পেরুর আদিবাসীদের বাঁচার লড়াই | অন্বেষণ | DW | 17.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পেরুর আদিবাসীদের বাঁচার লড়াই

বিশ্বায়ন ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলির প্রভাব প্রতিপত্তির সামনে বিশ্বের অনেক প্রান্তে আদিবাসী সম্প্রদায় আজ অসহায় ও বিপন্ন হয়ে উঠেছে৷ পেরুর আদিবাসীরাও এমনই এক বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন৷

পেরুরর উকাইলি জঙ্গল৷ দেশের অন্য কোথাও গাছ কেটে এই মাত্রায় জঙ্গল সাফ করা হয়নি৷ রবার্ট গিমারেস আদিবাসীদের এক গ্রামের দিকে চলেছেন৷ শুধু নৌকায় করে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব৷

তিনি পেরুর এই অংশে আদিবাসী সমাজের নেতা৷ রেন ফরেস্টের গভীরে এই গ্রামেই তাঁর জন্ম৷ এখন সেখানে বেশি যাতায়াত নেই৷ জায়গাটা তাঁর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে৷ রবার্ট গিমারেস বলেন, ‘‘হত্যার অনেক হুমকি পেয়েছি৷ আমার বাড়িতেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে৷ পরের বার কাজের সময় গ্রামে তাদের সঙ্গে দেখা না হওয়াই ভালো৷ কঠিন বিপদে রয়েছি বলে আমার বিশ্বাস৷''

তিনি এই অঞ্চলে বিশাল আকারে গাছ কাটার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছেন৷ তাঁর বিরোধীরা অত্যন্ত শক্তিশালী৷ তিনি কখনো একা সেখানে যান না৷ এবার তাঁর সঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশানাল সংগঠনের পেরু শাখার প্রতিনিধিরা রয়েছেন৷

তাঁরা সান্টা ক্লারা দে উচুনিয়ায় যাচ্ছেন৷ দেশের অন্যতম সংকটময় এলাকা সেটি৷ আদিবাসীদের সঙ্গে কোকো ও তালের তেল কোম্পানিগুলির সংঘাত চলছে৷

গাঁয়ের মোড়ল কার্লস ওইওস লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সাপ্তাহিক সভার জানান দিচ্ছেন৷ সেখানে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়৷ স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রামের অদূরে তালের তেলের নতুন প্লান্টেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন৷ কার্লস বলেন, ‘‘আমরা কখনো ভাবিনি, যে বহুজাতিক কোম্পানিগুলির সঙ্গে এমন সমস্যা হবে৷''

নদীর ওপারে বড় আকারে জঙ্গল কেটেতালগাছ লাগানো হয়েছে৷ সেখানে সবার প্রবেশ নিষেধ৷ এমনকি ড্রোন ব্যবহার করেও কাছে যাওয়ার উপায় নেই, কারণ কাছে গেলেই সিগনালে বিঘ্ন ঘটানো হয়৷

গ্রামের পরিবেশ বদলে গেছে৷ অতীতে এখানকার মানুষ মাছ ধরতো এবং শিকার করতো৷ এখন গোটা অঞ্চলে আর বেশি বড় প্রাণী অবশিষ্ট নেই৷ পাখিরও প্রায় দেখা মেলে না৷ কিন্তু তার বদলে মশার উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে৷ ফলে আদিবাসীরা আর নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী বসবাস করতে পারছেন না৷ কার্লস ওইওস বলেন, ‘‘আমরা শিকার করে, মাছ ধরে, জঙ্গলের সম্পদ ব্যবহার করে বেঁচে থাকি৷ মাটি ছাড়া আদিবাসী সমাজের অস্তিত্ব কীভাবে সম্ভব!''

এবার এই গ্রামের কর্তৃপক্ষ ২০,০০০ হেক্টর এলাকাকে পূর্বপুরুষের জমি ঘোষণা করিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবার চেষ্টা করছে৷ সে কারণেই নাকি তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ হিংসা ছড়িয়ে পড়ছে৷ কয়েক মাস আগে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে পাঁচজন চাষির মৃতদেহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল৷ সরকারি তদন্তে খুনির সন্ধান পাওয়া যায়নি৷ কিন্তু বড় ব্যবসায়ীরা রাতারাতি এত জমি কীভাবে দখল করে?

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশানাল সংগঠনের হয়ে প্রোয়েটিকা নামের সংগঠন ঘটনার তদন্ত করে দুর্নীতির দৃষ্টান্তগুলি নথিভুক্ত করেছে৷ এখন তারা স্থানীয় মানুষদের তা জানাতে চায়৷ প্রোয়েটিকার প্রতিনিধি মাগালি এভিলা বলেন,‘‘আমরা গাছকাটা, বেআইনি জমির ব্যবসা ও সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির মধ্যে যোগসূত্র স্পষ্ট করে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম৷ বহুদিন ধরে অনেক গুজব শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছিল না৷''

এই সংগঠন সব নথিপত্র একত্র করেছে এবং অসংখ্য সাক্ষাৎকার নিয়েছে৷ এই অঞ্চলে ব্যবসায়ীক চুক্তিগুলির ক্ষেত্রে চেক প্রজাতন্ত্রের ব্যবসায়ী ডেনিস মেলকা-র নাম বার বার উঠে এসেছে৷

এবার রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলিও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন৷ মেলকা-র কোম্পানিগুলি সব মিলিয়ে প্রায় ১৩,০০০ হেক্টর জমি দখল করে গাছ কাটতে পেরেছে৷ সেখানে তালের তেল ও কোকো প্লান্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে৷ স্থানীয় দূর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকরা সেই কাজে সহায়তা করেছেন৷ প্রচলিত আইনগুলিকে রাতারাতি অবৈধ ঘোষণা করে পরোক্ষভাবে কোম্পানির হাতে জমির অধিকার তুলে দেওয়া হয়েছে৷

আঞ্চলিক রাজধানী পুকালপা-য় দুই চাষির সঙ্গে দেখা হলো৷ একমাত্র হোটেলের নিরাপদ আশ্রয়ে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান৷ ২০১৪ সালে আচমকা তাঁদের মালিকানার নথিপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল৷ এখন তাঁদের হারানো জমিতে তালগাছ বেড়ে উঠছে৷

পুলিশের কাছে নালিশ করার পর একজনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ হুমকি সত্ত্বেও মামলা বন্ধ করা হয়নি৷ কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে, কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু সমস্যার কোনো সুরাহা হয় নি৷ চাষিরা বাইরে থেকে সহায়তার আশায় রয়েছেন৷ তাঁদেরই একজন রুবেন ডিয়াস কিন্চো৷ তিনি বলেন, ‘‘এখনো আমাদের মনে আশা রয়েছে, যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে৷ আন্তর্জাতিক সংগঠন, পরিবেশ সংগঠনগুলি হস্তক্ষেপ করে একসঙ্গে কিছু করবে৷''

সান্টা ক্লারা দে উচুনিয়া গ্রামে ফেরা যাক৷ গ্রামের হর্তাকর্তারা পরে জানিয়েছেন, যে ক্যামেরা টিম চলে যাবার কয়েক ঘণ্টা পর সশস্ত্র লোকজন সেখানে টহল দিয়েছে৷ গ্রামবাসীদের মতে, প্লান্টেশন মালিক এভাবে তাদের শাসাতে চেয়েছে৷

দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে নিজেদের জীবনযাত্রা অক্ষত রাখতে হলে গ্রামবাসীকে আরও ধৈর্য ধরতে হবে৷

কাটিয়া ড্যোনে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক