1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

পুটিনের বিপজ্জনক ইউরেশিয়া পরিকল্পনা

ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশের জন্য প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক ইউনিয়ন ইউরোপের জন্য কোনো হুমকি নয়৷ কিন্তু তার পেছনে যে ইউরেশীয় আদর্শ রয়েছে, তা বিপজ্জনক হতে পারে বলে মনে করেন ইঙ্গো মানটয়ফেল৷

গত ২৯শে মে রাশিয়া, কাজাখস্তান ও বেলারুশের প্রেসিডেন্টরা যখন ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন, তখন সেই দৃশ্য অনেককেই প্রায় ২৫ বছর আগে লুপ্ত হয়ে যাওয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলো৷ ক্রেমলিনও ঠিক এমন আবেগই দেখতে চায়৷ কারণ এর একটা নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে৷ রাশিয়া আবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে৷ সে দেশের সাধারণ মানুষের মনেও এমন কৌশলের প্রতি সমর্থন দেখা যায়৷ অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বেও নতুন সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পর্কে আশঙ্কা বাড়ছে৷ কিন্তু নতুন ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের মধ্যে অতীতের সোভিয়েত ইউনিয়ন খোঁজা ভুল হবে৷

ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন, সোভিয়েত ইউনিয়ন নয়

কারণ রাশিয়ার নেতৃত্বে এই প্রকল্পের সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কোনো তুলনা হয় না৷ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর প্রাক্তন প্রজাতন্ত্রগুলিকে অর্থনৈতিক সূত্রে বাঁধার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার বিবর্তন হিসেবেই এটিকে দেখতে হবে৷ ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে রাশিয়া, কাজাখস্তান ও বেলারুশ পণ্য, পরিষেবা, মূলধন ও শ্রমিক-কর্মীদের চলাচলের উপর বাধা তুলে নিতে শুরু করবে৷ কিন্তু এই মুহূর্তে এই তিনটি দেশের মধ্যে যে শুল্ক ইউনিয়ন চালু রয়েছে, সেটিও ঠিকমতো চলছে না৷

Ingo Mannteufel

ইঙ্গো মানটয়ফেল

অর্থনৈতিক নীতির গরমিল, দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এই প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দিচ্ছে৷ এখনো পর্যন্ত শুধু বেলারুশ ও কাজাখস্তান এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে৷ আর্মেনিয়া ও কিরগিজিস্তানেরও অদূর ভবিষ্যতে যোগদান করার কথা, কিন্তু রাশিয়ার মানুষ তাদের শ্রমবাজারে মধ্য এশিয়ার দরিদ্র শ্রমিকদের অবাধ প্রবেশের সুযোগকে কতটা স্বাগত জানাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে৷

অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের এলাকায় ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন প্রকল্প এমনিতেই প্রায় অর্থহীন৷ গত কয়েক মাসে রাশিয়ার আগ্রাসী ইউক্রেন-নীতির পেছনে এটাই হলো বড় কারণ৷ এটাও ভুললে চলবে না যে, ইউরেশীয় প্রকল্পের প্রতি বেলারুশ ও কাজাখস্তানের আনুগত্যেরও সীমা রয়েছে৷ কারণ মস্কোর কর্তৃত্ব স্বীকার করা কাজাখস্তানের স্বার্থ নয়৷ চীনের বেড়ে চলা প্রভাব মোকাবিলা করতেই সে দেশ রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চাইছে৷ অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঠেলার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে বেলারুশ৷

না, ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন মোটেই নতুন সোভিয়েত ইউনিয়ন নয়৷ ‘পুরানো' ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও এটা কোনো হুমকিও নয়৷ বরং নতুন এক একক বাজার ইউরোপের কোম্পানিগুলির জন্য বাড়তি সুবিধা বয়ে আনতে পারে৷ শুধু তাই নয়, এই প্রকল্প সফল হলে সেই অঞ্চলের মানুষের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি ঘটবে৷ তাই রাশিয়া, বেলারুশ ও কাজাখস্তানের একক বাজারের বিরোধিতা করার কোনো কারণ ইউরোপের নেই৷

Kasachstan Gründungsvertrag für die Eurasische Wirtschaftsunion 29.05.2014

২৯ মে রাশিয়া, কাজাখস্তান ও বেলারুশের প্রেসিডেন্টরা ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন

ইউরেশীয় আদর্শই ইউরোপের জন্য নতুন হুমকি

অন্যদিকে ইউরেশীয় দর্শন সম্পর্কে একেবারে বিপরীত মূল্যায়ন করতে হয়৷ প্রেসিডেন্ট পদে পুটিনের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে রাশিয়ায় এই আদর্শের রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়ে চলেছে৷ আমরা চাই বা না চাই – এই মতবাদ ও তার আদর্শগত উপাদানগুলি নিয়ে আগামী দশকগুলিতে ইউরোপে আরও তর্ক-বিতর্ক চলবে৷ আসলে এই মুহূর্তেও সেটাই ঘটে চলেছে৷ কারণ ইউরোপে বর্তমানে যে দক্ষিণপন্থি-পপুলিস্ট ভাবধারা শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তারা উদারপন্থার শত্রু, বিদেশি বিদ্বেষী এবং সমকামীদের বিরোধী৷ মার্কিন আধিপত্যও বর্জন করতে চায় তারা৷

অর্থাৎ রাশিয়ায় যে ইউরেশীয় আদর্শের প্রচার চলছে, এটাও সেই একই মতাদর্শ৷ গত শতাব্দীর বিশের দশকে দেশত্যাগী রুশ অভিবাসীরাই ইউরেশীয়বাদের ধারণার স্রষ্টা ছিলেন৷ তাঁরা ছিলেন উদারপন্থা-বিরোধী, জাতীয়তাবাদী ও ইহুদি-বিদ্বেষী৷ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এই ভাবধারা আবার পায়ের তলায় জমি ফিরে পেতে থাকে৷ তবে কয়েক বছর আগে পর্যন্ত এর প্রবক্তারা কোণঠাসা ছিল, তাঁদের অনেক অপমান ও তাচ্ছিল্য সহ্য করতে হয়েছে৷ কিন্তু ২০১১/২০১২ সাল থেকে খোদ পুটিনের কণ্ঠে ও তাঁর নীতিতে ইউরেশীয়বাদের ছায়া বেড়েই চলেছে৷ অতএব তিনি যখন ফ্রান্সের চরমপন্থি ন্যাশানাল ফ্রন্টের মতো দল ও তাদের নেত্রী মারিন ল্য পেন সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেন, তখন সেটা আর বিস্ময়কর হয় না৷

ইউরেশীয়বাদ কিন্তু ইউরোপ থেকে রাশিয়ার মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া নয়৷ অনেকেই এমন ভুল ধারণা পোষণ করেন৷ এটা আসলে উদারপন্থা-বিরোধী, মার্কিন-বিরোধী এক ইউরোপের কনসেপ্ট৷ উদারপন্থি ও গণতান্ত্রিক ইউরোপের জন্য এটাই হলো আসল হুমকি – ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন নয়৷ ইউরোপের বেশিরভাগ নাগরিক এটা এখনো বুঝতে পারছেন না৷ বিংশ শতাব্দীর শেষে শীতল যুদ্ধ অবসানকে ঘিরে উচ্ছ্বাস কাটিয়ে তোলার সময় এসে গেছে৷ একবিংশ শতাব্দীর নতুন এক স্বৈরতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে ভাবতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন