1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

প্যারালাইসিস থেকে মুক্তির উপায়

প্যারালাইসিস রোগ থেকে কিছুটা সেরে ওঠার পদ্ধতি হয়ত অনেকেরই জানা৷ কিন্তু এটা থেকে পুরোপুরি মুক্তির উপায় কি আজ পর্যন্ত বেরিয়েছে? না৷ সেই উপায়ই পরীক্ষা করে দেখছেন বিজ্ঞানীরা৷

default

প্যারালাইসিসে আক্রান্ত একজনকে হাঁটতে সাহায্য করছেন গবেষকরা

বানরদের মস্তিষ্কের গঠনের সাথে মানব মস্তিষ্কের যে মিল রয়েছে এটা সবারই জানা৷ আর সে জন্যই প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত রোগ সারানোর উপায় খুঁজতে বানরের উপর পরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ বানর কী ভাবে চিন্তা করে, ইলেকট্রোড কী ভাবে বার্তা পাঠায় এ সব নিয়েই গবেষণা তাঁদের৷

ল্যাবে চালানো এই পরীক্ষায় একটি রেসাস প্রজাতির বানরকে একটি জয় স্টিক চালাতে দেয়া হয় অন্য একটি বানরের নির্দেশ মেনে৷ প্রথম বানরটির মস্তিষ্ক পুরোপুরি তার মাংসপেশীর সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়৷

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মারিয়াম সানেচি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘‘আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি যে কেউ তার চিন্তাশক্তিকে ব্যবহার করে নিজের অচল অঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ এই পরীক্ষা সফল হলে একজন পক্ষাঘাত রোগী তার অচল অঙ্গের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন৷''

পরীক্ষাগারে একদল প্রকৌশলী এবং স্নায়ুবিজ্ঞানী কাজ করেছেন৷ তাঁরা বানরের মস্তিষ্কের ইলেকট্রোড কী ভাবে মেরুদণ্ডের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং ঐ বানরটির মস্তিষ্ক থেকে কম্পিউটারের সাহায্যে কী ভাবে স্নায়বিক তথ্য অন্য বানরের মস্তিষ্কে পাঠানো যায়, সেটা নিয়ে পরীক্ষা করেছেন৷

প্রথম বানরটি যার নাম রাখা হয়েছে ‘মাস্টার' তাকে একটি বিশেষ চেয়ারে বসানো হয়, তার সামনে রাখা হয় একটি কম্পিউটার স্ক্রিন৷ সেই স্ক্রিনে একটি কার্সার এবং একটি সবুজ গোলক দেখা যায়৷ কার্সার দিয়ে সবুজ গোলকের লক্ষ্য ভেদ করতে হবে৷ সেই বানরটির মস্তিষ্ক রাখা হয় পুরোপুরি শান্ত ও নিস্তেজ অর্থাৎ নিষ্ক্রিয়৷

দ্বিতীয় বানরটির নাম ‘অবতার'৷ যার বাহু একটি ৩৬০ ডিগ্রির জয় স্টিকের সাথে বেঁধে দেয়া হয়৷ যার সাহায্যে বানরটি কার্সারটির স্থান বদল করতে পারে এবং তাকেও একই ধরনের টার্গেট দেয়া হয়৷

মাস্টার যখন কার্সারটি নড়ানোর কথা ভাবে, তখন তার চিন্তাটাকে কম্পিউটারের সাহায্যে অবতারের স্পাইনাল কর্ড বা মেরুদণ্ডের মাধ্যমে স্নায়বিক তথ্য ঘুমন্ত অবতারের কাছে পৌঁছে যায় এবং তার মাংসপেশী সচল হয় ও জয় স্টিকটি নড়তে থাকে৷ যখনই কার্সারটি লক্ষ্যভেদ করে তখন মাস্টারকে পুরস্কার হিসেবে জুস দেয়া হয়৷

এর আগেও তথাকথিত ‘ব্রেন মেশিন ইন্টারফেসেস' বা বিএমআই-এর গবেষণায় দেখা গেছে, রোবোটিক্স হাত নিজের চিন্তা ব্যবহার করে কম্পিউটার কার্সার নড়াতে পারে৷ সানেচি এবং তাঁর দলের দাবি, তারাই প্রথম এই জিনিস আবিষ্কার করলেন, অর্থাৎ এক প্রাণীর চিন্তা শক্তির মাধ্যমে অন্য প্রাণীর অঙ্গ পরিচালিত করা৷

ফলাফলে এটাই প্রমাণ হয়, কেবল চিন্তা করেই কোন ব্যক্তি একটি বাহুকে দুই ডাইমেনশনে ব্যবহার করতে পারে, যদি মস্তিষ্কের সাথে মাংসপেশীর শারীরিক যোগাযোগ নাও থাকে৷ গবেষকরা জানিয়েছেন, মাস্টার ও অবতারের এই জুটি ৮৪ ভাগ ক্ষেত্রে লক্ষ্য ভেদে সফল হয়েছে৷

পক্ষাঘাতের কারণ

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্তের কারণে প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত হয়৷ বিশেষ করে স্পাইনাল কর্ডের ক্ষতিগ্রস্তের কারণে৷ সাধারণত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মাথায় কোনো রোগ, যেমন পারকিনসন্স অথবা মস্তিষ্কে কোনো আঘাত পেলে এমনটা হতে পারে৷

বিজ্ঞানীরা বহুদিন থেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীরা যাতে নিজেরাই অচল অঙ্গ পরিচালনা করতে পারেন সে চেষ্টা করে যাচ্ছেন৷ কিন্তু মস্তিষ্কের সংকেত পড়তে গিয়ে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হয়৷ কেননা মস্তিষ্কের সংকেত খুব জটিলভাবে মাংসপেশীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে৷

গ্লাসগোর স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান বার্নার্ড কনওয়ে বলেছেন, গবেষণাটি পক্ষাঘাত রোগমুক্তির একটি মাইলফলক৷

তবে ওষুধ দিয়ে অঙ্গ অচল করে দেয়া বানরের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা কাজ করলেও প্রকৃত পক্ষাঘাত রোগীর ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে তা পরিষ্কার নয়৷

এপিবি/এসবি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন