1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পুড়ছে মানুষ, তৎপর কূটনীতিকরা

টানা ১১ দিন ধরে বাংলাদেশে চলছে বিএনপির ডাকে অবরোধ৷ এই ১১ দিনে আগুনে পুড়ে ও পেট্রোল বোমা দগ্ধ হয়ে অন্তত ২৪ জন মারা গেছেন৷ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরো ১২ জন৷

Bangladesch Dhaka Zusammenstöße Gewalt Straßenschlachten 5.1.2015

ফাইল ফটো

এদিকে দেশের এই সংকটের মধ্যে আবারো তৎপরতা শুরু করেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা৷ দেশের অবস্থা স্বাভাবিক করতেই তাঁদের এই চেষ্টা বলে দাবি করছেন কোন কোন কূটনীতিক৷ তবে সরাসরি এ সব বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না৷ সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের গুলশানের বাসায় বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত পশ্চিমা আটটি দেশের কূটনীতিক৷ আবার একই সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণের বাসায় নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তাঁর ভাই সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের৷

জানা গেছে, বিএনপি জোটের টানা অবরোধে সহিংসতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে সরকারের অবস্থান জানার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন পশ্চিমা আটটি দেশের এসব কূটনীতিক৷ এ সময় রাজনৈতিক সংকটসহ সার্বিক পরিস্থিতি কূটনীতিকদের অবহিত করেন বিএনপি নেতারা৷ সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কূটনীতিকরা৷ তাঁরা বলেন, অবিলম্বে সব নাশকতা বন্ধ হওয়া উচিত৷

উভয়পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ বের করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তাঁরা৷ বিএনপি নেতারা অবশ্য এই বৈঠক নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি৷ তাঁরা দাবি করেছেন, মঈনের খানের আমন্ত্রণে তাঁরা নৈশভোজে অংশ নিতে এসেছিলেন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবাসিক প্রতিনিধি পিয়ের মায়াদুনের নেতৃত্বে ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতরা বৈঠকে ছিলেন৷ তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অষ্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার, ক্যানাডার হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা এবং ডিএফআইডি-র কান্ট্রি ডিরেক্টর৷ বৈঠকের ব্যাপারে কূটনীতিকরাও কিছু বলেননি৷

এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনারের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির নেতাদের বৈঠকের ব্যাপারে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় জানান, কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, তাঁরা গিয়েছিলেন একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে৷

কূটনীতিকদের এই তৎপরতাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহীদুজ্জামান৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘দেশের এই সংকটকালে কূটনীতিকরা বসে থাকতে পারেন না৷ আমরা যদি নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করতে না পারি, তাহলে বিদেশিরা তো আসবেই৷'' ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগের সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘তখন তো সব দলই বিদেশিদের কাছে গিয়েছিল৷ বর্তমানে সরকারে যারা আছে তারা তখন কিন্তু বিদেশিদের কাছে কথা দিয়েছিল এখানে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ব্যবস্থা করা হবে৷ মানবাধিকার, সুশাসন নিশ্চিত করবেন৷ কিন্তু তাঁরা তো কিছুই করছেন না৷''

অপরদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এখন শুধুই অগ্নিদগ্ধদের আহাজারি৷ এক ফ্লোরে যখন সেলিমের চাপা আর্তনাদ, ঠিক তখনই অন্য ফ্লোর থেকে ভেসে আসে এক মায়ের বুকফাটা আহাজারি৷ গত ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর রাজধানীর কমলাপুরে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হন সেলিম৷ একই সঙ্গে পুড়ে যায় তার লেগুনাটিও৷ মাত্র পাঁচ মাস আগে ধারদেনা করে লেগুনাটি কিনেছিলেন তিনি৷ প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয় নয় হাজার টাকা৷ এমন আর্থিক চাপের কারণেই অবরোধের মধ্যে লেগুনা নিয়ে বের হতে হয়েছিল তাকে৷ অগ্নিদগ্ধ সেলিমের জীবন এখন অনিশ্চিত৷ ক্লাস ওয়ানে পড়ুয়া ছেলের বই কেনা হয়নি৷ সরকার তার চিকিৎসার খরচ বহন করলেও পরিবারের খোঁজ রাখবে কি? এমনই প্রশ্ন সেলিমের৷ এই পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই যেন তার কাছে শ্রেয়!

রংপুরের মিঠাপুকুরের মিনারা বেগম, বগুড়ার স্বপ্না আক্তার, ময়মনসিংহের সিদ্দিকুর রহমানসহ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যে ১২ জন চিকিৎসাধীন, তাঁদের কারোই পারিবারিক অবস্থা সেলিমের চেয়ে আলাদা নয়৷ তাঁরাও জানতে চান, কী হবে তাদের? কে দেখবে তাদের পরিবারের সদস্যদের? গত ১৭ দিনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোল বোমা ও হাতবোমায় দগ্ধ ৪৬ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়৷ এর মধ্যে চারজন মারা গেছেন৷ চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২ জন৷ বাকিদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন ১২ জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক৷ তবে বেশী খারাপ অবস্থা ৮ জনের৷ এদের যে কেউ যে কোনো সময় মৃত্যুর কাছে হার মানতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন