1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্যারিসের পর নিস, আবার রক্তাক্ত ফ্রান্স

জাতীয় উৎসবের দিনে আবার সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলো ফ্রান্স৷ দক্ষিণের নিস শহরে আততায়ী ট্রাক চালিয়ে ও গুলি করে মানুষ হত্যার যজ্ঞে মেতে উঠলো৷ ঘটনার তদন্ত জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে৷

১৪ই জুলাই ফ্রান্সের জাতীয় দিবস৷ মূল অনুষ্ঠানটি প্যারিসে হলেও দেশের অন্যান্য শহরেও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয় দিনটি৷ ভূমধ্যসাগর উপকূলে বিলাসবহুল পর্যটনের জন্য পরিচিত নিস শহরের সমুদ্রতটেও এ দিন ছিল মানুষের ভিড়৷ সবার মনোযোগ ছিল আকাশে চমকপ্রদ আতশবাজির খেলার দিকে৷

রাত ১১টা নাগাদ সেই উৎসব শেষ হবার পর একটি বিশাল সাদা ট্রাক জনতার দিকে ধেয়ে আসে৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা গেল দুর্ঘটনা নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে যত বেশি সম্ভব মানুষ হত্যার লক্ষ্যেই চালক এগিয়ে চলেছে৷ চালক তার আসন থেকে হ্যান্ডগান বা পিস্তল দিয়ে জনতার উপর নির্বিচারে গুলিও চালাতে থাকে৷ প্রায় দুই কিলোমিটার চলার পর পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়৷ ততক্ষণে কমপক্ষে ৮৪ জন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে৷

শুক্রবার সকালেও ঘটনাস্থলে সেই ভয়াবহ ঘটনার ছাপ দেখা গেছে৷ শহরের হাসপাতালগুলিতে আহত মানুষ ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা গভীর উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন৷ অনেকে এখনো তাদের স্বজনদের খোঁজ করছেন৷

ফ্রান্সের সরকার এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেই বিবেচনা করছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকে আতাতায়ীর পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে৷ সে ছিল টিউনিশীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক৷ তবে এই কাজে তাকে অন্য কেউ সাহায্য করেছিল কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়৷

৩১ বছর বয়স্ক এই স্থানীয় বাসিন্দার নাম এর আগেও পুলিশের খাতায় উঠেছিল, তবে সেই অপরাধের গুরুত্ব তেমন ছিল না বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে৷ এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি৷ উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ফ্রান্সের ডিজঁ ও নঁৎ শহরে গাড়ি চালিয়ে এমন হামলার ঘটনা ঘটেছিল৷

গত নভেম্বর মাসে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর সরকার যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল, তার মেয়াদ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদের সরকার৷ নিস-এর ঘটনার পরেও ফ্রান্স সিরিয়া ও ইরাকে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে অভিযান চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর, বলেন ওলঁদ৷

ফ্রান্সে আবার হামলার পর গোটা বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই ঘটনার চরম নিন্দা জানিয়ে এই দুর্দিনে ‘অ্যামেরিকার সবচেয়ে পুরানো সহযোগী' দেশের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন৷

ইউরোপীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টুস্ক বলেন, ‘‘এটি ফ্রান্স ও ইউরোপের জন্য দুঃখের দিন৷ যারা হামলার শিকার হলেন, তারা ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মূলমন্ত্র, অর্থাৎ সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতা রক্ষার উৎসবে অংশ নিচ্ছিলেন৷ তাই এই ঘটনা আরও মর্মান্তিক৷''

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়