1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

পুলিশকর্মীদের পণবন্দি নিয়ে রাজনৈতিক কাজিয়া

ভারতের বিহার রাজ্যে লখিসরাই'এ গত রবিবার মাওবাদীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ৪ জন পুলিশ কর্মীকে পণবন্দি করে মাওবাদীরা৷

default

মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে

বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে জেলবন্দি ৮ জন মাওবাদীকে মুক্তি না দিলে ঐ পুলিশকর্মীদের হত্যা করা হবে হুমকি দেয় তাঁরা৷ ইতিমধ্যে মাওবাদীরা একজনকে হত্যা করায় সঙ্কট গভীর হয়েছে৷

শেষ খবরে জানা গেছে, পণবন্দি ৪ জন পুলিশ কর্মীর মধ্যে একজনকে মাওবাদীরা হত্যা করেছে সময় সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এবং সরকার সাড়া দিতে দেরি করায়৷ ফলে পণবন্দী কাণ্ডের সঙ্কট হয়েছে আরো গভীর৷ মনে করা হচ্ছে, সরকারকে চাপ দিতেই এটা করা হয়েছে৷ যদিও পণবন্দীদের মুক্ত করতে বিহার সরকার সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সে চেষ্টা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব জি.কে পিল্লাই৷ বন্দিবিনিময়ের সময়সীমা শেষ হয় আজ বিকেলে৷ মাওবাদীদের শর্ত, জেলবন্দি ৮ জন মাওবাদির মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযান বন্ধ করতে হবে৷ নাহলে মাওবাদীরা বারংবার হামলা চালাবে৷ এজন্য দায়ী থাকবে রাজ্য সরকার৷ পণবন্দি পুলিশ কর্মীদের পরিবারের লোকজন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনা দেয় আজ৷ এরপর পুলিশ কর্মীদের উদ্ধার অভিযানের তদারকি শুরু করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার স্বয়ং৷

এদিকে লখিসরাই কাণ্ড নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতিতে কাজিয়া৷ স্রেফ রাজনৈতিক কারণে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ অভিযানে সামিল হননি নীতিশ কুমার৷ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র মাস তিনেক বাকি৷ এসময়ে লখিসরাই কাণ্ড যে বিরোধীদের হাতে প্রধান অস্ত্র হবে, সেটা ভেবে ক্ষমতাসীন সংযুক্ত জনতা দল যথেষ্ট চাপের মুখে৷ পণবন্দী পুলিশ কর্মীদের জীবিত উদ্ধার করতে না পারলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নির্বাচনে৷ লখিসরাই ঘটনা পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেও স্পষ্ট করে তুলেছে৷ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং আর জে ডি দলের প্রধান লালু যাদব বলেন, এটা নীতিশ কুমারের মাওবাদী নীতির চরম ব্যর্থতা৷ আর এর জন্যই বিহারের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা এখন মাওবাদী কবলিত৷ আসলে রাজ্য সরকারের মাওবাদী সহিংসতা দমনের রাজনৈতিক ইচ্ছা নেই৷ অন্যদিকে,সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, বিকাশের মাধ্যমে মাওবাদীদের মোকাবিলা করাই সরকারের নীতি, যৌথ অভিযান চালিয়ে নয়৷ উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের মাও-বিরোধী নীতির সমালোচনা করে নীতিশ কুমার বলেছিলেন, মাওবাদী সমস্যা আর্থ-সামাজিক, তাই বিকাশই একমাত্র প্রতিকার৷ সুশীল সমাজ মনে করে, আর্থ-সামাজিক বিকাশ রাজ্যে হয়নি৷ গরিবরা এখনও নিপীড়িত, অবহেলিত৷ মাওবাদী ইস্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটাও একই রকম৷ সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে একে অপরের দিকে তোপ দাগিয়ে চলেছে৷ মারা পড়ছে সাধারণ মানুষ৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি
সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়