1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

প্রকৃতির মাঝে শান্তি খুঁজে পান জেন গুডঅল

মানুষ পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বিষয় জানার মধ্য দিয়ে বড় হয়, তাঁদের সমর্থন পায় যা অন্যান্য প্রাণীরা পায়না৷ এ কথাটি জেন গুডঅলের৷ ব্রিটিশ, শিম্পাঞ্জি বিশেষজ্ঞ৷ যিনি কাজ করেন প্রাণীর অধিকার নিয়ে৷

default

জেন গুডঅল

শৈশবের অভিজ্ঞতা

জেন গুডঅলের জন্ম ১৯৩৪ সালের ৩ এপ্রিল৷ সুন্দর একটি পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন তিনি৷ মা ভান এবং নানী ড্যানি'র অনেক কিছুই প্রভাবিত করেছে তাঁকে৷ পরিবারই জেনকে আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছে৷ শিখিয়েছে সততা, সমবেদনা এবং অন্যদের সম্মান করার মতো মূল্যবোধগুলো৷ বাবা মর্টিমার গুডঅল থাকতেন সিঙ্গাপুরে৷ জেন যখন অনেক ছোটো বাবা তাঁকে একটি খেলনা শিম্পাঞ্জি উপহার দিয়েছিলেন৷ এর নাম জুবিলি, যা এখনও যত্ন করে রেখে দিয়েছেন জেন৷

জেন ছোটো থাকতেই তাঁর বাবা-মা'র বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়৷ তারপর থেকে তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে নানীর বাড়িতে থাকতেন৷ সেখানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ধরণের প্রাণী পুষতো৷ ছোটো থেকেই তিনি এসব প্রাণীদের সঙ্গে খেলা করতে এবং এদের যত্ন নিতে পছন্দ করতেন৷ ভাল বাসতেন সাগরতীরে একাকী বসে থাকতে যেখানে তিনি পোষা প্রাণীগুলোর সঙ্গে সময় কাটাতেন৷ গাছে চড়তে এবং সেখানে বসে বই পড়তেও পছন্দ করতেন৷ তিনি স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে ভ্রমণে বের হবেন এবং জীবজন্তুর সঙ্গে সময় কাটাবেন৷ তাঁর সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়৷ জেন বলেন, ‘‘শিম্পাঞ্জি নিয়ে গবেষণার জন্য একসময়

Primatenforscherin Jane Goodall mit Schimpansen

শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে গুডঅলের দারুণ সম্পর্ক

বছরের ৩শ দিনই আমাকে ভ্রমণ করতে হয়েছে৷''

শিম্পাঞ্জি নিয়ে গবেষণা

জেনের বয়স যখন ২৩ বছর, তিনি প্রথমবারের মতো ভ্রমণে যান৷ সেসময় তিনি কেনিয়াতে প্রত্নতত্ত্ববিদ লুইস লিকি'র সঙ্গে দেখা করেছিলেন৷ জেনের আন্তরিকতা ও বিচারবুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়ে শিম্পাঞ্জি নিয়ে একটি গবেষণা করার জন্য তাঁকে নির্বাচন করলেন লিকি৷ সেটা ছিল ১৯৬০ সাল৷ গবেষণাটি করার জন্য মা'কে সঙ্গে নিয়ে তানজানিয়ায় চলে গেলেন জেন৷ সেখানে চারমাস তাঁবুতে থাকতে হয়েছিলো তাঁদের৷ সেসময় বনে মহিষের দৌড়ানোর শব্দ এবং রাতে চিতাবাঘের ডাক শুনতেন তাঁরা৷ দেখতেন গোখুরা সাপের মতো প্রাণঘাতী প্রাণীদের৷

লিকি তাঁকে বলেছিলেন, তিনি যদি শান্ত থাকেন এবং এসব প্রাণীদের কোনো ক্ষতি না করেন তাহলে এরাও তাঁর কোনো ক্ষতি করবেনা৷ জেন পাহাড়ের চূড়ায় উঠে নিচের চমৎকার উপত্যকা এবং হ্রদের দিকে তাকিয়ে থাকতেন৷ শিম্পাঞ্জিদের দেখার জন্য বসে থাকতেন সেখানে৷ ধীরে ধীরে শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে দেখা মেলে তাঁর৷ প্রথম যে শিম্পাঞ্জিটি কাছে এসেছিলো সেটি ছিলো পুরুষ৷ তিনি ওটার নাম দিয়েছিলেন ডেভিড গ্রেবেয়ার্ড৷ জেন বলেন, ‘‘অন্যান্য শিম্পাঞ্জিরা ভয়ে দৌড়ে পালালেও সাদা লোমে মুখ ঢাকা ডেভিড ভয় পায়না৷ সে এগিয়ে আসে, আমার পাশে বসে৷''

সংসার জীবন

জেন ১৯৬৫ সালে নৃতত্ত্বে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন৷ এর আগে ১৯৬৪ সালে তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ফটোগ্রাফার হুগো ফান লাভিক'কে বিয়ে করেন৷ ১৯৬৭ সালে তাঁদের সন্তান এরিক লুইসের জন্ম হয়৷ এর কয়েক বছর পরেই লাভিক'এর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে৷ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন জেন৷ নিজেকে প্রশ্ন করেন জীবনের মানে কী? আবার নিজেই প্রেরণা যোগান নিজেকে৷

১৯৬৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক শিম্পাঞ্জির ওপর তাঁর গবেষণাটি নিয়ে টিভিতে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখায়৷ তখন থেকেই খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে জেনের৷ ১৯৭৫ সালে তানজানিয়ার ন্যাশনাল পার্কের পরিচালক ডেরেক ব্রাইসেসন'কে তিনি বিয়ে করেন৷ কিন্তু ১৯৭৯ সালেই ক্যানসারে মারা যান ডেরেক৷ সেসময়টা ছিলো জেনের সবচেয়ে খারাপ সময়৷ স্বামী মারা যাওয়ার কয়েকমাস আগেই তাঁরা দু'জন চলে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে৷ এরপর তিক্ত অভিজ্ঞতা ও জীবনের প্রতি ক্ষোভ নিয়ে তিনি আবার ফিরে আসেন আফ্রিকাতে৷ পরে শান্তি খুঁজে পান শিম্পাঞ্জিদের কথা ভেবে, যে প্রাকৃতিক দূর্যোগের মধ্যেও এরা বেঁচে থাকে৷ তিনি বিশ্বাস করেন, প্রকৃতিই একসময় মনের সব কষ্টকে হালকা করে দেয়৷

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন