1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

চিলি

পৃথিবীর বৃহত্তম টেলিস্কোপ নির্মাণ হচ্ছে চিলিতে

চিলির আটাকামা মরুভূমিতে শুরু হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম টেলিস্কোপ স্থাপনের কাজ৷ ৩৯ মিটার ব্যাস বিশিষ্ট লেন্সের এই টেলিস্কোপকে বলা হচ্ছে এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ বা ইএলটি, যা হবে পৃথিবী থেকে আকাশ দেখার সর্ববৃহৎ চোখ৷

টেলিস্কোপটি মহাকাশে বাসযোগ্য গ্রহ অনুসন্ধানে, ডার্ক ম্যাটার এবং কৃষ্ণ গহ্বর সংক্রান্ত গবেষণা প্রচেষ্টাকে নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

১৫টি ইউরোপীয় দেশ ও ব্রাজিলের সমন্বয়ে গঠিত সংঘ সাউদার্ন অবজার্ভেটরি (ইএসও) এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে৷ এই সংস্থাই চিলির অন্য বড় টেলিস্কোপগুলা চালাচ্ছে৷

কেরো আরমাজোনস নামে যে স্থানে এই টেলিস্কোপটি স্থাপন করা হয়েছে, সেটি চিলির আন্টোফাগাস্টা শহরের ১৩০ কিমি. দক্ষিণে অবস্থিত৷

দু'বছর আগে এখানে একটি পাহাড়ের উপরিভাগকে সমতল করা হয়েছে, যাতে প্রকৌশল বিদ্যার উচ্চভিলাসী এই কাজ শুরু করা যায়৷ যেখানে ৮০মিটার উঁচু গম্বুজের সঙ্গে এমন একটি জানালা থাকবে, যেটি তারকারাজির আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরবে৷ এই নির্মাণ কাজ আগামী ২৬ মে শুরু হওয়ার কথা, যেটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ 

ভিডিও দেখুন 01:15

মহাকাশ বর্জ্য – একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা

সম্প্রতি মাদ্রিদে বার্তা সংস্থা ডিপিএকে ইএসও-র মহাপরিচালক টিম ডে জুউ বলেন, বিদ্যমান টেলিস্কোপ ও এই ইএলটির মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, যেমনটা গ্যালিলিওর খোলা চোখ এবং তার টেলিস্কোপের মধ্যে ছিল৷

এই টেলিস্কোপটির মিরর বিদ্যমান যে কোনো টেলিস্কোপের চেয়ে অন্তত পাঁচগুণ বড়৷ এটা বিদ্যমান টেলিস্কোপগুলোর চেয়ে ১৩ গুণ বেশি আলো একত্রিত করতে পারে, এটা ছবিকেও অনেক বেশি স্পষ্ট করবে৷

সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব কিনা, সেটা খুঁজে বের করা এই টেলিস্কোপের অন্যতম উদ্দেশ্য৷ আকৃতির কারণেই এটি অনেক বড় ছবি তুলতে পারবে, যাতে সম্ভবত ওই সব গ্রহের পরিবেশের গুনাগুন সরাসরি পরিমাপ করা যাবে৷

ডে জুউ বলেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌরজগতের বাইরের প্রথম বাসযোগ্য গ্রহ এক দশকের মধ্যেই আবিষ্কার হতে পারে৷

এটা একটু অন্য রকম যে, আতাকামা মরুভূমির মতো দুর্গম স্থানে স্থাপন করা এই টেলিস্কোপটা অন্য গ্রহের প্রাণের প্রমাণ পেতে সাহায্য করতে পারে৷

এটা এমন এক মরুভূমি, যেটা পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থানের একটি৷ ১ লাখ ৫ হাজার বর্গ কিমি. আয়তনের এই মরুভূমির কোনো কোনো স্থানে কখনো বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে রেকর্ডে নেই৷ জায়গাটা অবশ্য মহাশূন্য পর্যবেক্ষণের জন্য উপযোগী জায়গা৷ এখানকার রাতের আকাশ সাধারণত পরিষ্কার থাকে৷ 

নির্মাণের সময় এই টেলিস্কোপের পাঁচটা মিরর থাকবে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টা হবে প্রাথমিকভাবে ৩৯ মিটার ব্যাসের৷ ১ দশমিক ৪ মিটার ব্যাসের অনেকগুলো ষড়ভূজাকার অংশ একত্রিত করে এটা তৈরি করা হবে৷

ডে জুউ বলেন, এই আকারের একটা আয়না তৈরি কিভাবে সম্ভব সেটা কারোরই জানা নেই৷ এমনকি কেউ সেটা করতে পারলেও সেখানে বহন করে নিয়ে যাওয়া অসম্ভত৷

১ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো খরচে নির্মিতব্য এই প্রকল্প মূলত ইউরোপীয় দাতাদের টাকায় হচ্ছে৷ প্রকল্পটির কথা প্রথমে নব্বইয়ের দশকে ভাবা হয়, যখন ইএসও ১০০ মিটার ব্যাসের একটি টেলিস্কোপ নির্মাণ করতে চেয়েছিল৷

এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ইউরো খরচ হত৷ পরে এটাকে কমিয়ে ৩৯ মিটারে নিয়ে আসা হয়৷

বড় আকারের টেলিস্কোপ নির্মাণে এটিই একমাত্র উদ্যোগ নয়৷ যুক্তরাষ্ট্রে ৩০মিটার ব্যাসের একটি টেলিস্কোপ নির্মাণে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে৷

একুশ শতকের প্রথম দিকে এ ধরনের বেশ কিছু উদ্যোগ ইউরোপেও নেওয়া হয়৷ পরে একত্রে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে তাদের আলাদা আলাদা সেই উদ্যোগ থেকে সরিয়ে আনা হয়৷

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন ডে জুউ৷ তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা যে কারও মান বাড়াতে সাহায্য করে৷

এসএন/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও