1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘পোশাক কারখানায় ৮০ হাজার নিরাপত্তা ত্রুটি’

ইউরোপভিত্তিক ক্রেতা গ্রুপ 'অ্যাকর্ড' বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ত্রুটি পেয়েছে৷ তারা জানিয়েছে যে, তাদের পরিদর্শনে দেশের কারখানাগুলোয় মোট ৮০ হাজার নিরাপত্তা সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে৷

‘দ্য অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ' সংক্ষেপে অ্যাকর্ড বাংলাদেশের এক হাজার ১০৬টি কারখানা পরিদর্শন করে৷ এই পরিদর্শনে বাইরে থেকে নিরাপত্তা প্রতিনিধিদেরও নিয়োগ করা হয়৷ পরিদর্শন গ্রুপটিতে ‘এইচঅ্যান্ডএম' ও ‘কেয়ারফর'-এর ১৮৯ জন বাণিজ্যিক প্রতিনিধি ছিলেন ৷

অ্যাকর্ড-এর প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শক ব্র্যাড লোবেন বলেছেন, ‘‘আমরা কারখানা পরিদর্শন করে নিরাপত্তায় অনেক অরাজকতা দেখেছি৷ কারখানার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খুবই কম পরিবর্তন হয়েছে৷'' পরিদর্শনের সময় কারখানার অগ্নি এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও ভবনের কাঠামোগত অবস্থা দেখা হয়েছে৷ এখন এইসব বিষয় নিয়ে কারখানা মালিকদের সঙ্গে কাজ করছেন পরিদর্শকরা৷

Erster Jahrestag des Einsturzes der Textilfabrik in Bangladesch (Bildergalerie)

বিজিএমইএ'র হিসাবে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে ২০৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছে

অ্যাকর্ড জানায়, তাদের নিরাপত্তা পরিদর্শক দল নিরাপত্তা সমস্যায় জর্জরিত ১৭টি কারখানা এখনই বন্ধের জন্য বাংলাদেশ রিভিউ কমিটিকে বলেছে৷ এর কারণ, তাদের মতে এই ভবনগুলো যে কোনো সময় ধসে পরতে পারে৷ এছাড়া ১১০টি কারাখানা ভবন ত্রটিপূর্ণ হলেও তা চালু রেখেই নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা যাবে জানিয়েছে তারা৷

অ্যাকর্ড মনে করে, সাধারণভাবে কোনো কোনো ভবনের ওপরের তলার জিনিস-পত্র সরিয়ে ফেলে নিরাপত্তা বাড়ানো যায়৷ তবে এর সঙ্গে ‘কলাম' শক্তিশালী করা এবং অনুমোদিত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে হবে৷

অ্যাকর্ড প্রতিটি কারখানার নিরাপত্তা উন্নয়নে দুই লাখ ৫০ হাজার ডলার করে সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানিয়েছে৷ গ্রুপটির আন্তর্জাতিক অপারেশন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক অ্যালান রবার্ট বলেন, ‘‘কিছু কিছু কারখানার ক্ষেত্রে এ ব্যয় দাঁড়াবে এক মিলিয়ন ডলার৷''

তিনি জানান, ‘‘পোশাক ত্রেতা এবং কারাখানার মালিকরা শ্রমিক নিরাপত্তার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন৷ ৪০০টি কারখানার নিরাপত্তা ত্রুটি ঠিক করতে কাজ শুরুর ব্যাপারে তাঁরা একমত হয়েছেন৷''

অপরদিকে, অ্যামেরিকার নেতৃত্বাধীন ক্রেতা গ্রুপ ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কাস সেফটি' সংক্ষেপে অ্যালয়েন্স জানিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশে ৫৮৭টি কারাখানা ঘুরে দেখেছে৷ তাদের ২৬ বাণিজ্যিক প্রতিনিধির মধ্যে ‘ওয়ালমার্ট', ‘গ্যাপ' ও ‘টার্গেট'-এর মতো প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে৷

গ্রুপটির সিনিয়র উপদেষ্টা ইয়ান স্পলদিং বলেন, ‘‘পরিদর্শন করার কাজটা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়৷ কিন্তু এর পরের কাজটাই সবচেয়ে কঠিন৷''

ইউরোপ ও অ্যামেরিকার বড় দুই ক্রেতা গ্রুপ অ্যাকর্ড এবং এবং অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের এক হাজার ৭০০টি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছে৷ তারা কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য কারখানা মালিকদের সঙ্গে কাজ করছে৷

গত বছরের এপ্রিল মাসে ঢাকার অদূরে সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর, বাংলাদেশের পোশাক কাখানায় শ্রমিক নিরাপত্তা, শ্রমিকদের মজুরি এবং অধিকার নিয়ে সমালোচনা হয়৷ এরপরই ক্রেতাদের দুটি গ্রুপ পোশাক কারখানার নিরপত্তা উন্নয়নে কাজ শুরু করে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়