1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘প্রতিটি নাগরিকের ইলেকট্রনিক হেলথ ফাইল করা হচ্ছে’

‘‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইলেট্রনিক হেলথ ফাইল করার পরিকল্পনা আছে৷ এটা হলে কোনো রোগীকে তার রোগের ফাইল সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে না৷’’ এমন আশার কথা শুনিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ৷

গত সেপ্টেম্বরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক পদে যোগ দিয়েছেন তিনি৷ এর আগে স্বাস্থ্য খাতের জন্য তৈরি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের দায়িত্বে ছিলেন৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সুদীর্ঘ সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক আজাদ বলেন, ‘‘২০১১ সালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ডিজিটাল হেলথ পুরস্কার পান৷ সেই থেকে এখন ২০১৬ সাল-  অর্থাৎচার বছরে আরো অনেকদূর এগিয়েছি আমরা৷''

ডয়চে ভেলে : স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটালাইজেশনের শুরু কবে? কোন কনসেপ্ট থেকে শুরু করেছিলেন? আপনাদের লক্ষ্য কি ছিল?

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ : ২০০৮ সালেই স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটালাইজেশন শুরু হয়৷ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার ঘোষণা করে তাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা হয়েছিল৷ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে মূল কাজ শুরু হয়৷ একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটালাইজেশন হয়েছে৷ ২০০৮ সালে যখন ডিজিটাল প্রক্রিয়া শুরু হয় তখন আমাদের অর্থ ও সরকারের সামর্থ্য তেমন ছিল না৷ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে অর্থ বরাদ্দ দেয়৷ তখনই আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতালসহ উপরের দিকে যত হাসপাতাল আছে সেগুলোকে ই-কনসেপ্টের মধ্যে নিয়ে আসি৷ সবগুলো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ই-মেইল সিস্টেম চালু করা হয়েছে৷ এখন যেমন সিএস লিখে একটি মেইল দিলে ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনের কাছে চলে যাবে৷ হস লিখে মেইল দিলে সবগুলো হাসপাতালের প্রধানদের কাছে মেইল চলে যাবেg এবং তারাও কিন্তু মেইলের মাধ্যমে উত্তর দিচ্ছেন৷

অডিও শুনুন 07:28

‘‘আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অনেক গতিশীল হয়েছে’’

এখন পর্যন্ত আপনাদের সফলতা কতটুকু?

সরকারিভাবে এখন সব জায়গায়ই ডিজিটাল হচ্ছে৷ তবে স্বাস্থ্য খাতে এই ডিজিটাল প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি সফল৷ শুধু দেশের মধ্যে নয়, বিশ্বব্যাপীও বাংলাদেশ অগ্রগামী৷ ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য খাতে আমরা ডিজিটালাইজেশন শুরু করি৷ ২০১১ সালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ডিজিটাল হেলথ পুরস্কার পান৷ সেই ২০১১ থেকে এখন ২০১৬ সাল-  এই চার বছরে আরো অনেক দূর এগিয়েছি আমরা৷ একেবারে গ্রাম পর্যায়ে আমাদের ২৪ হাজার মাঠকর্মী কাজ করেন৷ তাদের হাতে ট্যাব আছে৷ সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগও আছে৷ কোনো কিছু তাদের কাছে জটিল মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে ই-কানেক্ট করছে৷ আমরা সেটা জিপিআরএসের মাধ্যমে মনিটরিং করছি৷ পাশাপাশি টেলিমেডিসিন সেবাও দেয়া হচ্ছে৷ প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের তিনটি করে কমিউনিটি কিনিক আছে৷ সেখানেও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন৷ আর প্রতিটি কাজই হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে৷

স্বাস্থ্য খাতের সর্বত্রই কি এই ডিজিটাল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে?

শতভাগ হয়েছে, এটা আমি বলব না৷ অনেক উদ্যোগই আমরা নিয়েছি৷ সেগুলোর বাস্তাবয়ন হয়েছে, কিছু এখনো হচ্ছে৷ আমাদের আর্থিক ও জনবলের বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রজেক্ট নিতে হয়৷ কম টাকায় ও কম জনবলে কাজ হয় এমন প্রজেক্ট আমরা নিয়েছি, কারণ, আমাদের বিদ্যুতের সমস্যা আছে৷ অনেক সময় ইন্টারনেটের গতিও ঠিকমতো পাওয়া যায় না৷ আর জনবল সংকট তো আছেই৷ অনেক হাসপাতালে আমরা অটোমেশন করেছি, কারণ, কেউ অর্থ চাইলেই তো আমরা দিতে পারব না৷ এখন আমাদের পরিকল্পনা আছে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ইলেট্রনিক হেলথ ফাইল থাকবে৷ এটা হয়ে গেলে কোনো রোগীকে তার রোগের ফাইল সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে না৷ তার একটা কোড নম্বর থাকবে৷ যে কোনো চিকিৎসকের কাছে গেলে বা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গেলে ওই কোড নম্বর দিয়েই তার রোগ সম্পর্কে চিকিৎসক জানতে পারবেন৷ তবে অবশ্যই এটা গোপন রাখা হবে৷

বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি, টেন্ডার এসব ডিজিটাল হয়েছে?

আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে যে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন, তাঁদের সবার তথ্য ডাটাবেজে আছে৷ এই ডাটাবেজ দিয়ে আমরা বুঝতে পারি আমাদের কোথায় কতজন লোক আছে৷ কোথায় জনবলের ঘাটতি আছে৷ কার কতবছর চাকরি হয়েছে৷ তিনি অবসরে যাবেন কবে, সেটা আমরা বের করতে পারি৷ পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি- এখন এসবও আমরা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করা শুরু করেছি৷ আমি এখনও বলতে পারব না যে, আমরা শতভাগ করেছি৷ আমি মনে করি, আগামী বছর খানেকের মধ্যে আমরা পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক পদ্ধতি চালু করতে পারব৷

প্রায়ই পত্রপত্রিকায় দেখি, গ্রামাঞ্চলে এখনো চিকিৎকরা অনুপস্থিত থাকেন৷ চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার কোনো ব্যবহার কিআপনারা করবেন?

গত দুই-তিন বছর দ্বৈব চয়নের ভিত্তিতে আমাদের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা এক একটি হাসপাতালে ফোন দিয়েছেন। সেখানে কতজন উপস্থিত থাকার কথা, আর আছে কতজন সেটা তারা জানতেন৷ কখনো কখনো স্কাইপের মাধ্যমে কোনো কর্মকর্তাকে চাইলে ক্যামেরার সামনে আসতে বলতাম৷ এতে করেও আমরা সঠিক সময়ে তিনি এলেন কি-না সেটা নিশ্চিত হতে পারছিলাম না৷ ফলে আমরা জেলা হাসপাতাল, উপজেলা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ব্যবস্থা করি৷ সেখানে প্রত্যেককে আঙ্গুলের স্পর্শ দিয়ে প্রবেশ করতে হয় এবং বের হওয়ার সময়ও আঙ্গুলের স্পর্শ দিতে হয়৷ এর ফলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অনেক গতিশীল হয়েছে৷ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমেই এটা সম্ভব হয়েছে৷

আমরা জানি, আপনি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের সঙ্গে ছিলেন৷ এটা তো স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গেই কাজ করে৷ এটাকে মন্ত্রনালয়, ফ্যামিলি প্লানিং, সেবা পরিদফতরসহ অন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে তাদের সঙ্গেও এর ব্যবহার হচ্ছে না কেন?

আসলে আমরা যে ডিজিটাল প্রযুক্তি তৈরি করেছি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, এটা শুধু মন্ত্রনালয়, ফ্যামিলি প্ল্যানিং, সেবা পরিদফতর নয়, যে কোনো প্রতিষ্ঠানই ব্যবহার করতে পারবে৷ আমরা চাই পুরো দেশের জন্য একটি মাত্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা থাকবে৷ আমরা যে সফটওয়ার তৈরি করেছি, ডাটাবেজ তৈরি করেছি সেগুলো কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় কাজ করবে৷ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যে কাজ করছে না, এটা সত্য নয়৷ বরং তারা আমাদেরটাই ব্যবহার করছে৷ তবে হ্যাঁ, কিছু কিছু অধিদপ্তর, যেমন ধরেন ফ্যামিলি প্ল্যানিং- তাদের মধ্যে এটা ব্যবহারে কিছুটা অনীহা কাজ করে৷ তারা কি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে? কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এটা কাজ করে৷ আমরা ধীরেু ধীরে এটা কাটিয়ে উঠছি। আমাদের আগের পরিকল্পনা এই ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাবে৷ আগামী জানুয়ারি থেকে ৫ বছরের জন্য নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে৷ সেই পরিকল্পনায় কিন্তু একীভূত বা শক্তিশালী স্বাস্থ্য পরিকল্পনার কথা বলা আছে৷ সেটা আমরাই পরিচালনা করব৷ আমরা কারিগরি সহায়তা দেব৷ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর নিজেদের মতো করে এটা ব্যবহার করবে৷ এখানে সব তথ্য একীভূত হবে৷

আপনি কি কিছু যোগ করতে চান? লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়