1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পোষ্য নিষিদ্ধ কলকাতার পার্কে

পোষ্য কুকুরদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়া নিষিদ্ধ কলকাতার ৬০০টিরও বেশি পার্কে৷ কারণ কুকুররা প্রাতঃকৃত্য করে, নোংরা হয় পার্কের বাগান, পথঘাট, কিন্তু সে সম্পর্কে উদাসীন থাকেন কুকুরের মালিকেরা৷

কলকাতায় গড়ের মাঠের পরেই সবথেকে যে বড় প্রাকৃতিক সবুজ এবং জলাশয়, সেই ঢাকুরিয়া লেকের এক ধারে, প্রায় পোড়ো এক ফালি ঘাসে ঢাকা জমিতে রোজ সকালে দেখা যায় তাঁদের৷ বিভিন্ন প্রজাতির কুকুরদের নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তাঁরা৷ এঁদের কেউ কুকুরের মাইনে করা ট্রেনার, কেউ নিজেরাই মালিক৷ অত বড় ঢাকুরিয়া লেকের আর কোথাও যাওয়ার অধিকার নেই তাঁদের বা তাঁদের কুকুরদের৷ ওই একটুখানি জায়গাতে যাবতীয় লম্ফঝম্প এই সব কুকুরদের, তার বাইরে পা রাখারও অনুমতি নেই৷ লেকের ধারে যাঁরা নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণে আসেন, তাঁরা নিয়মিত দল বেঁধে নালিশ করে একঘরে করেছেন ওই কুকুরদের৷

Bildergalerie Kahrizak Hunde im Iran

কলকাতার ৬০০টিরও বেশি পার্কে পোষ্য কুকুর নিয়ে বেড়াতে যাওয়া নিষিদ্ধ

শুধু ঢাকুরিয়া লেক নয়, কলকাতা পুরসভার অধীনে থাকা ৬০০টিরও বেশি পার্কের কোথাও কুকুরের প্রবেশাধিকার নেই৷ কারণ কুকুর মলমূত্র ত্যাগ করে পার্কের পরিবেশ নোংরা করে৷ কাজেই কুকুর যদি পুষতে হয়, নিজের ঘরের মধ্যেই তাকে নিয়ে কসরৎ করুন, এমনটাই অলিখিত ফতোয়া৷

অনেকে বলতে পারেন, কুকুর না পুষলেই তো হয়৷ কিন্তু কুকুর যে মানুষের সবথেকে বড় বন্ধু, সেটা এই সদাব্যস্ত সময়ে আরও বেশি করে প্রমাণ হচ্ছে৷ একটা সময় ছিল, যখন বৃহৎ একান্নবর্তী পরিবারে বাস করাটাই ছিল দস্তুর৷ সেই সব পরিবারে অথর্ব বৃদ্ধই হোক, বা অবোধ শিশু, তাদের দেখভাল করার লোকের অভাব ছিল না৷ কিন্তু এখন বড় পরিবার ভেঙে দুজন-তিনজন মানুষের ছোট ছোট পরিবার হয়ে গিয়ে আদরযত্ন পরের কথা, একাকিত্ব দূর করার সঙ্গীরও অভাব৷ পোষ্য সারমেয়রা সেই অভাব পূর্ণ করছে অনেক পরিবারেই৷ আবার অনেক বাড়িতে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বড় আকারের পাহারাদার কুকুর পোষা হচ্ছে৷ কিন্তু কুকুর যেমন আকৃতিরই হোক, তাকে নিয়মিত হাঁটতে-খেলতে দেওয়া, তার শরীরচর্চার সুযোগ রাখাটা জরুরি৷

কিন্তু শহরের পার্কগুলো কুকুরদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়ায় পোষ্য কুকুর, অথবা তাদের মালিক, অথবা দু'দলেরই স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে৷ পশুচিকিৎসকরা বলছেন, ইদানিং কুকুরদের মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা খুব বেড়ে গেছে৷ বিশেষ করে ল্যাব্রাডর বা অন্য হাউন্ড জাতীয় কুকুর, যাদের শরীরচর্চায় ঘাটতি হলেই চর্বি জমে যায়৷ সমস্যাটা শুনতে খুব হালকা মনে হলেও কুকুরদের ক্ষেত্রে প্রায়শই এটা প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়৷ কারণ শরীরে বাড়তি চর্বি জমে গেলে কুকুরদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়৷ এছাড়া বাতে কাবু হওয়া, বা তার থেকে পক্ষাঘাত হওয়ার বিপদও থাকে কুকুরদের৷

Bildergalerie Kahrizak Hunde im Iran

কুকুর মলমূত্র ত্যাগ করে পার্কের পরিবেশ নোংরা করে!

যে সব কুকুরের মালিক এ ব্যাপারে সচেতন, তাঁরা কুকুরের নিয়মিত শরীরচর্চার খাতিরে নিজেরা অনেক ভোরবেলায় উঠছেন৷ যাতে পার্কে ঢোকা না গেলেও অন্তত রাস্তাঘাটে কুকুরদের একটু দৌড় করানো যায়৷ কখনও কখনও ভোর চারটে-সাড়ে চারটেতেও উঠতে হচ্ছে, যাতে তাঁদের পোষ্যরা অন্য পথচারীর বিরক্তির কারণ না হয়৷ অনেক কুকুর মালিক আবার মাইনে করা প্রশিক্ষক রাখেন কুকুরদের ট্রেনিং দেওয়ার জন্য৷ এঁদেরও হয়েছে সমস্যা৷ কারণ, কুকুরদের নিয়ে এঁরা কোথায় গা ঘামাতে যাবেন, ভেবে পান না৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা জোটবদ্ধ হয়ে কোনও মাঠের এক কোণে, প্রায় জোর করেই কুকুরদের নিয়ে জড়ো হন, ট্রেনিং দেন৷

এই ট্রেনারদের বক্তব্য, যে কোনও সভ্য শহরে মানুষের পাশাপাশি, তাঁদের পোষ্যদের জন্যেও জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে৷ ভারতের মুম্বই শহরে এরকম আলাদা জায়গা করা থাকে পার্কের ভিতরে৷ ব্যাঙ্গালোরে কুকুরদের পার্কে নিয়ে যাওয়া যায় বিনা বাধায়৷ দিল্লি বা হায়দরাবাদেও কুকুরদের ব্যাপারে মানুষ অন্তত কলকাতার লোকেদের থেকে বেশি সহানুভূতিশীল৷ সেখানে কলকাতা কুকুর সহ্য করতে না পারলে কুকুরদের জন্য অন্তত কয়েকটি এলাকার পার্কে জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হোক৷

অন্যদিকে, সরাসরি পুরসভার বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন কুকুরপ্রেমীরা৷ তাঁদের বক্তব্য, রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে পুরসভার কোনও মাথাব্যথা নেই৷ কিন্তু পোষা কুকুর নিয়ে সহ নাগরিকেরা নালিশ করলেই তৎপর হয়ে ওঠে পুরকর্মীরা৷ দক্ষিণ শহরতলীর বাসিন্দা এক শিল্পী জানালেন, তিনি সে অর্থে পশুপ্রেমী নন, কিন্তু পাড়ার কয়েকটি কুকুরকে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুবেলা খেতে দিতেন মাত্র৷ প্রতিবেশীদের নালিশ পেয়ে স্থানীয় পুরকর্মীরা এসে তাঁদের ধমকে গিয়েছে, কুকুরদের খেতে এসে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, তাতে নাকি পাড়ার শান্তি নষ্ট হচ্ছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়