1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পৃথিবীর মতো গ্রহ আবিষ্কারে চাঞ্চল্য

আমাদের সৌরজগতের ‘কাছে' এমন একটি গ্রহ শনাক্ত করা গেছে, যার সঙ্গে পৃথিবীর অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে৷ অর্থাৎ সেখানে প্রাণের বিকাশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

অন্য গ্রহে প্রাণের সন্ধানের স্পৃহা এমন একটা সময় থেকে চলে আসছে, যখন এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি শুধু কল্পনা বা কল্পবিজ্ঞানের জগতেই পাওয়া যেত৷ তারপর বিচ্ছিন্নভাবে মহাকাশ থেকে রেডিও সংকেত শোনার উদ্যোগ শুরু হলো৷ তারপর এলো ‘সেটি' বা ‘সার্চ ফর এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল ইনটেলিজেন্স' নামের এক সার্বিক উদ্যোগ৷ এর মধ্যে পাইওনিয়ার ও ভয়েজার মহাকাশযান পৃথিবীর মানুষের বার্তা নিয়ে রওনা হয়ে আমাদের সৌরজগত ছেড়ে মহাকাশের গভীরে চলে গেছে৷ প্রযুক্তির আরও উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অনেক নতুন উদ্যোগও যোগ হয়েছে৷

আমাদের সৌরজগত ও পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধান এর অন্যতম৷ ‘এক্সোপ্ল্যানেট' পর্যায়ের গ্রহগুলির পরিবেশ প্রাণ সৃষ্টির উপযুক্ত বলে ধরে নেওয়া হয়৷ কিন্তু শতশত আলোকবর্ষ দূরের এই সব জগত সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা আজও মানুষের হাতে আসেনি৷ তবে বিজ্ঞানীদের কাছে এটা প্রথম পদক্ষেপ৷'

এমনই এক ‘এক্সোপ্ল্যানেট'-এর আবিষ্কার নতুন করে আলোড়ন তুলেছে৷ সিগনাস নক্ষত্রমণ্ডলের এই গ্রহটি প্রায় ১,৪০০ আলোকবর্ষ দূরে৷ নাসা-র কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ এটির সন্ধান পেয়েছে৷ আপাতত তার নাম রাখা হয়েছে কেপলার-৪৫২বি৷ গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বড়৷ সেটি যে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে, সেটি আয়তন ও উত্তাপের নিরিখে আমাদের সূর্যেরই মতো, তবে তার বয়স বেশি৷ বয়সের বিষয়টি প্রাণের সম্ভাবনার জন্য বিশেষ তাৎপর্য রাখে৷ কারণ প্রায় ৬০০ কোটি বছর প্রাচীন এই নক্ষত্রের কাছে গ্রহটি এত সময় কাটিয়েছে৷ ফলে সেখানে প্রাণ সৃষ্টির সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মনে করেন নাসা-র বিজ্ঞানী জোন জেনকিন্স৷ গ্রহটির এক বছর হয় ৩৮৫ দিনে৷ গ্রহটির সঙ্গে নক্ষত্রের দূরত্ব পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্বের তুলনায় সামান্য বেশি৷ অঙ্কের হিসেব অনুযায়ী, এই গ্রহের পৃষ্ঠ বেশ পাথুরে, বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত ঘন এবং হয়ত সেখানে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিও রয়েছে৷ মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর প্রায় দ্বিগুণ৷

উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে কেপলার টেলিস্কোপ আমাদের সৌরজগতের কাছের নক্ষত্রগুলিতে পৃথিবীর মতো গ্রহের খোঁজ করে চলেছে৷ এখনো পর্যন্ত মোট ১,০৩০টি গ্রহ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা গেছে৷ তাছাড়া প্রায় ৪,৭০০ ‘প্রার্থী' গ্রহ রয়েছে৷ ১১টি গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর বিশেষ মিল পাওয়া গেছে, যেগুলির মধ্যে ৯টির নক্ষত্র আমাদের সূর্যের মতো৷

অন্য গ্রহে প্রাণীদের খোঁজার ক্ষেত্রে সম্প্রতি আরও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং গত সোমবারই প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্যের এক ১০ বছর ব্যাপী প্রকল্প চালু করেছেন৷ রুশ শিল্পপতি ইউরি মিলনার ‘ব্রেকথ্রু লিসন' নামের এই উদ্যোগের অর্থায়ন করছেন৷ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বুদ্ধিমান প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করাই এর উদ্দেশ্য৷ ব্রহ্মাণ্ডের এত গভীরে এর আগে অনুসন্ধান চালানো হয়নি৷ আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে আরও ভালোভাবে তাদের পাঠানো সংকেত খোঁজা সম্ভব৷ এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তা সব মানুষের নাগালে রাখা হবে৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়