1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘পুতুল ভাঙিয়া কাঁদে যে পুতুল'

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে৷ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমও তাই সরব৷

সামহোয়্যার ইন ব্লগে সরকার মুনীর রেজওয়ান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে নিজের লেখার শিরোনাম দিয়েছেন, ‘পুতুল ভাঙিয়া কাঁদে যে পুতুল'৷ সেখানে তিনি ফিরে গেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন শুরুর অতীত ইতিহাসে, রেজওয়ান লিখেছেন, ‘‘নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের দাবিতে সোচ্চার ছিল আওয়ামী লীগ৷ ৯৬ সালের কথা৷ সেই দাবি তখনকার প্রেক্ষাপটে গণদাবিতে পরিণত হয়েছিল এই ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই৷ বিএনপির ‘নির্বাচন, মাগুরা স্টাইল' এই অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী ছিল৷ আমরা দেখলাম, সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) তখন বলছেন – শিশু এবং পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নন৷ তিনি এই গণ দাবির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন৷ ৯৬-এ যেনতেন একটা একদলীয় নির্বাচন করলেন যা এ দেশের ইতিহাসে ‘হাস্যকর', ‘অর্থহীন' নির্বাচন হিসেবে নথিভুক্ত৷''

Bangladesch Parlament Gebäude in Dhaka Nachtaufnahme

বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীর পক্ষেই কথা বলেছেন ড. ইউনূস

তারপর রেজওয়ান লিখেছেন, ‘‘ফলে যা হবার তাই হলো – তিনি (খালেদা জিয়া) ....আরো একবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে গণ রোষের মুখে গভীর রাতে তড়িঘড়ি এক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে লেজ গুটিয়ে সরকার থেকে পালালেন৷ তারপরের ঘটনা –আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো, মেয়াদের শেষে তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই নির্বাচন দিল ক্ষমতা ছেড়ে৷ তখনকার বিরোধী দল সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন নিয়ে টু শব্দটিও করার সুযোগ পেল না৷ একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলো৷ আবার বিএনপি ক্ষমতায় গেল৷ এবার কী দেখলাম আমরা? বিএনপির মাথায় দুষ্টবুদ্ধি বরাবরই একটু বেশি৷ মওদুদের মতো দুর্বৃত্তদের অভাব নেই এই দলটিতে৷ মেয়াদ শেষ হবার দিকে ক্ষমতা ছাড়ার আগেই শুরু হলো যে কোনোভাবে নির্বাচন জেতার নীলনক্সা৷ দলীয় নেতা প্রধান বিচারপতির কর্মকাল দুই বছর বাড়ানো হলো, যেন তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারেন, নির্বাচন কমিশনে ‘আলু পটলের বস্তার মতো' কাউকে নির্বাচন কমিশনার বানানো হলো যাঁরা সাংবাদিকদের সামনে ঠিকভাবে কথাও বলতে পারতেন না৷ এখনো কানে বাজে, তখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দোকানদার পর্যন্ত আনাজ বেচা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল৷ বাঙালির মেমরি গোল্ড ফিশের মতো না হলে ভুলে যাবার কথা নয়৷''

তারপর দীর্ঘ এ লেখায় সরকার মুনীর রেজওয়ানের পর্যবেক্ষণটা এ রকম: ‘‘গণদাবির মুখে অর্জিত একটি চমৎকার নির্বাচনি ব্যাবস্থাকে একেবারেই ‘পচিয়ে' ফেলা হলো, অগ্রহণযোগ্য করে ফেলা হলো৷ তখনকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি গণরোষের মুখে অনেক পরে গিয়ে ঘোষণা দিতে বাধ্য হলেন যে তিনি ঐ পদে অভিষিক্ত হবেন না৷ আবারোও গণরোষের মুখে বিএনপি৷ এবার আরো একটি লজ্জাজনক অধ্যায়ের সূচনা৷ যিনি রাষ্ট্রপতি (ইয়াজ উদ্দীন) তাঁকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হলো৷ মেরুদণ্ডহীন বিএনপির সে রাষ্ট্রপতি যা কিছু করতে চাইলেন সবই হাস্যকর, নির্লজ্জভাবে বিএনপির পতাকা তুলে ধরতে শুরু করলেন তিনি! ফলে ক'জন ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন উপদেষ্টা নিজে থেকে পদত্যাগ করলেন৷''

Flash-Galerie Muhammad Yunus Rede

‘‘যারা গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চায় সে ধরণের নেতাদের হাতে দেশ তুলে দেয়া যায় না''

তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন এবং তার ধারাবাহিকতার বর্ণনায় তারপরই এসেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গ, ‘‘এই সময়ে এসে আমাদের একমাত্র এবং কেবলমাত্র নোবেল লরিয়েট এলেন বিএনপির উকিল হয়ে৷ ইউনূস সাহেব বলতে লাগলেন এই তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই সবাইকে নির্বাচনে অংশ নিতে৷ তখনই তিনি নিজেকে চেনালেন এবং পচালেন৷ তখন থেকেই এই নোবেল লরিয়েট ইউনূস সাহেবের রাজনৈতিক পক্ষপাত স্পষ্ট হলো৷ নইলে তিনি বাংলাদেশের একজন সর্বজনগ্রাহ্য মুরুব্বি হতে পারতেন৷....যাই হোক সংকট আরো ঘনীভূত হলো৷ এলো সেনা সমর্থিত নতুন তত্বাবধায়ক৷ তারপর আমরা তাদের দু'বছরের শাসনামল দেখলাম৷ একটি চমৎকার ‘নির্বাচনি সরকার ব্যাবস্থা' হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক ব্যাবস্থা যখন বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছিল, তখনই এই ব্যাবস্থার পিঠে ছুরি-কাঁচি চালালো বিএনপি৷....তখন নতুন ব্যাবস্থায় নির্বাচন ব্যাবস্থা ঢেলে সাজানো হলো৷ কিন্তু বিএনপি নিজেদের হাতে খুন করা সেই তত্ত্বাবধায়কের লাশ কাঁধে আহাজারি করছে৷ সরকারি দল চুন খেয়ে মুখ পুড়িয়েছে বলে নিজেরা আর যেতে পারছে না সেই ব্যাবস্থায়৷ নির্বাচন নিয়ে সংকট গভীর৷ ওদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর তাগিদ, শরীক জামাতের অস্তিত্বের সংকট, বিএনপির ঘরে হৈ চৈ! সব মিলে দেশের রাজনীতিতে পাগলাঘণ্টি বাজাচ্ছেন খালেদা জিয়া৷ এই সংকট উত্তরণের উপায় কী নেই? নিশ্চয় আছে৷ কিন্তু বিরোধী শিবির আলোচনার পথ রুদ্ধ করে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে যখন দুই তৃতীয়াংশ জনতার আস্থা নিয়ে গঠিত সরকারকে বলে, ‘‘রাতের আঁধারে পালাবার পথও পাবেন না'', তখন সরকারও শক্ত হয়ে যায় বৈকি৷ আশা করব দুই দল বসে সংশোধিত সংবিধানের আলোকে একটি ব্যালেন্সড নির্বাচিত বহুদলীয় ব্যাক্তিবর্গ নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যাবস্থা-কাঠামো ঠিক করে দেশের এগিয়ে চলা উন্নতি অব্যাহত রাখবে৷ এসব নিয়ে আলোচনা হোক৷ শুধু ঘার তেরামি করে সংকট ঘনীভূত করে ঘোলা জলে মাছ শিকারের চেষ্টা করে লাভ হবে না কারো৷''

তবে বিরোধী দলগুলোর মতো ড. মুহাম্মদ ইউনূসও চান নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে হোক৷ বুধবার খোলাখুলিই এ কথা বলেছেন তিনি৷ আগের দিন তিনি বলেছিলেন, ‘‘যারা গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চায় সে ধরণের নেতাদের হাতে দেশ তুলে দেয়া যায় না৷'' ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় এ বিষয়ে এ পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন ৫৬ জন৷ সেখানে কেউ কেউ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিপক্ষে মতামত ২২ জনের, বাকিদের বেশিরভাগই পক্ষে৷ মনন সরকার লিখেছেন, ‘‘উনার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) এই বক্তব্যে প্রমাণ হলো যে উনি অ্যামেরিকার দালাল৷ উনি চান বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসুক, দেশে আবার বোমা গ্রেনেড ফাটা-ফাটি হোক৷ তখন উনার মিত্র বাহিনী (মার্কিন বাহিনী) এই দেশে আসুক জঙ্গীবাদ নির্মূল করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে৷'' তবে রোমান আহমেদ দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘এটা দেশের ৯০ ভাগ মানুষের দাবি, আর উনি তো এর বাইরে না৷''

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়