1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পোশাক যখন ভিডিওপুঞ্জ

পোশাকের মধ্যেই প্রযুক্তির প্রয়োগ কতটা চমক সৃষ্টি করতে পারে, তা মঞ্চ অথবা ফ্যাশন শো-য় মাঝে মধ্যে দেখা যায়৷ বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার মধ্যে মেলবন্ধন কিন্তু সহজ কাজ নয়৷ জার্মান ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজাইনাররা এমন অসাধ্য সাধন করছেন৷

গায়িকা এলি গোল্ডিং-এর মিউজিক ভিডিও-র লাইট এফেক্ট হোক, মঞ্চে ‘টেক দ্যাট' ব্যান্ড-এর এলইডি-লাগানো পোশাক হোক, কিংবা কাইলি মিনগ-এর লেজার-লাগানো মাইক্রোফোন স্ট্যান্ডই হোক৷ মঞ্চের কস্টিউমও হতে পারে বোনো এবং রিহানা-র জন্য৷

এ সবের কৃতিত্ব একজনের, যিনি নেপথ্যেই থাকেন৷ তিনি হলেন জার্মান ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজাইনার মোরিৎস ভাল্ডেমায়ার৷ শিল্প ও প্রযুক্তির সংযোগ নিয়েই তাঁর কাজ৷ প্রযুক্তি ডিজাইনার মোরিৎস ভাল্ডেমায়ার বলেন, ‘‘আমি অনেকটা দোভাষীর মত, যে প্রযুক্তির দুনিয়া ও সৃজনশীল দুনিয়ার মধ্যে অনুবাদের কাজ করতে পারে৷ এটা বেশ বিরল এক দক্ষতা৷ অবশ্যই এমন মানুষ রয়েছেন, যাঁরা শিল্পকলার জগতের হলেও প্রযুক্তির বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে৷ আর আমি প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছি৷ এটাই আমার ভিত্তি৷''

Lichtdesigner Moritz Waldemeyer

প্রযুক্তি ডিজাইনার মোরিৎস ভাল্ডেমায়ার

জটিল বিন্যাস

তাঁর অন্যতম কঠিন কাজ ছিল ২০০৭ সালে, যখন তিনি সাইপ্রাসের তুর্কি ফ্যাশন ডিজাইনার হুসেইন চালায়ান-এর সঙ্গে মোটর-চালিত, আলো-বসানো পোশাক সৃষ্টি করেছিলেন৷ ভাল্ডেমায়ার বলেন, ‘‘এমন পোশাক যা ভিডিও দেখাতে পারে – গোটা বিশ্বে এটাই ছিল প্রথম৷ কম সময়ে এমন কঠিন কাজ করার চ্যালেঞ্জ, এত জটিল এক সৃষ্টিকর্ম৷ সব কিছু মিলিয়ে খুবই রোমাঞ্চকর ব্যাপার হয়েছিল৷''

ভিডিও পোশাক তৈরি সহজ নয়৷ কাপড়ের মধ্যে তার বসিয়ে তার উপর ডাকটিকিটের মাপে প্ল্যাটিন সেলাই করে দেয়া হয়৷ প্রায় ১৫,০০০ এলইডি বাতি নানা রংয়ের ছটা সৃষ্টি করে৷ ভাল্ডেমায়ার বলেন, ‘‘এটা অনেকটা পাজল-এর মতো৷ এমন অসংখ্য সার্কিট রয়েছে, যার প্রত্যেকটি আলাদা ভিডিও প্লেয়ারের মতো৷ অর্থাৎ সব ক'টি একসঙ্গে চালু করলে যে যার অংশের ভিডিও দেখাবে৷ এত বড় জায়গা জুড়ে সেগুলি বসানো থাকায় মনে হয়, পোশাকের উপর যেন একটা গোটা ছবি দেখানো হচ্ছে৷''

‘মেকাট্রনিক্স'-এর ম্যাজিক

মোরিৎস লন্ডনে ‘মেকাট্রনিক্স' নিয়ে পড়াশোনা করেছেন৷ এ হলো মেকানিক্স, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য-প্রযুক্তির সংমিশ্রণ৷ প্রায় ৯ বছর আগে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল, যখন তিনি ডিজাইনার রন অ্যারাড-এর জন্য এক ঝাড়লণ্ঠনের ডিজাইন করেছিলেন, যাতে এসএমএস পাঠানো যায়৷ ভাল্ডেমায়ার বলেন, ‘‘এ যেন প্রযুক্তির সঙ্গে খেলা, এর সীমানা খুঁজে দেখা৷ এমন কাজ করা, যা কেউ আগে করার চেষ্টা করে নি৷ প্রতিটি প্রকল্পেই নতুন কিছু শেখা যায়৷''

মোরিৎস বহুকাল আগেই বিজ্ঞাপন জগতের সঙ্গে কাজ শুরু করেন৷ ২০১০ সালে জার্মান এক গাড়ি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে আলোর এফেক্ট সৃষ্টি করেন৷ ১৬ বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন তিনি৷ জার্মানির পূর্বাঞ্চলে হালে শহরে বেড়ে উঠেছেন তিনি৷ বিখ্যাত সব মানুষ ও বড় কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার ফলে তাঁর কাজ সবার নজর কাড়ছে৷ ভাল্ডেমায়ার বলেন, ‘‘বেশ ভালো এক পোর্টফোলিও তৈরি করতে পেরেছি বলে মনে হয়৷ তাতে আমারও অনেক নিজস্ব সৃষ্টি রয়েছে৷ অন্যান্য ডিজাইনারদের তুলনায় সে সব বেশ ভিন্ন হওয়ায় মানুষের তা ভালো লাগছে৷''

জার্মানির মোরিৎস ভাল্ডেমায়ার তাঁর জটিল প্রযুক্তিগত সৃষ্টিকর্ম দিয়ে ডিজাইনের সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা করছেন৷ এর ফলে তারকারাও সত্যি উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক