1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রতিবছর ঢাকায় দেড় হাজার বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায়

শুধু ঢাকা শহরেই প্রতিবছর গড়ে দেড় হাজারের মতো বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায়৷ আর সেসব লাশে আঘাতের ধরণ এবং ময়না তদন্ত রিপোর্ট মিলিয়ে শতকরা ৮০ ভাগই হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হয়৷

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন এসব লাশের অধিকাংশের শেষ পর্যন্ত পরিচয় জানা যায়না৷ তবে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এর দায় এড়াতে পারেনা৷

শুক্রবার ঢাকার ডেমরা এলাকায় চারটি লাশের খণ্ডিত অংশ পাওয়া যায়৷ পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করার পর নিশ্চিত হয়েছে যে এর মধ্যে একজন মহিলার লাশের খণ্ডিত অংশও আছে৷ হত্যাকাণ্ডের পর লাশগুলোর অন্য অংশ হয়তো অন্য কোথাও ফেলে দেয়া হয়েছে৷

উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান এই লাশগুলোর পরিচয় জানার সম্ভাবনা অনেক কম৷ তবে তাঁরা চেষ্টা করছেন৷ পরিচয় জানা না গেলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও চিহ্নিত করা যাবেনা৷

ঢাকায় বেওয়ারিশ লাশ দাফনকারী বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের রেকর্ড থেকে জানা যায় ঢাকায় প্রতিবছর গড়ে দেড় হাজারের মতো বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেন তারা৷ রানা প্লাজার বেওয়ারিশ লাশের হিসাব বাদ দিয়েই চলতি বছরে জুলাই মাস পর্যন্ত তারা ৫৬৬টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছেন৷ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম কর্তৃপক্ষ জানায় তারা বেওয়ারিশ লাশের খবর পান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং হাসপাতাল বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে৷

মাসুদুর রহমান বলেন প্রতিটি বেওয়ারিশ লাশেরই সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত হয়৷ আর তা থেকে তারা জানেন এই বেওয়ারিশ লাশের শতকরা ৮০ ভাগই হত্যাকাণ্ডের শিকার৷ তারা এসব লাশের ছবি সংরক্ষণ করেন৷ তবে তাতে তেমন কাজ হয়না৷ অধিকাংশ লাশেরই পরে আর পরিচয় জানা যায়না৷ তিনি জানান যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা নিজেরা দায় থেকে বাঁচতেই হয়তো বিকৃত করে এক এলাকার লাশ অন্য এলাকায় নিয়ে ফেলে৷ আবার কখনো লাশ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে৷

মানবাধিকার নেত্রী এ্যাডভোকেট এলিনা খান দাবি করেন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বেওয়ারিশ লাশ বেড়ে যায়৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান দেশে যেসব অপহরণ আর গুমের ঘটনা ঘটছে তা থেকেই এসব বেওয়ারিশ লাশের কারণ বোঝা যায়৷ আইন ও শালিস কেন্দ্রের হিসেবে গত ছয় বছরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপহৃত ১৭৩ জনের মধ্যে ১১৮ জনের কোনো খোঁজ নেই৷ এলিনা খান বলেন তাহলে তাদের পরিণতি কি হয়েছে তা জানানো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব৷

এদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনোভাবেই বেওয়ারিশ লাশের দায় এড়াতে পারেনা৷ তাদের দায়িত্ব হলো তদন্ত করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করা৷ আর তা করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন৷ আর সেই সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা৷ তারা হত্যাকাণ্ডের পর লাশ বিকৃত করে, টুকরো টুকরো করে অথবা অন্য কোনো উপায়ে পার পেয়ে যাচ্ছে, যা খুবই আতঙ্কের বিষয়৷ তিনি ডেমরার চারটি লাশের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়