1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

পোড়ার ক্ষত সেরে গেলেও খুঁত থেকে যায় বাচ্চাদের

‘‘ছুরি, কাঁটা, কাঁচি, আলো (আগুন)'' ছোট বাচ্চাদের জন্য নয়৷ শিশু ভোলানো একটি ছড়ায় রয়েছে এই কথাগুলি৷ কারণ, মা-বাবারা একটু অসাবধান হলেই কিন্তু এগুলি থেকে নানা অঘটন ঘটে যেতে পারে৷ যার ফলে সারা জীবন বইতে হতে পারে সেই খুঁত৷

অনেক সময় এক মুহূর্তের ব্যাপার৷ মা কিংবা বাবা একটু অন্য দিকে ফিরলেই ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা৷ টেবিলের কাপড় ধরে একটু টান দিলেই গরম চা বা কফি গায়ে পড়ে পড়ে যেতে পারে বাচ্চার গায়ে৷

প্রতি বছর শিশুরা এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে

জার্মানিতে প্রতি বছর ১৫ বছরের নীচে ৩০,০০০-এরও বেশি শিশুদের পোড়া বা ঝলসানোর কারণে চিকিৎসা করতে হয়৷ এর মধ্যে ৬,০০০ জনকে হাসপাতালে নিতে হয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গলা, হাঁটু ইত্যাদি ঝলসে যায়৷ বলেন হামবুর্গ-আল্টোনার শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ইংগো ক্যোনিগস৷

টমের দুই বছরের জন্ম দিনের এক মাস আগে দুর্ঘটনাটি ঘটে৷ সেটা ছিল ২০০৮ সালের নভেম্বর মাস৷ ‘‘রান্নাঘরে বসে আমরা খাচ্ছিলাম, আঁকা-জোকা করছিলাম, টুকিটাকি জিনিস বানাচ্ছিলাম৷ হঠাৎ করে পানির কেটলিটা টান দিয়ে ফেলে দেয় সে৷ পানি কিছুটা ঠাণ্ডা হয়ে এলেও খারাপ কিছু ঘটানোর মতো গরম ছিল তখনও৷ টমের গলা, বাহু, ও শরীরের ওপরের দিকের গরম পানি গড়িয়ে পড়ে৷'' বলেন টমের মা সান্ড্রা স্ট্রিপেল৷

সাথে সাথে হাসপাতালে আনা হয় তাকে৷ রাখা হয় পাঁচ দিন কৃত্রিম কমাতে৷ পোড়ার ডিগ্রি ২ বি, শনাক্ত করা হয়৷ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দগ্ধের পরিমাণটা প্রায়ই এইরকম হয়ে থাকে৷ বলেন ডা. ক্যোনিগস৷

ক্ষত ভালো হলেও খুঁত চিরস্থায়ী হতে পারে

‘‘এতে ফোসকা পড়ে৷ আংশিক ফেটে যায়৷ এতে শুধু বহিস্ত্বকই নয় অন্তস্ত্বকেরও ক্ষতি হয়৷ অর্থাৎ ত্বকের দ্বিতীয় স্তর৷ এরপর থাকে নিম্নবর্তী ত্বক৷ তারপর থাকে পেশি ও তন্ত্রী৷

পোড়ার চিকিৎসায় প্রথমে ক্ষতটা পরিষ্কার করা হয়৷ ফোসকা অপসারণ করা হয়৷ এই সব অচেতন অবস্থায় করতে হয়৷ ডাক্তাররা যদি দেখেন ক্ষতটা গভীর, তাহলে চর্ম প্রতিস্থাপন করতে হয়৷ সাধারণত উরু থেকে চামড়া এনে পোড়া স্থানে জোড়া দেওয়া হয়৷ প্রতিদিন ক্ষতস্থানে কয়েকবার ক্রিম বা মলম লাগাতে হয়, যাতে জায়গাটা শক্ত হয়ে না যায়৷ এজন্য ভুক্তভোগী বাচ্চাদের মা-বাবার পাশে এসে দাঁড়ায় ‘পাউলিনশেন' সংস্থাটি৷ ১৯৯৩ সালে দুই পরিবারের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সংস্থাটি৷ তাদের নিজেদের পরিবারেও বাচ্চাদের পোড়ার ঘটনা রয়েছে৷ সংস্থার ৮০০ সদস্যের চাঁদা দিয়ে চলে এই সংগঠনটি৷ হটলাইনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী মা-বাবাকে পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হয় তাদের তরফ থেকে৷

ছোট বাচ্চাদের জন্য বেশি সমস্যাজনক

জ্বালা-পোড়া ভালো হয়ে গেলেও ক্ষত চিহ্ন থেকে যায়৷ ছোট বাচ্চদের জন্য এটা বেশি সমস্যাজনক৷ তাদের শারীরিক বর্ধনের সাথে সাথে খুঁতটা বাড়তে পারে না৷ এই ক্ষেত্রে ফিজিও থেরাপি বা অপারেশন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে৷ ‘‘মুখ মণ্ডলের মতো শরীরের দৃশ্যমান কিছু জায়গায় খুঁতটা দেখা গেলে বার বার সংশোধন করা প্রয়োজন হয়৷'' জানান ইংগো ক্যোনিগস৷ এর সাথে দেখা দেয় মানসিক সমস্যা বা ট্রমা৷ এসবের সঙ্গে লড়াই করে যেতে হয় ভুক্তভোগী বাচ্চাদের৷ আর সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় সমবয়সিদের ব্যঙ্গ বিদ্রূপ৷

সাধারণত এক থেকে তিন বছরের বাচ্চারাই এই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়৷ তারা তখন বিশ্বকে ‘আবিষ্কার' করতে চায়৷ এই বয়সে মা-বাবার বেশি সাবধান থাকা উচিত৷ গরম পানি, আগুন বা যে কোন দাহ্য পদার্থ থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখা উচিত৷ এক মুহূর্ত চোখের আড়াল করলে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা৷ ক্ষতটা ভালো হলেও খুঁতটা কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই থেকে যায় সারা জীবন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন