1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পূর্ব ইউক্রেনে নির্বাচন: রাশিয়াকে সাবধানবাণী

ডনবাস-এ বিতর্কিত নির্বাচনের পর ইউরোপ রাশিয়াকে ইউক্রেনের ঐক্য সম্মান করে চলার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছে৷ অপরদিকে মস্কো বলছে, বিদ্রোহী নেতারা কিয়েভ সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ‘‘সনদ’’ পেয়েছে৷

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার বলেছেন যে, এই নির্বাচন গত সেপ্টেম্বরের মিনস্ক চুক্তির ‘‘মর্ম ও আক্ষরিক তাৎপর্যের বিরোধী''৷ স্টাইনমায়ার রাশিয়াকে ‘‘ইউক্রেনের ঐক্য'' মেনে চলতে বলেন: ‘‘আমরা রাশিয়া এবং প্রেসিডেন্ট পুটিনকে বিচার করব তাঁদের স্বকীয় বিবৃতির আলোকে যে, ইউক্রেনের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা চলবে না৷'' স্টাইনমায়ার টুইটারে তাঁর এই মন্তব্য করেন৷

ইতিপূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি তাঁর বিবৃতিতে ডনবাস এলাকার নির্বাচনকে ‘‘ইউক্রেনে শান্তির পথে নতুন প্রতিবন্ধক'' বলে অভিহিত করেন৷

Syrien Flüchtlinge Konferenz in Berlin 28.10.2014 Steinmeier Eröffnung

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার

ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া ইইউ-এর থেকে আলাদা হবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই: কাজেই ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ একটা নতুন পর্যায়ে পৌঁছাতে চলেছে বলে ধরে নেওয়া যায়৷

সেটা রাশিয়ারও অজ্ঞাত নয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও রাশিয়া দৃশ্যত একটি বিশেষ নীতি অনুসরণ করছে: নয়ত মস্কো পশ্চিমের যাবতীয় আবেদন-আহ্বান উপেক্ষা করে এই বিতর্কিত নির্বাচনকে পূর্বাহ্নেই তার পূর্ণ সমর্থন দিত না৷ এবং নির্বাচনের পরেও রুশ প্রচারণার ছায়াপথটি স্পষ্ট: ‘‘যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা এই অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বাস্তবিক সমস্যাগুলি সমাধানের সনদ পেয়েছেন,'' বলে একটি বিবৃতিতে মন্তব্য করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ দ্বিতীয়ত, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রিগরি কারাশিন কিয়েভ-এর প্রতি পূর্ব ইউক্রেনে যাবতীয় সামরিক অভিযান বন্ধ করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমানাধিকারের ভিত্তিতে আলাপ-আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন৷ রাশিয়ার সরকারি সংসাদ সংস্থা টাস-এর সাক্ষাৎকারে কারাশিন এই আহ্বান জানান৷

পূর্ব ইউক্রেনের ব্যাপারে রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ যে কি হবে, তা বলা শক্ত৷ অপরদিকে বিদ্রোহীরা রাশিয়ার প্রতি সব আনুগত্য সত্ত্বেও দৃশ্যত তাদের নিজস্ব ‘কর্মসূচি' পরিত্যাগ করার কোনো অভিপ্রায় রাখে না৷ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা এই নির্বাচনকে তাদের ডি ফ্যাক্টো ‘স্বাধীনতা'-র সরকারি স্বীকৃতি জয়ের পথে আরো একটি পদক্ষেপ বলে গণ্য করছেন এবং সে'কথা প্রকাশ্যে বলতেও দ্বিধা করছেন না – সেটা কি মস্কোর অজ্ঞাতসারে, না মস্কোর সম্মতি ছাড়া?

সেপ্টেম্বর শান্তি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র যদি যুদ্ধবিরতি হয়ে থাকে, তাহলে সেই সূ্ত্র বারংবার ভঙ্গ করা হয়েছে৷ অপরদিকে রাশিয়া বিদ্রোহীদের শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও মানবিক সাহায্য দিচ্ছে, বলে দাবি করে আসছে – তা সত্ত্বেও এটা অনস্বীকার্য যে, ইউক্রেনীয় সৈন্যদের বিরুদ্ধে যারা অস্ত্রধারণ করছে, তাদের একাংশ যে কোনো স্থায়ী সামরিক বাহিনীর মতো সুসজ্জিত এবং সুসংগঠিত – বিদ্রোহী সেনাদের কাছে ভারী অস্ত্রশস্ত্রের কোনো কমতি নেই৷

এবার এই বিদ্রোহীরা তাদের ‘নির্বাচিত' নেতাদেরও পেয়েছে: দোনেৎস্ক শহরের বিদ্রোহী সেনাদের অবিসম্বাদী অধিনায়ক আলেক্সান্ডার জাখারশেঙ্কো পেয়েছেন মোট দশ লাখ প্রদত্ত ভোটের ৭৫ শতাংশ – বলে জানিয়েছেন বিদ্রোহীদের নির্বাচনি কর্মকর্তারা৷ জাখারশেঙ্কো পেশায় ইলেকট্রিসিয়ান৷ অপরদিকে লুগানস্ক-এর সুপ্রিমো ইগর প্লটনিটস্কি পেয়েছেন ৬৩ শতাংশ ভোট৷ ইনি সোভিয়েত সেনাবাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তা৷

এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন