1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাচ্ছে কলকাতার চায়না টাউন

কলকাতার টেরেটি বাজারের চায়না টাউন একসময় মুখরিত ছিল চীনাদের উপস্থিতিতে৷ নিজেদের স্কুল, ক্লাব, যেমন ছিল, তেমনি ছিল জমজমাট ব্যবসা৷ ব্যবসায় ভাটা পড়ায় গত কয়েক বছরে সেখানে কমতে শুরু করেছে চীনাদের সংখ্যা৷

কলকাতার টেরেটি বাজার বললে কেউ হয়ত চিনতে নাও পারে, কিন্তু চায়না টাউন বললে যে কেউ চিনতে বাধ্য৷ যেখানে গেলে চীনের ঐতিহ্যবাহী খাবার চেখে দেখার সুযোগ হবে আপনার৷ ১৮ শতকে অভিবাসী হিসেবে চীনের মধ্যাঞ্চল থেকে ভারতে এসেছিলেন এসব চীনারা৷ কেউবা বন্দরে কাজ করার উদ্দেশ্যে, কেউ চামড়ার ব্যবসা, আবার কেউবা রেস্তোঁরার ব্যবসা খুলে বসেছিলেন৷ একসময় জমে উঠেছিল তাঁদের ব্যবসা৷ আর কলকাতায় চীনাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল এক লাখে৷

কিন্তু বর্তমান চিত্র ভিন্ন৷ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন কলকাতায় চীনাদের সংখ্যা মাত্র দুই হাজার৷ ডয়চে ভেলেকে এর কারণ সম্পর্কে বলেছেন কলকাতার চীনা অধিবাসীদের তৃতীয় প্রজন্ম জিনা হুয়ান৷ একটি রেস্তোঁরার মালিক হুয়ান জানালেন, দশ বছর আগেও ব্যবসা ছিল জমজমাট, কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই৷

মুদির দোকানের মালিক ডোমিনিক লির দোকানে পাওয়া যায় চীনের সুস্বাদু সস এবং অন্যান্য খাদ্য উপকরণ৷ কিন্তু চীনাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাঁর দোকানে বিক্রি কমে গেছে৷ লি একথাও জানান যে, চীনাদের মন্দির এবং গির্জাগুলো সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে৷

ডয়চে ভেলেকে লি জানালেন, সরকারি কোনো সাহায্য না পাওয়ায় তাঁদের নিজেদের ব্যবসা বা অন্যান্য কাজ করতে হয়৷ এ কারণে তরুণ প্রজন্ম দেশের বাইরে লেখাপড়া করতে গিয়ে সেখানেই কাজ শুরু করে এবং স্থায়ীভাবে থেকে যাচ্ছে৷

ইন্ডিয়ান-চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পল চুং ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, তাঁর পিতামহ যখন পরিবার নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন তখন ছিল স্বর্ণ যুগ৷ কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম ভারতের নাগরিকত্ব পেলেও সরকারি কোনো সুবিধা পায়নি৷

Chinatown in Kalkutta, 1945

চায়না টাউনের সংস্কার এবং এটিকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে

১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের পর অনেকেই কলকাতা ছেড়ে চীনে চলে যায়৷ ৭২ বছর বয়সি চুং বললেন, তাঁদের আর চীনে ফিরে যাবার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ তাই পরিস্থিতির পরিবর্তন করাটা জরুরি৷

এ বছরের শুরুতে চীনা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ যৌথভাবে সরকারের কাছে চায়না টাউনের সংস্কার এবং এটিকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়৷ স্থানীয় সরকার এই চা প্রকল্পে এরই মধ্যে সম্মতি দিয়েছে৷ এমনকি, নতুন চায়না টাউন গড়ে তোলার বিষয়েও সম্মত হয়েছে৷

এ প্রকল্পের উদ্যোক্তা অনির্বান রায় ডয়চে ভেলেকে বললেন, পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য চায়না টাউনের চেয়ে কলতাকাতার চায়না টাউন একেবারেই স্বতন্ত্র এবং এর ঐতিহাসিক মূল্য অনেক বেশি৷ তাই এটাকে অবহেলা করা উচিত নয়৷

কবে হবে এই সংস্কার, পুরোনো ঐতিহ্য কি আদৌ ফিরে পাবে চায়না টাউন? সে অপেক্ষাতেই আছেন চায়না টাউনের অধিবাসীরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন