1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পোকামাকড়ের গুণাগুণ থেকে শিক্ষা

মাকড়সা, তেলাপোকা দেখে ভয়, ঘৃণা, বিরক্তি – কত কীই না হয়৷ পিঁপড়ার বাসা দেখে মুগ্ধ হতে হয়৷ শত্রুর মোকাবিলা থেকে শুরু করে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যে ক্ষমতা পোকামাকড়ের আছে, তা আয়ত্ত করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা৷

এশিয়ান লেডিবার্ড, ওয়্যাক্স মথ-এর শুঁয়োপোকা আর বারিয়িং বিটল৷ এই সব পোকামাড়ের অসাধারণ প্রতিভা৷ পৃথিবীতে পোকামাকড়ই নাকি সবচেয়ে সফল প্রজাতি৷ গিসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দ্রেয়াস ভিলচিনস্কা বলেন, ‘‘এই সাফল্যের কারণ আছে৷ যেমন পোকামাকড় এমন মলিকিউল বা অণু তৈরি করে, যা দিয়ে তারা শত্রুর মোকাবিলা করতে পারে৷ অথবা এমন এনজাইম, যা দিয়ে তারা বিভিন্ন রকম খাদ্য পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে৷ আমরা ঠিক এই আণবিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে মানুষের কাজে লাগাতে চাই৷''

এশিয়ান লেডিবার্ডের প্রাণশক্তি

ইউরোপীয় লেডিবার্ড-এর মতো এশিয়ান লেডিবার্ডও প্ল্যান্ট লাইস বা গাছপোকা খেতে ভালবাসে৷ এশিয়ান লেডিবার্ড কেন এত সাফল্যের সঙ্গে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পেরেছে, গবেষকরা তা জানতে পেরেছেন৷ তাদের রক্ত অন্য প্রজাতির লেডিবার্ডের জন্য বিষাক্ত হওয়ায় বাকিরাও তাদের খেয়ে ফেলতে পারে না৷ আন্দ্রেয়াস বলেন, ‘‘এশিয়াল লেডিবার্ড-এর মতো আক্রমণাত্মক প্রজাতির সঙ্গে স্থানীয় নিরীহ প্রজাতির লেডিবার্ড-এর ইমিইউন সিস্টেমের তুলনা করাই ছিল উদ্দেশ্য৷ এভাবেই আমরা রহস্য উন্মোচন করতে পারি৷''

প্রথমেই এশিয়ান লেডিবার্ড-এর ‘হেমো-লিম্ফ' বা রক্ত নেয়া হয়৷ কোনো সমস্যা ছাড়াই সামান্য ঝাঁকানি সহ্য করতে পারে এশিয়ান লেডিবার্ড৷ রক্ত নেয়ার পর তা একটা জেল-এর সঙ্গে মাখা হয়৷ তারপর ২৪ ঘণ্টার জন্য পরম চেম্বারে রাখা হয়৷

‘হারমোনিন' নামের পদার্থ যেখানে ছিল, ব্যাকটেরিয়া তার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে নি৷ আন্দ্রেয়াস বলেন, ‘‘আমরা এই ‘হারমোনিন' পরীক্ষা করে দেখেছি, এটা যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার মোকাবিলায় সক্রিয় হতে পারে৷ এমন পদার্থ প্রয়োগ করে যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার নতুন ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে৷''

ওয়্যাক্স মথ-এর প্রতিরোধ শক্তি

ওয়্যাক্স মথ-এর শুঁয়োপোকার কথাই ধরা যাক৷ এর গ্যাংগ্রিন বা দেহের কোনো অংশ অকেজো হতে পারে না৷ এই শুঁয়োপোকার শরীরে বিশেষ এনজাইম রোগব্যাধীর পরোয়া করে না৷ আন্দ্রেয়াস বলেন, ‘‘ওয়্যাক্সমথ-এর শুঁয়োপোকার একটি অণু নিয়ে গবেষণা সবে শুরু হয়েছে৷ এটা দিয়ে আমরা নতুন ধরনের ওষুধ তৈরি করতে চাই, যা একেবারে অন্যভাবে কাজ করবে৷''

এবার পরের ধাপ৷ বায়ো-টেকনোলজিস্টদের সহায়তায় অণুগুলির বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়৷ ভবিষ্যতে বড় আকারের উৎপাদনের পরিবেশই ফুটিয়ে তোলা হয় বায়ো-রিয়্যাক্টর-এর মধ্যে৷ তারপর সেই অ্যান্টিবায়োটিক এজেন্ট একটা জেল-এ মাখানো হয়৷ গিসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক সালৎসিশ বলেন, ‘‘প্রথমে আমাদের শুয়োরের ত্বকের মডেলে এটা পরীক্ষা করতে হবে৷ এর পরেও অনেকগুলি পদক্ষেপ বাকি রয়েছে৷ তারপরই এর প্রয়োগ ঘটতে পারে৷''

টিএইচ মিটেলহেসেন-এর ডেনিসে সালৎসিশ বলেন, ‘‘তবে এখনই বড় এক ওষুধ কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে৷ চূড়ান্ত ওষুধ তৈরি করার পথে তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়৷''

বারিয়িং বিটল-এর খাদ্য সংরক্ষণের কায়দা

বারিয়িং বিটল আবার তার উপর সহজে কোনো পরীক্ষা চালাতে দেয় না৷ তবে গবেষকরা ঠিকই জানতে পারছেন, কীভাবে সে তার খাবার সংরক্ষণ করে৷ জঙ্গলে মরা ইঁদুর পেলে এই পোকা নিজের থুতু দিয়ে সেটা মুড়ে মাটিতে পুঁতে দেয়, যাতে পরে প্রয়োজনে সেটি খেতে পারে৷ নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করলেও গবেষকরা তাকে খুঁজে নেন৷ আন্দ্রেয়াস বলেন, ‘‘এই পোকা যে এনজাইম দিয়ে মরা ইঁদুর হজম করে, তার নাগাল পাবার চেষ্টা করছি আমরা৷ খাদ্য সংরক্ষণ শিল্প ও প্রযুক্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটা জানা জরুরি৷''

প্রতিভার এই প্রতিযোগিতায় কোনো একজনের জয় হয় না৷ অনেক পোকামাকড়ের এমন সব ক্ষমতা রয়েছে, যা মানুষের কাজে লাগতে পারে৷ গবেষকদের শুধু ধৈর্য ধরে সে সব আবিষ্কার করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক