থাকলে শিশুরা এত তাড়াতাড়ি কথা বলতে শেখে না৷ আমার মনে হয়, বাকি স্বাভাবিক শিশুদের সাথে থাকার কারণেই সে এটা পারছে৷''

৩৯ বছর বয়স্ক এই মা মনে করেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আলাদা স্কুলের দিনকাল ফুরিয়ে গেছে৷ তিনি আরও বললেন, ‘‘সকলকে নিয়ে চলতে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে৷ প্রতিবন্ধীদের সাথেও স্বাভাবিক আচরণ করতে হবে৷ তাদের এড়িয়ে চলে, চোখের সামনে থেকে দূর করে, অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখলে চলবে না৷''

Integrativer Kindergarten

কিন্ডারগার্টেনে ‘স্বাভাবিক’ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের একসঙ্গে শিক্ষার পক্ষে দাবি বাড়ছে

আন্টিয়ে ক্র্যোগার ধাত্রী হিসেবে আনকে-র সাথেই ছিলেন৷ তিনি জানেন, আজকাল আনার মতো শিশু আর বেশি নেই৷ কারণ প্রযুক্তির কল্যাণে মায়ের পেটে শিশুর অবস্থা আগেই জানা যায়৷ ডাউন সিন্ড্রোম শনাক্ত হলে জার্মানিতে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই গর্ভপাত করানো হয়৷ তিনি বললেন, ‘‘আমার আশঙ্কা হলো, ডাউন-সিন্ড্রোম সহ শিশুরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে৷ অনেক আগেই মায়ের পেটে তাদের চিহ্নিত করতে পেরে চিকিৎসাশাস্ত্রের গৌরব বাড়ছে৷ ফলে হবু বাবা-মায়েরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন, তারা আদৌ এমন শিশু চান কি না৷ অর্থাৎ তারা একটি প্রাণ মূলেই বিনাশ করতে পারেন৷''

এমন রোগ সত্ত্বেও যে প্রায় স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব. তা দেখিয়ে দিচ্ছেন জোরা শেম৷ বছর দুয়েক ধরে তিনি এমন এক বাসায় থাকেন, যেখানে বাকিদেরও ডাউন-সিন্ড্রোম রয়েছে৷ ৩৬ বছরের এই তরুণী নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরে খুবই গর্বিত৷ তিনি বললেন, ‘‘শুধু নিজের জন্য বা বন্ধুদের সাথে মিলে কিছু করার একটা সুযোগ থাকে৷ সবার জীবনেই এটার প্রয়োজন রয়েছে৷ সব সময় বাবা-মাকে দরকার হবে কেন!''

ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই বাসায় তাদের দেখাশোনার জন্য একজন থাকেন৷ তবে নাটকের রিহার্সালের জন্য জোরা ও নেলে নিজেরাই চলে যান৷ বার্লিনে ‘রাম্বা-সাম্বা' থিয়েটারের সব অভিনেতারই ডাউন সিন্ড্রোম রয়েছে৷ এক স্পিচ-থেরাপিস্ট-এর কাছে জোরা কথা বলতে ও গান গাইতে শিখেছে৷

পরিচালক গিজেলা হ্যোন নাটকের রিহার্সালে ব্যস্ত রয়েছেন৷ সেই ২০ বছর আগেই গিজেলা হ্যোন বু্ঝতে পেরেছিলেন, যে সব অভিনেতাদের ডাউন সিন্ড্রোম রয়েছে, তাদের একটা বিশেষত্ব রয়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম, তাদের মধ্যে সত্যি বেশ প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে৷ সব সংলাপ মনে করতে পারাটা এখানে বড় কথা নয়৷ তাদের এমন একটা জাদু বা মায়া আছে, যে সব দুর্বলতা ঢাকা পড়ে যায়৷''

নাটকের বিষয় ভালোবাসা, ঈর্ষা ও সন্তানের চাহিদা৷ আছে হইচই, হাস্যরস, কিছুটা পাগলামিও৷ আনকে কাল্কও নাটক দেখে মুগ্ধ৷ আনকে কাল্ক বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, ওদের জীবনে বেশ একটা আত্মনির্ভরতার বোধ রয়েছে, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিচ্ছে৷ এটা এক কথায় অসাধারণ৷ আমার আনা-র জন্যও এমনটা চাই৷ চাই সবাই তাকে ভালোবাসুক, পছন্দ করুক, সমাজে তার প্রাপ্য মর্যাদা পাক৷''

এমন জীবনযাত্রা যে সম্ভব, এই প্রকল্পই তা দেখিয়ে দিচ্ছে৷

এসবি/ডিজি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়