1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় মাছ ধরার হিড়িক

একটা সময় শহরের প্রধান নদীই ছিল মাছশূন্য৷ সেই দিন আর নেই৷ প্যারিসে এখন নদী তো বটেই, এমনকি এখানে-ওখানে যে খালগুলো রয়েছে সেগুলোতেও অনেক মাছ৷ প্রতিদিন অনেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ছেন মাছ ধরতে৷ বঁড়শি ফেলে তুলে নিচ্ছেন বড় মাছ৷

Fischer Fischtrawler Frankreich Archivbild 2011

ফাইল ফটো

ফ্রান্সের রাজধানী শহরটিতে কয়েক বছর আগে সেন নদীতে মাছ ধরাও ছিল অকল্পনীয়৷ ১৯ শতকের আগে এ শহরেই ছিল জেলেদের ছড়াছড়ি৷ ফান গখের অসংখ্য ছবিতে তাঁর প্রমাণও আছে৷ কিন্তু শিল্পায়ন শুরুর পর থেকে প্যারিস থেকে জেলেরা যেমন উধাও হতে থাকেন, তেমনি সেন নদী থেকে মাছও হতে থাকে বিলুপ্ত৷ ১৯৯০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সেন নদী এবং শহরের অন্যান্য খাল পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিল ফরাসি সরকার৷

দশ বিলিয়ন ইউরো খরচ করে নদী আর খালে টলটলে পানি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মাছ ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ নেয়া হয়৷ সুফলটা দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন৷ সেন নদীতে এখন কমপক্ষে ৩০ রকমের মাছ৷ শহরে দেখা যাচ্ছে শত শত আধুনিক মাছ শিকারি৷ জিন্স আর টি শার্ট পরে, চোখে সান গ্লাসটা বসিয়েই বঁড়শি হাতে মাছ ধরতে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন তাঁরা৷ সহজেই মাছ উঠে আসছে বঁড়শিতে৷ ধরে আবার ছেড়েও দিচ্ছেন সেই মাছ!

প্যারিসের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছয় ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা এক ক্যাট ফিশ ধরেছেন কুয়েন্টিন নেসপুলাস৷ এত বড় মাছ ধরে তাঁর খুশি আর ধরেনা৷ ফ্রেড মিসনার খুশি তাঁর সামনে দাঁড়ানো ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর মাছ ধরায় দক্ষতা দেখে৷ এদের সবাইকে বিনা পয়সায় মাছ ধরা শিখিয়েছেন তিনি৷ ওরা মন দিয়ে শিখেছে, বৈধভাবে মাছ ধরার জন্য লাইসেন্স নিয়েছে এবং অবশেষে দল বেঁধে নেমে পড়েছে মাছ ধরতে৷ মিসনার জানালেন, প্যারিসের রাস্তায় মাছ ধরতে হলে লাইসেন্স থাকাটা জরুরি৷ লাইসেন্স পেয়ে গেলে একটা বঁড়শি আর কিছু মাছ ধরার টোপ নিয়ে নেমে পড়লই হলো, তখন আর মাছ ধরা ঠেকায় কে!

মিসনার আর তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা কেন মাছ ধরছেন? মজা করে খাওয়ার জন্য? মোটেই না৷ মিসনার বললেন, ‘‘প্যারিসে আমরা খাওয়ার জন্য মাছ ধরিনা৷ এখানে আমরা মাছ ধরি মাছ আর প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য৷'' মজার ব্যাপার হলো, ঘটা করে ধরার পরে মাছগুলো আবার পানিতেই ছেড়ে দেন মিসনার! তাঁর ছাত্র-ছাত্ররাও অনুসরণ করে তাঁকে৷

এসিবি/এসবি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন