1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

প্যারিসেও এখন অটোরিক্সার চলাচল

প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় এখন দেখা মিলছে অটোরিক্সার৷ পর্যটকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই যান অবশ্য ট্র্যাফিক পুলিশদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ তবে বেকারদের ক্ষেত্রে এই ‘বেবি-ট্যাক্সি’ হয়ে উঠছে আর্শীবাদ৷

ঢাকা-কলকাতা থেকে ব্যাংকক – এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের রাস্তাতেই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে অটোরিক্সা৷ শহরের ভেতর চলাচলের জন্য এটা অন্যতম সহজ একটা মাধ্যম৷ কিন্তু ইউরোপের কোনো দেশে যদি বাস, ট্রেন, গাড়ির ভিড়ে হঠাৎ চোখে পড়ে একটা অটোরিক্সা, তাহলে নিশ্চয় অবাক হবেন?

হ্যাঁ, সেই অবাক করার বিষয়টিই এখন ঘটেছে ফ্রান্সে৷ প্যারিসের পর্যটন এলাকাগুলোতে এখন অটোরিক্সা বা বেবি-ট্যাক্সির ভিড় নজরে পড়ছে প্রায়ই৷ এমনকি কখনো-সখনো রিক্সারও দেখা মিলছে৷

২০১১ সালে ফ্রান্সের রাজপথে প্রথম দেখা গিয়েছিল অটোরিক্সা, যাকে সেখানে অবশ্য ডাকা হচ্ছে ‘টুক টুক' নামে৷ আজ সে সংখ্যাটা অনেক বেশি, প্রায় ৫০টির মতো৷ আইফেল টাওয়ার, ‘লুভরে' জাদুঘরের মতো পর্যটন এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি নজরে পড়বে এগুলো৷ এশিয়ার মতো বেশিরভাগ অটোরিক্সার রং প্যারিসেও বেশ উজ্জ্বল৷

অর্থনৈতিক মন্দা আর বেকারত্বের কারণে ফ্রান্সে এই ‘টুক টুক'-এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে৷ থাইল্যান্ড থেকে একটা অটোরিক্সা আমদানি করতে খরচ হয় প্রায় ৯ হাজার ইউরো৷ যদিও এশিয়ার দেশগুলোতে ট্যাক্সি ক্যাবের চেয়ে অটোরিক্সার ভাড়া কম, তবুও প্যারিসের পর্যটন এলাকায় ক্যাবের চেয়ে বেশি ভাড়াতেই অটোরিক্সায় সফর করছেন টুরিস্টরা৷ এ জন্য গড়ে অন্তত ২০ ইউরো খরচ করতে হচ্ছে তাঁদের৷

প্যারিসের এক অটোরিক্সা-চালক বললেন, সব জায়গায় বেকারত্ব, তাই তাঁরা চেষ্টা করছেন, পর্যটকদের ভালো লাগে এমন কিছু করতে এবং সেইসাথে কিছু উপার্জনই করতে৷ তবে সুড়ঙ্গ পথে প্রায়ই বিমা বা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজ-পত্রের জন্য পুলিশের হাতে নাজেহাল হওয়ার অভিযোগ তুলছেন চালকরা৷

এমনই এক চালক সোফিনে জানালেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন নিজের একটা অটোরিক্সা হবে এবং দিনে ৯০ থেকে ১০০ ইউরো উপার্জন করবেন৷ কিন্তু প্রায়ই কাগজ-পত্রের জন্য ৩৫ থেকে ১৩৫ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা দিতে হচ্ছে তাঁকে৷ তাই স্বপ্ন পূরণে সমস্যা একটা থেকেই যাচ্ছে৷

পুলিশের ভাষ্য হলো, প্যারিসে এমনিতেই যানজট সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়৷ তার মধ্যে অটোরিক্সা গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বার্তা সংস্থা এএফপি-কে একজন পুলিশ সদস্য জানান, যেহেতু ট্যাক্সির মতো এগুলো অনলাইন বা ফোনে আগে থেকে বুক করা যায় না, তাই প্রায়ই আইন লঙ্ঘন করেন চালকরা৷

ফ্রান্সের আইন অনুযায়ী, কেবল নিবন্ধিত ট্যাক্সিগুলোই যাত্রী পরিবহন করতে পারে৷ প্যারিসের ট্র্যাফিক পুলিশ প্রধান মেজর ব্যার্না বোলার বললেন, সবক্ষেত্রে এ আইন প্রয়োগ সম্ভব হয় না৷ কেননা দুই চাকা আর তিন চাকার আইন ভিন্ন৷ লাইসেন্স আছে এমন যে কেউ অটোরিক্সা কিনতে এবং চালাতে পারেন বলে জানালেন তিনি৷

পর্যটকরা অবশ্য প্যারিসে এসে অটোরিক্সা বা ‘টুক টুক'-এ চড়তে পেরে রীতিমত খুশি!

এপিবি / ডিজি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন