1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পোকার সঙ্গে ভিমরুল আর কাঠঠোকরাদের যুদ্ধ

উত্তর অ্যামেরিকা মহাদেশের পূর্ব উপকূলে অ্যাশ গাছেদের সংকট: এমারাল্ড অ্যাশ বোরার নামের একটা পোকা তাদের সর্বনাশ করছে৷ গাছগুলো একেবারেই যেত, যদি না সেই খবর পেয়ে কাঠঠোকরার দল এসে হাজির হতো!

পক্ষিবিশারদরা শুনলেই রাগ করবেন, কেননা কাঠঠোকরারা তো আর দঙ্গল বেঁধে বাস করে না৷ তবে তারা গাছের ফোকরে বাসা বাঁধে, আর গাছের বাকলে পোকামাকড় ঠুকরে খায়৷ অ্যাশ গাছের সবুজ পোকাটির ল্যাটিন নাম – এগ্রিলাস প্লানিপেনিস – বা ইংরেজি নাম –এমারাল্ড অ্যাশ বোরার – না জানলেও, কাঠঠোকরারা পোকাটিকে ভালোভাবেই চেনে ও দৃশ্যত সুখাদ্য বলে মনে করে৷

বিজ্ঞানীরা এমারাল্ড অ্যাশ বোরারকে চেনেন ২০০২ সাল যাবৎ, যখন মিচিগান রাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে পোকাটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়৷ এ পর্যন্ত সেই পোকা লক্ষ লক্ষ গাছের মৃত্যু ঘটিয়েছে৷ কাজেই তার মোকাবিলা করা দরকার – কিন্তু পন্থাটা কী?

Baum mit blauer Farbe Markierung Ottawa TreeAzin Kanada EAB Larve asiatischer Eschenprachtkäfer

অ্যাশ গাছে যৌনকর্মে লিপ্ত দু’টি এমারাল্ড অ্যাশ বোরার

বিজ্ঞানীরা যখন তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন, তখন ভালো খবর এসেছে ক্যানাডার রাজধানী অটাওয়ার পক্ষিবিশারদদের কাছ থেকে৷ তারা নাকি দেখেছেন, রাজধানী ও তার পারিপার্শ্বিকে কাঠঠোকরাদের সংখ্যা বেড়ে তিনগুণ হয়ে গেছে – সব রেকর্ড ভঙ্গ করে! আর এই কাঠঠোকরারা নাকি সকলেই অ্যাশ গাছে বাসা বেঁধেছে৷

যেমন অটাওয়ার কাছে প্রখ্যাত গ্যাটিনো পার্ক, যেখানে বহু অ্যাশ গাছ কাটতে হয়েছে৷ আজ গ্যাটিনোতে কাঠঠোকরাদের ভিড়৷ শক্ত ঠোঁট দিয়ে কাঠ ফুটো করে পোকামাকড় ধরার এক্সপার্ট এই সাদা-কালো, মাথায় একটি লাল ফুটকি দেওয়া পাখিটি৷ এদের জিভ খুব লম্বা আর চ্যাটচ্যাটে, তা-তে আবার সরু সরু লোম বসানো থাকে; পোকার সন্ধান পেলে পাখিরা ঐ জিভ দিয়েই সেই পোকা টেনে বার করে৷

বলতে কি, এমারাল্ড অ্যাশ বোরার পোকার চেয়ে তার কীটই অ্যাশ গাছের পক্ষে বেশি বিষাক্ত – কাঠঠোকরারা সেই কীটকেই গাছের বাকলের ভেতর থেকে টেনে বার করে আনে৷ সাদা সাদা এই কীটই গাছের মৃত্যু ঘটায়৷

কীটনাশক দিয়ে যে এই আপদ দূর করার চেষ্টা করা হয়নি, এমন নয়৷ কিন্তু গাছের পর গাছে ইনজেকশন দিয়ে বিষপ্রয়োগের খরচা পোষায়নি৷ এরপর ভিমরুল দিয়েও কীট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে, কেননা ভিমরুলরা এই ধরনের পোকার ডিম ও তার কীট খেয়ে থাকে৷ কিন্তু ছ'হাজার ভিমরুল আর কতটা করবে৷ সে হিসেব এখনও চলেছে৷

এরই মধ্যে মাঠে নেমে গেল কাঠঠোকরারা, যদিও তারা এমারাল্ড অ্যাশ বোরার-এর ডিম ধ্বংস করতে পারবে কিনা, সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের সন্দেহ আছে৷ ওদিকে বিপদ তো আর কমেনি, বরং বেড়েই চলেছে৷ অটাওয়ার ফরেস্ট্রি সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট জানাচ্ছে, পোকা লাগার প্রথম বছরে দু'শোটি গাছ কাটতে হয়েছিল; পরে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় সাত হাজারে!

আপাতত ক্যানাডার সবুজে ঢাকা সুদৃশ্য রাজধানীতে অ্যাশ গাছের সবুজ পোকার সঙ্গে ভিমরুল আর কাঠঠোকরাদের যুদ্ধ চলতে থাকুক...৷

কি বন্ধুরা, দারুণ মজার না গল্পটা৷ জানান কেমন লাগলো, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন