1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

পৃথিবীতে বেড়ে যাচ্ছে বাতাস, বিপদের হাতছানি

বিশাল বিপদের হাতছানি দিচ্ছে বাতাস! কথাটা শুনে অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন বাতাস আবার কী করে বিপদ বয়ে আনছে? কিন্তু এ কথাই সত্যি – জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷

default

পৃথিবীতে বাতাস বাড়ছে

পৃথিবীতে বাতাস বেড়ে যাচ্ছে৷ আর এই বাড়তি বাতাসের অবস্থান এখন মহাসাগরগুলোর উপরে৷ নতুন একটি গবেষণায় এমন গুরুত্বপূর্ণ অথচ ভীত হবার মতোই বিষয়টিই তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা৷ তাঁরা নানা তথ্য উপাত্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখতে পেয়েছেন, সাগরের উপরের সবচেয়ে উচ্চ স্তরের বাতাসের পরিমাণ বেড়েছে গত ২৩ বছরে সবচেয়ে বেশি৷

কিন্তু কী কারণে বেড়ে গেলো বাতাসের পরিমাণ? প্রশ্নের সঠিক উত্তরটা কি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন? না, এ কথা সরাসরি বলছেন না তারা৷ হতে পারে এটা নিছকই প্রকৃতির খেয়াল৷ আর প্রাকৃতিক ভাবেই দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে জমা হয়ে নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে এটি – এমনটাও বলছেন বিজ্ঞানীরা৷ সঠিক কারণ অনুসন্ধানে উঠে পড়ে লেগেছেন তারা৷

কিন্তু কথা হলো এই বাতাস বৃদ্ধির এখনকার হারটি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে বিপদ এই বিশ্ববাসীর জন্য৷ সমুদ্রে বাতাসের এই ঘূর্ণমান গতির কারণে জন্ম নেবে অনেক ঘূর্ণিঝড়৷ আর হ্যারিকেন নামক এই সব ঝড় হবে প্রচণ্ড শক্তি সম্পন্ন৷ এক কথায় মহাশক্তিধর হয়ে এ ঝড় যেখানে আঘাত হানবে, সেখানেই হবে ধ্বংসলীলা৷ আর এগুলো এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে লণ্ডভণ্ড করে দেবে অনেক জনপদ৷

Frances auf dem Weg nach Florida

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উপকূলে হারিকেন বা ঘূর্ণিঝড়

বিজ্ঞান ভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় এই গবেষণা প্রতিবেদনটি৷ অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আবহাওয়া বিষয়ক গবেষক ইয়ান ইয়ং এবং তাঁর সহকর্মীরা বেশ কয়েক বছর ধরে এই গবেষণাটি করছিলেন৷ শেষ পর্যায়ে এসে তারা তাদের খুঁজে পাওয়া তথ্য পৃথিবীবাসীর সামনে উপস্থাপন করলেন৷ বললেন, আমরা সমুদ্রের আকাশে এই বাতাসের অস্তিত্ব দেখতে পাচ্ছি৷ আর এটা অবশ্যই নীচের দিকে নেমে আসবে৷ তিনি জানান, আমরা এই বিষয়টি লক্ষ্য করছি পুরো বিশ্বব্যাপী, তা উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধ পর্যন্ত, সর্বত্র৷ আর এটার অবস্থান যে দীর্ঘ মেয়াদী, তাও আমরা বুঝতে পারছি৷ আর এই বাতাসের কারণে সাগরে ঢেউ এর পরিমাণও যে বেড়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷

Symbolbild Grafik Seebeben Tsunami Erdbeben Flutkatastrophe

বাড়বে ঢেউ’এর উচ্চতা

কেবল ঢেউ এর পরিমাণ বেড়ে যাওয়া নয়, একই সঙ্গে বেড়ে যাবে ঢেউ-এর উচ্চতাও৷ এর কিছু উদাহরণও বিজ্ঞানীদের দেখেছেন বলেই জানা গেলো৷ সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা আরেকটি কারণে বিজ্ঞানীদের নজরে সব সময় থাকছে, কারণ, এর সঙ্গে উষ্ণতা এবং নানা ধরণের গ্যাসের অস্তিত্ব বুঝতে সহায়তা করে৷

গবেষকরা এই কাজের জন্য সাতটি মহাসাগরের ১৯৮৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আকাশ বাতাসের সমস্ত ডাটা-উপাত্ত পরীক্ষা করেছেন৷ এরপর তাঁরা পাঁচটি ভিন্ন ধরণের পরীক্ষার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি নিরীক্ষা করেছেন৷ সবগুলো পরীক্ষার একই ফলাফল এসেছে৷ আর মাঠ পর্যায়ে তো তারা নেমেইছিলেন৷ সব মিলিয়ে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, পৃথিবীতে বাতাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে৷

বিজ্ঞানী বলছেন, গত দুই শতকে সমুদ্রে বাতাসের পরিমাণ খুব একটা বাড়েনি৷ কিন্তু চলতি শতাব্দীতে ঘটছে এর বিপরীত ঘটনা৷ ফি বছর দ্রুতগামী বাতাসের পরিমাণটা বাড়ছে দশমিক ৫০ শতাংশ হারে৷ আর সমুদ্রে বড় ঢেউ এর পরিমাণ বেড়েছে দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশ হারে৷ এই দুই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি হচ্ছে দুই উত্তর আর দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের কাছে৷

তবে কেবল ঝড়-জলোচ্ছ্বাস নয়, পৃথিবীর বাতাস বেড়ে গেলে অন্যতম সমস্যা হবে প্রাণিকূলের নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের৷ তাছাড়া বাতাসে যদি বেড়ে যায় কার্বন ডাই অক্সাইড, তাহলে এক সময় পৃথিবীর খাতা থেকে হয়তো কিছু নাম মুছে যাবে, তার বদলে, কয়েক লাখ বছর বাদে যোগ হবে নতুন কিছু নাম৷ আর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বলে দাবিদার মানুষের নাম মুছে যাওয়াও তেমন অসম্ভব নয়!

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন