1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ‘রোবোহ্যান্ড'

যুদ্ধ-বিগ্রহ, সংকট, জন্মগত ত্রুটি – অনেক কারণে মানুষের অঙ্গহীনতা দেখা যেতে পারে৷ অথচ কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির পথে প্রযুক্তি, মূল্য, যোগাযোগ – এ রকম অনেক অন্তরায় দেখা যায়৷ দক্ষিণ আফ্রিকার এক উদ্ভাবক এর অভিনব সমাধান বার করেছেন৷

বয়স মাত্র ১২ হলেও কেইলা গেলাসের জীবনটা দক্ষিণ আফ্রিকার আর পাঁচটা কিশোরীর থেকে আলাদা৷ কেইলার জন্ম থেকেই বাঁ হাত নেই৷ কেইলা প্রতিবন্ধী৷ অবশ্য সে দিব্যিই সব কাজ সেরে ফেলতে পারে৷ তবে মাঝে মধ্যে সে-ও দ্বিতীয় হাতের অভাব বোধ করে৷

কৈলার কথায়, ‘‘আমি কাঠের কাজের ক্লাসে নাম লিখিয়েছিলাম৷ কিন্তু ওরা অনেক পেরেক ব্যবহার করে৷ আমি এত দ্রুত হাতুড়ি দিয়ে পেরেক ঠুকতে পারি না৷ আমি শুধু তার এবং আঁকার কাজ করলাম৷ শিক্ষককেই পেরেকের কাজ করতে হলো৷''

কেইলার বাবা মানফ্রেড গেলেস অনেকদিন ধরে কৃত্রিম হাতের খোঁজ করছিলেন৷ তিনি জানান, ‘‘প্রথম কোটেশন ছিল প্রায় ২০,০০০ ইউরোর বেশি৷ আমাদের কাছে ব্যাপারটা ছিল অর্থহীন, কারণ কেইলা এখন বড় হয়ে উঠছে৷ তাছাড়া যিনি সেটা তৈরি করছিলেন, তিনি আমাদের মেয়ের কথাই শোনেননি৷ আমার মেয়ে একটি হাত ছাড়াই জন্মেছে৷ তাই সে অনেক কিছুই নিজে করতে পারে৷ সে শুধু নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে চেয়েছিল৷''

এরপর একদিন একটি প্রতিবেদন পড়ে মানফ্রেড গেলেস কাছেরই একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রস্তুতকারকের কথা জানতে পারেন৷ তাঁর নাম রিশার্ড ফান আস৷ ২০১২ সাল থেকে প্রাক্তন এই ছুতোর মিস্ত্রী সস্তায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করছেন৷ আসলে একটি দুর্ঘটনা তাঁর জীবন বদলে দেয়৷

উদ্ভাবক রিশার্ড ফান আস জানান, ‘‘২০১১ সালে আমি ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে ফেলেছিলাম৷ হাসপাতালে গিয়ে ভাবছিলাম, এবার কী করে কাজ চালিয়ে যাবো৷ জীবনটাই বা কেমন হবে৷ এমন বিপর্যয়ের পর আমি মানুষের হাত নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করি৷ তারপর দেখলাম ব্যাপারটা খুব কঠিন হবে না৷ আমি বিকল্প তৈরি করলাম৷''

আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র সাত দিনেই নিজের জন্য কৃত্রিম আঙুল তৈরি করেন রিশার্ড৷ এখানেই শেষ নয়, এরপর তিনি ‘রোবোহ্যান্ড' তৈরি করেন, যা কেইলার জীবনেও আনন্দ নিয়ে আসে৷ প্রথম সাক্ষাতেই রিশার্ড ফান আস তাকে কথা দিয়েছিলেন, ‘‘এটা অর্থোপ্লাস্টিক, এবার এটা তোমার হাতের আকারে তৈরি হবে৷''

তার ও ইলাস্টিক এই রোবট-হাত বা ‘রোবোহ্যান্ড'-এর অংশগুলিকে ধরে রাখে৷ তাই হাতের বিশেষ অংশ হেলিয়ে হাত নাড়াচাড়া করা যায়৷ বলা বাহুল্য, এই আবিষ্কার রিশার্ডের জন্য থেরাপির মতো কাজ করেছিল৷ তিনি জানান, ‘‘ব্যথা আসলে মজার ব্যাপার৷ ব্যথা যত বাড়ছিল, তত আইডিয়া আসছিল৷''

এক মার্কিন সহযোগীর সঙ্গে মিলে রিশার্ড একটি থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করেন, যার নাম ‘রোবোবিস্ট'৷ এটা কৃত্রিম অঙ্গের অংশ তৈরি করে৷ কেইলা নিজের জন্য সবুজ রংয়ের হাত চেয়েছিল৷ তাই প্রিন্টার থেকে সবুজ রঙের একটা গরম প্লাস্টিক বের হয়৷

এমন একটা হাতের উৎপাদন ব্যয় ৪৬০ ইউরো৷ রিশার্ড অবশ্য প্রায়ই টাকা নেন না৷ প্রিন্টার বিক্রিই তাঁর আয়ের মূল উৎস৷ এর এক একটির দাম ৩,৮০০ ইউরো৷ রিশার্ড ফান আস জানান, ‘‘কাত করে রাখলেও যন্ত্রটি কাজ করে৷ এমনকি উলটে দিলেও প্রিন্ট করতে থাকে৷ ক্যালিব্রেশনের কোনো ক্ষতি হয় না৷'' অর্থাৎ সংকটপূর্ণ স্থানের জন্যও এটি উপযুক্ত৷

২০১৩ সালে রিশার্ড সিরিয়ায় গিয়েছিলেন৷ রিশার্ডের কথায়, ‘‘সেখানকার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল৷ তারা আসলে ‘রোবোহ্যান্ড' সম্পর্কে জানতে পেরেছিল৷ তারা তখন নিজেদের দেশের মানুষ ও তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভাবে৷''

এর মধ্যে তাঁর তৈরি কয়েকটি প্রিন্টার সংকটপূর্ণ এলাকায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করছে৷ এই যেমন, মাত্র ১০ ঘণ্টায় তৈরি হয়ে গেছে কেইলার হাত৷ শেষবার ট্রায়ালের জন্য রিশার্ড নিজে এসেছেন৷ কেইলা তো দারুণ খুশি৷ রিশার্ডের কাজ ও উদ্ভাবন কেইলার জীবন যে চিরকালের জন্য বদলে দিতে চলেছে!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক