1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সৌদি আরব

পুরুষ অভিভাবক আইনের বলি দিনা আলী

সৌদি আরবে নারীদের জন্য ‘পুরুষ অভিভাবক আইনটি' আবারো আলোচনায়৷ দিনা আলী নামে এক তরুণীকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিশ্ব জুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়৷ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কার, তাঁর জীবন হুমকির মুখে৷

আপনি একবার ভাবুন তো আপনার জীবনে নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কেমন লাগবে? আপনার জীবন সম্পর্কে প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নেবে বা ঠিক করবে৷ আপনি যতই প্রাপ্ত বয়স্ক হোন না কেন, অর্থাৎ আপনার বয়স ১৮, ৩০, ৪০ বা ১০০ – যাই হোক না কেন, যেহেতু আপনি একজন নারী, আপনার সাথে আচরণ করা হবে পরগাছার মতো, বরাবরই ভাবা হবে পরনির্ভরশীল৷ আর আপনি যাঁদের উপর নির্ভরশীল হবেন, তারা প্রত্যেকেই পুরুষ৷

অর্থাৎ আপনার জীবনের ভালো-মন্দ নির্ধারণ করবেন তাঁরাই৷ আপনাকে রক্ষা করার দায়িত্ব তাঁদের৷ আপনি হয়ত স্বপ্ন দেখছেন কোনো একটি বিশেষ বিষয়ে পড়ালেখা করবেন, সেজন্য ভীষণ কষ্ট করে পড়ালেখা করলেন, রেজাল্টও ভালো হলো৷ কিন্তু হঠাৎ আপনি লক্ষ্য করবেন, আপনি যে বিষয়ে পড়ালেখা করবেন তা আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে৷ আপনি কাউকে ভালোবাসেন, তাঁকে বিয়ে করার কথা ভাবছেন...৷ কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আপনার নেই৷ দেখবেন, এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে, যাঁকে আপনি কখনো দেখেননি৷ কোনো চাকরি পছন্দ হলে সেটারও অনুমোদন লাগবে পরিবারের পুরুষ অভিভাবকের৷ বেশিরভাগ সৌদি নারীর জীবনেই ঘটছে এটা৷ এর কারণ ‘পুরুষ অভিভাবক আইন'৷ বিদেশে ঘুরতে গেলেও পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগে সৌদি নারীদের৷

সৌদি নারীদের অনেকেই নিজেদের এই অনধিকারের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন৷ তাই এই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন তাঁরা৷ গত বছর থেকে এ জন্যই শুরু করেছেন ‘স্টপ এনস্লেভিং সৌদি উইমেন' প্রচারণা৷ টুইটারে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে এর প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁরা৷ টুইটারে এই আইন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন অনেক সৌদি নারী৷ আরবী ভাষায় ব্যবহার করা ঐ হ্যাশট্যাগের অর্থ – ‘সৌদি নারীদের ক্রীতদাসী করা বন্ধ করো৷' এর মূল বক্তব্য, তাঁরা একজন সৌদি নাগরিক এবং সেদেশের একজন নাগরিকের যেসব অধিকার, সেটা তাঁদেরও প্রাপ্য৷

সম্প্রতি দিনা আলীর ঘটনার কারণে আবারও আলোচনায় এসেছে সৌদি আরবের এই আইনটি৷ অধিকার সংস্থাগুলোসৌদি নারীদিনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যাকে ফিলিপাইন্স কর্তৃপক্ষ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে৷ দিনা আলী লাসলুম জোরপূর্বক বিয়ের হাত থেকে বাঁচতে অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন৷

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে প্রত্যক্ষদর্শী এক ক্যানাডীয় নাগরিক জানিয়েছেন, ২৪ বছরের দিনা আলীকে ১১ এপ্রিল ম্যানিলা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সিডনিগামী ফ্লাইটে উঠতে দেয়নি৷ তারা বিমানবন্দরে আটকে দেয় তাঁকে৷ এরপর জোর করে তাঁকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়া হয়৷ যদিও দিনা ভয় পাচ্ছিলেন যে, তাঁকে দেশে ফেরত পাঠালে মেরে ফেলা হতে পারে৷ প্রত্যক্ষদর্শী ঐ নারী জানান, ম্যানিলা বিমানবন্দরে দিনা তাঁকে জানিয়েছিলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট এবং বোর্ডিং পাস বাজেয়াপ্ত করেছে৷

গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তখন দিনাকে দিয়ে তিনি কয়েকটি ভিডিও তৈরি করেন, যাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করার আবেদন জানাতে পারেন৷ একটি ভিডিও এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে৷ যেখানে দিনা বলছেন, ‘‘আমার পরিবার যদি আসে, তারা আমাকে হত্যা করবে৷ সৌদি আরবে গেলে আমি মারা যাব৷ দয়া করে আমাকে সাহায্য করো৷''

তাঁকে আটক করা প্রসঙ্গে ভিডিওতে দিনা বলেন, ‘‘আমাকে একজন অপরাধী হিসেবে এখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ আমার কিছু করার নেই৷''

বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীর বরাত দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, দিনাকে যখন টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন৷ পরে ডাক্ট টেপ দিয়ে তাঁর মুখ ও হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঐ নিরাপত্তাকর্মী৷ সংবাদ সংস্থা এএফপিকে এক সৌদি অ্যাকটিভিস্ট জানিয়েছেন, দিনা কুয়েতের অধিবাসী এবং তাঁকে রিয়াদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আটক করে রাখা হয়েছে৷ দিনাকে উদ্ধারের জন্য এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থী আলা রিয়াদে গিয়েছিল, তাঁকেও গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ৷

দিনাকে সাহায্য করতে না পেরে অনেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হতাশা ব্যক্ত করেছেন৷

ম্যানিলার সৌদি দূতাবাস এই ঘটনাকে ‘পারিবারিক ঘটনা' বলে উল্লেখ করেছে৷ টুইটারে তারা উল্লেখ করেছে, ঐ নাগরিককে তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রিয়াদের কাছে দিনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেয়েছে৷ এই ঘটনা চলাকালীন ফিলিপাইন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ সফর করছিলেন৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি)

প্রতিবেদনটি কেমন লাগলো বন্ধুরা? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক