1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পোল্যান্ডে ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হতে পারে'

কাউন্সিল অফ ইউরোপ মানবাধিকার গোষ্ঠীর ভেনিস কমিশন শুক্রবার এই মত দেয়৷ পটভূমিতে রয়েছে, পোল্যান্ডের রক্ষণশীল ‘পিস' সরকারের একাধিক বিতর্কিত সংস্কার, বিশেষ করে সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালকে কেন্দ্র করে৷

সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনাল হলো বস্তুত পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত৷ রক্ষণশীল আইন ও ন্যায়বিচার দল বা পিআইএস গত বছরের অক্টোবর মাসের সংসদীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর পরই সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের কর্মপদ্ধতি বদলানোর চেষ্টা করে৷ সংশ্লিষ্ট সংস্কার অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের ১৫ জন বিচারকের দুই-তৃতীয়াংশের ঐকমত্য ছাড়া কোনো রায় দেওয়া চলবে না৷ এছাড়া ট্রাইব্যুনালকে কালানুক্রমিকভাবে মামলার বিচার করতে হবে, কোনো মামলাকে অগ্রাধিকার দিলে চলবে না৷ বিরোধীদের চোখে এই দু'টি সূত্রই ট্রাইব্যুনালকে পুরোপুরি অকেজো করে তুলতে যথেষ্ট৷ এছাড়া ‘পিস' দল পূর্ববর্তী সরকারের মনোনীত তিনজন বিচারককে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করার ফলে ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বস্তুত ১২ জন বিচারক – কেননা ‘পিস' সরকারের মনোনীত তিনজন বিচারককে আসন দিতে রাজি হয়নি ট্রাইব্যুনাল৷

ট্রাইব্যুনাল তাদের গত মঙ্গলবার ও বুধবারের বৈঠকে স্থির করে যে, সরকারের আনীত নতুন সংস্কারগুলি অসংবিধানিক৷ ওদিকে সরকারের মতে ট্রাইব্যুনালের কোরাম না থাকার ফলে তার কোনো সিদ্ধান্ত নেবারই অধিকার নেই৷ নতুন আইন অনুযায়ী কোরামের জন্য ১২ জন বিচারকের পরিবর্তে প্যানেলে ১৩ জন বিচারক থাকা উচিত ছিল৷ ওদিকে ‘কড' বা কেওডি, অর্থাৎ গণতন্ত্র প্রতিরক্ষা কমিটির ডাকে সারা দেশ জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে উঠেছে৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেয়াটা সিডুও-র রক্ষণশীল সরকার তা-তে পিছপা হতে রাজি নন৷

Polen Warschau Verfassungsgerichtshof Richter Andrzej Rzeplinski

ট্রাইব্যুনাল স্থির করে যে, সরকারের আনীত নতুন সংস্কারগুলি অসংবিধানিক

পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিটোল্ড ভাজিকোভস্কি গত ডিসেম্বরেই এ-বিষয়ে কাউন্সিল অফ ইউরোপ মানবাধিকার গোষ্ঠীর মতামত জানতে চান – কেননা ততদিনে পোল্যান্ডের ঘটনাবলী নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, উভয় স্থানেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে৷ শুক্রবার কাউন্সিল অফ ইউরোপের উপদেষ্টা কমিটি তাদের মূল্যায়ন জ্ঞাপন করেছে৷ কমিশন বলছে, পোলিশ সরকার যদি সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালকে ‘‘পঙ্গু'' করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ চালিয়ে যান, তাহলে তা ‘‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ভিত্তিকে দুর্বল করবে''৷

কমিশনের মন্তব্যের যে খসড়া ইতিপূর্বে ফাঁস হয়েছিল, তার চেয়ে এ ভাষ্য অনেক বেশি নরম: দৃশ্যত সিডুও সরকারকে বিতর্কিত সংস্কার প্রত্যাহার করার সময় দেওয়া হচ্ছে৷ অবশ্য পোলিশ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেয়াটা সিডুও-র চাইতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেন তাঁর পার্টিপ্রধান ইয়ারোসুয়াভ কাচিনস্কি, যিনি ইতিপূর্বে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘‘আমরা নিজেরাই বিভিন্ন পোলিশ প্রশ্ন ও পোলিশ সমস্যার সমাধান করব....আমরা কোনো উপনিবেশ হবো না''৷

পোল্যান্ডে এখন যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতার হাওয়া চলেছে, অতীতের সলিডারিটি আন্দোলনের নায়ক লেচ ভাউয়েজা অবধি তার ঢেউ পৌঁছেছে৷ এই ধারা যদি চলতে থাকে, তাহলে তা যেমন পোল্যান্ড, তেমনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে টানাপোড়েন ও বৈপরীত্য সৃষ্টি করতে পারে৷

এসি/ডিজি (এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন