1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

পুর্ননির্বাচিত হলে কর, বেকারত্ব কমাবেন ম্যার্কেল

পুনরায় চ্যান্সেলর হলে কর এবং নাটকীয়ভাবে বেকারত্ব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ সেপ্টেম্বরের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ঘোষিত দলীয় ইস্তাহারে এ কথা উল্লেখ করেছেন তিনি৷ তবে বিরোধীরা এতে সন্তুষ্ট নন৷

আঙ্গেলা ম্যার্কেলের রক্ষণশীল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল (সিডিইউ) আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করলে পরিমিতহারে কর কমানো এবং নবীন পরিবারগুলোকে বাড়তি অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ গতসপ্তাহে ঘোষিত নির্বাচনি ইস্তাহারে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি৷ নির্বাচনকে ঘিরে যখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো নানা নতুন ‘আইডিয়া' তৈরি করছিল, তখন সিডিইউ তাদের ইস্তাহার ঘোষণা করে যদিও দলটির উপর তেমন একটা চাপ নেই বলেই সাম্প্রতিক জরিপগুলো জানাচ্ছে৷ এতে দেখা যাচ্ছে, চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের চতুর্থবার ক্ষমতায় থেকে যাওয়াতে বাধা সৃষ্টির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এখনো কেউ তৈরি হতে পারেননি৷

বার্লিনে সিডিইউ-এর কার্যালয়ে এক সংবাদসম্মেলনে দলের পক্ষে নির্বাচনি ইস্তাহার প্রকাশ করেন ম্যার্কেল৷ এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন দলের বাভেরিয়া অংশ সিএসইউ-র প্রধান হর্স্ট সেহোফার, যার সঙ্গে শরণার্থী ইস্যুতে ম্যার্কেলের মতবিরোধের কথা সবাই জানেন৷ তবে ইস্তাহার ঘোষণার সময় শেফার ম্যার্কেলের প্রতি সমর্থনের কথা নানাভাবে প্রকাশ করেন তিনি৷ আর ম্যার্কেল বলেন, ‘‘জার্মানির জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে: সবার জন্য সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা৷''

সিডিইউ-এর ইস্তাহারে উল্লেখযোগ্য বিষয়:

- ২০২৫ সাল নাগাদ বেকারত্বের হার তিন শতাংশের নীচে নামিয়ে আনা, অর্থাৎ বর্তমানের বেকারত্বের হার সাড়ে শতাংশ থেকে প্রায় অর্ধেক বা ২৫ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা৷ বিরোধী দলগুলো অবশ্য বারংবার দাবি করে এসেছে, সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেকারত্বের যে হার সরকার প্রকাশ করছে, তা সঠিক নয়৷ কেননা বেশ কয়েক লাখ মানুষ তথাকথিত ‘মিনি জব' করছেন, যারা সরকারের উপর নির্ভরশীল৷ এমন মানুষদেরও বেকারের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে আগ্রহী বিরোধীরা৷

- সর্বোচ্চ ইনকাম ট্যাক্স ব্র্যাকেট বছরে ৬০ হাজার ইউরো করতে চায় ম্যার্কেলের দল, বর্তমানে যা ৫২,০০০ ইউরো৷ তবে এই বৃদ্ধি ম্যার্কেলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দল সামাজিক গণতন্ত্রী দলের (এসপিডি) চেয়ে পরিমিত৷ সেদল টপ ইনকাম ট্যাক্স ব্র্যাকেট বছরে ৭৬,০০০ ইউরো এবং রেট ৪২ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ করতে আগ্রহী৷ সিডিইউ চায় শুধুমাত্র ‘সুপার রিচ', অর্থাৎ যাদের একক বাৎসরিক আয় ২৩২,০০০ ইউরো, তাদের ৪৫ শতাংশ ট্যাক্স রেটের আওতায় আনতে৷

- সাবেক পূর্ব জার্মানির উন্নয়নে সব চাকুরিজীবীর দেয়া ‘সলিডারিটি ফি' ২০২০ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সিডিইউ৷ দুই জার্মানির পুনরেকত্রিকরণের পর দেশটির পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই ফি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ যদিও এর বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে প্রতিবাদ করছে করদাতাদের অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী৷ এসপিডি-র মতো সিডিইউ-ও এই ফি তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে৷ তবে ঠিক কবে থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে তা জানায়নি কোন দল৷

- শিশু ভাতা বৃদ্ধি৷ অভিভাবকদের দেয়া শিশু ভাতা বর্তমানের মাসি ১৯২ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ২১৭ ইউরো করতে আগ্রহী সিডিইউ৷ পাশাপাশি নির্ভরশীল সন্তান যাদের রয়েছে তাদের ট্যাক্স লাঘবের পরিমাণ ৭,৩৫৬ ইউরো থেকে ৮,৮২০ ইউরো করতে চায় দলটি৷

- প্রথমবার সম্পত্তি কেনা পরিবারকে সহায়তা৷ যেসব পরিবার প্রথমবারের মতো সম্পত্তি কিনবেন তাদের সন্তানপ্রতি বছরে ১,২০০ ইউরো বাড়তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সিডিইউ৷

- আরো ১৫,০০০ নতুন পুলিশ নিয়োগ করতে চায় দলটি৷ রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় পুলিশের জন্য এই নিয়োগ প্রযোজ্য হবে৷

- দ্বৈত নাগরিকত্ব নীতিতে আংশিক ছাড়৷ অভিবাসীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে সিডিইউ-এর মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে মতবিরোধ ছিল৷ তবে নির্বাচনি ইস্তাহারে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী এবং তাদের সন্তানরা চাইলে জার্মানি এবং যে দেশ থেকে তারা এসেছেন, সেদেশের নাগরিকত্ব রাখতে পারবেন৷ তবে পরবর্তী প্রজন্মগুলো শুধু একটি দেশের নাগরিকত্ব পাবে৷

বলাবাহুল্য, সিডিইউ-এর প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এই ইস্তাহারে মোটেই মুগ্ধ নয়৷ চ্যান্সেলর পদে ম্যার্কেলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন শুলৎস, যিনি বছরের শুরুতে আসন্ন নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, এই ইস্তাহারকে ‘দুর্বলচিত্তের' বলে আখ্যা দিয়েছেন৷ সাম্প্রতিক মতামতভিত্তিক জরিপগুলো অবশ্য এই দু'জনের মধ্যে কঠিন প্রতিযোগিতা হবে এমন ইঙ্গিত আর দিচ্ছে না৷ তাই জয়ের পাল্লা অনেকটাই ম্যার্কেলের দিকে৷

বেন নাইট/এআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়