1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

প্রতিনিধিদের ১০০ ভাগ ভোট পেলেন মার্টিন শুলৎস

জার্মানির সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলের নতুন সভাপতি ও আগামী সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে দলের চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী নির্বাচিত হলেন মার্টিন শুলৎস, যিনি হাই স্কুলের পড়া পর্যন্ত শেষ করেননি৷

অবশ্য সেটাই এই ঝানু রাজনীতিকের একমাত্র পরিচয় নয়, যেমন পুস্তকবিক্রেতার পেশাটা তিনি শিখেছিলেন বটে, কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশিদিন কাজ করেছেন একটি ছোট শহরের মেয়র হিসেবে৷ এবং আজ জার্মানিতে তাঁর মূল পরিচয় হলো এই যে, তিনি সোজা আসছেন ব্রাসেলস থেকে, যেখানে তিনি ইউরোপীয় সংসদের সভাপতির পদটি সফলভাবে অলঙ্কৃত করেছেন৷

সাবেক সভাপতি সিগমার গাব্রিয়েল প্রায় কাউকে না জানিয়ে শুলৎসের সঙ্গে কথা বলে এসপিডি দলের এই নবায়ন পরিকল্পনার রূপরেখা স্থির করেন৷ রবিবারের বিশেষ সম্মেলনে সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হলো: প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে মার্টিন শুলৎসকে তাদের দলীয় সভাপতি এবং আগামী সংসদীয় নির্বাচনে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনীত করলেন৷ ৬০৫টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৬০৫টি ভোটই পেয়েছেন শুলৎস৷

‘‘এই ফলাফল চ্যান্সেলরের দপ্তর পুনরাধিকার করার পথে প্রথম পদক্ষেপ, বলে আমার ধারণা'', ফল ঘোষণার পর মন্তব্য করলেন শুলৎস৷

ভিডিও দেখুন 02:27

ভোটের আগে প্রদত্ত তাঁর ভাষণে শুলৎস বিশেষ করে সামাজিক সাম্যের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেন৷ তথাকথিত ‘শুলৎস এফেক্ট' বা শুলৎস প্রভাবের কারণে এসপিডি জনমত সমীক্ষায় প্রায় দশ শতাংশ এগিয়ে সিডিইউ-সিএসইউ দলকে প্রায় ধরে ফেলেছে; জনপ্রিয়তায় ম্যার্কেল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, শুলৎস তার কাছেই রয়েছেন৷ এই শুলৎস প্রভাব শুধু এই নতুন মানুষটির জন্যই নয়, তিনি যে বার্তা নিয়ে এসেছেন, তার জন্যও বটে৷

‘‘এসপিডি আবার ফিরেছে'', বলেন শুলৎস, ‘‘এবং সেটা জার্মানি ও ইউরোপের মানুষদের জন্য সুখবর৷ আমরা যদি নিশ্চিত না করি যে, সব কিছু সামাজিক ন্যায়সংগত ভাবে চলবে, তাহলে সেটা আর কেউই করবে না৷''

সমাজতন্ত্রী ও ইউরোপপন্থি

দলীয় সম্মেলনে শুলৎস এবং অন্যান্য বক্তারা বারংবার শ্রমিক সংগঠনগুলির নাম করেছেন, কেননা সামাজিক গণতন্ত্রীদলের জনসমর্থনের প্রথাগত ভিত্তিই এখানে৷ অপরদিকে শুলৎস ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি তাঁর দলের সমর্থনের সপক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন৷

‘‘যারা এই জোটকে (ইউরোপীয় ইউনিয়নকে) বাতিল করতে চায়, তারা দেখবে যে, আমি একজন জোরালো প্রতিপক্ষ'', বলেন শুলৎস৷ ‘‘কেউ যদি ভাবে যে, জাতীয় স্বার্থকে ইউরোপ থেকে আলাদা করা যায়, তাহলে সে জার্মানির ভবিষ্যতের অপচয় করছে৷''

শুলৎস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও পরোক্ষভাবে একহাত নিতে ছাড়েননি৷ তিনি বলেছেন যে ‘‘ফেক নিউজ'' এবং ‘‘জনগণের বড় বড় গোষ্ঠীকে অপবাদ'' দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ‘‘জার্মানিতে তার কোনো স্থান নেই''৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘‘একজন জার্মান চ্যান্সেলর স্পষ্ট বিপরীত অবস্থান নিতে পারেন'', শুলৎস পরে তাঁর ভাষণে বলেন৷ এর আগে তিনি সাবেক এসপিডি চ্যান্সেলর গেয়ারহার্ড শ্র্যোডারের প্রশংসা করেন, কেননা শ্র্যোডার ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিলেন৷

গরিব মেহনতি মানুষদের জন্য ‘শ্রদ্ধা'

শুলৎস নিজে এসেছেন অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবার থেকে; তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও সংকট ও পদস্খলন এসেছে, কিন্তু তিনি সব সত্ত্বেও এগিয়ে যেতে পেরেছেন৷ কাজেই দলীয় সম্মেলনে তাঁর ভাষণ, এবং তার আগে ও পরের বহু মন্তব্য থেকে শুলৎসের ভবিষ্যৎ প্রচার অভিযানের একটি মূলমন্ত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে: তিনি খেটে খাওয়া, নিম্ন আয়ের প্রতিটি মানুষকে ‘‘শ্রদ্ধার সঙ্গে'' বিবেচনা করতে চান৷

ঠিক সেই কারণেই সিডিইউ-সিএসইউ দল যে কর হ্রাস করার, প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়ানোর এবং সামাজিক খাতে খরচ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তার সমালোচনা করেন শুলৎস৷ ‘‘এই সব পরিকল্পনা অত্যন্ত অন্যায় এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও খুব বুদ্ধিমানের কাজ নয়, এছাড়া এর ফলে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হয়'', প্রতিনিধিদের হর্ষধ্বনির মধ্যে বলেন শুলৎস – এবং বেকারভাতার মেয়াদ বাড়ানো ও কর্মহীনদের জন্য বাড়তি প্রশিক্ষণের বিষয়ে তাঁর নিজের প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি করেন৷

তথাকথিত ‘শুলৎস এফেক্ট'-এর একটি ফলশ্রুতি ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে: গত জানুয়ারি মাস যাবৎ এসপিডি দলে ১৩,০০০ নতুন সদস্য যোগদান করেছেন৷

জেফারসন চেজ/এসি

সংশ্লিষ্ট বিষয়