1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘পিটানোর পর শিক্ষকের পেটে লাথি মারে পুলিশ'

‘‘আবুল কালামকে পুলিশ লাঠি দিয়ে পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সে লাঠির আঘাতে নীচে পড়ে গেলে তাঁর পেটে লাথিও মেরেছে পুলিশ৷'' ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকের ওপর পুলিশি নির্যাতনের বর্ণনা এভাবেই দিয়েছেন তাঁর সহকর্মী৷

default

ফাইল ছবি

কলেজের এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইউনূস আলি ডয়চে ভেলেকে আরো জানান আহত হবার পর শিক্ষক আবুল কালামকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতালেও নিতে দেয়নি পুলিশ৷ ইউনূস আলি জানতে চান, ‘‘আমরা শিক্ষকরা কী এমন অপরাধ করেছি যে আমাদের এভাবে পিটিয়ে, লাথি মেরে হত্যা করা হবে?''

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ সরকারি করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর রবিবারের হামলায় ওই কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালামসহ দুইজন নিহত হন৷ আরেকজন হলেন পথচারী, ভ্যানচালক সফর আলি৷ তাকেও পুলিশ আন্দোলনকারী ভেবে বেধড়ক পেটায়৷ পরে সে মারা যায়৷

অডিও শুনুন 05:16

‘পুলিশ বাধা না দিলে হয়তো তাঁকে বাঁচানো যেতো‘

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূস আলি বলেন, ‘‘কলেজ চত্বরে হামলার পর পুলিশ কলেজ ভবনের ভিতরে ঢুকে হামলা চালায়৷ একটি কক্ষে আশ্রয় নেয়া ছাত্র ও শিক্ষকদের রীতিমতো আটক করে পিটায় পুলিশ৷ পুলিশের পিটুনিতে নীচে পড়ে যাওয়ার পরও রেহাই পায়নি শিক্ষক আবুল কালাম৷ তাঁর পেটে লাথি মারে পুলিশ৷ এরপর আমরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে ওই পুলিশ তাতে বাঁধা দেয়৷ ঘেরাও করে রাখে৷ আমরা পেছন দিক দিয়ে তাঁকে ময়মনসিংহ জেলা সদর হাসপাতালে নিতে চাইলে পুলিশ নিতে দেয়নি৷ অ্যাম্বুলেন্সও ফিরিয়ে দেয় পুলিশ৷ শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তাকে ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন৷ পুলিশ বাধা না দিলে হয়তো তাঁকে বাঁচানো যেতো৷''

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘‘পরিবারের সদস্যদের লাশ না দিয়ে পুলিশ লাশ সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখান থেকে পুলিশ পাহারায় লাশ নেয়া হয় তাঁর গ্রামের বাড়ি নান্দাইলের কবিরপুরে৷ আজ ( সোমবার) পুলিশ পাহারায় সেখানে লাশ দাফন করা হয়েছে৷''

জানা গেছে, ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ সরকারি করার দাবিতে ছাত্র ও শিক্ষকরা প্রায় দেড়মাস ধরে আন্দোলন করে আসছেন৷ সম্প্রতি ওই জেলার ২৩টি কলেজকে সরকারি করার জন্য তালিকাভুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়৷  কিন্তু তার মধ্যে ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ নেই৷ অথচ তার পাশেই একটি নবীন ইন্টারমেডিয়েট কলেজকে (বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ) সরকারি করার তালিকায় রাখা হয়৷ ওই কলেজটি এমপিওভুক্তও নয়৷ এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় লোকজন এবং ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা৷ রবিবার কলেজের পূর্বঘোষিত সমাবেশ ও মিছিলে পুলিশ হামলা চালালে দুই জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন৷

অডিও শুনুন 01:25

‘পুলিশের পিটুনিতে শিক্ষক মারা যাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা’

তবে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ‘‘পুলিশ কলেজের কোনো ভবনে প্রবেশ করেনি৷ উচ্ছৃংখল ছাত্রদের থামাতে কলেজের মাঠে প্রবেশ করে৷ তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়ছিল৷ পুলিশের পিটুনিতে শিক্ষক মারা যাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা৷'' তিনি জানান, ‘‘ময়না তদন্ত ও সুরতহালেও শিক্ষকের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্নের কথা বলা হয়নি৷'' তাঁর মতে, ‘‘শিক্ষকরা তাঁদের আন্দোলন জোরদার করতেই এসব কথা বলছেন৷''

এদিকে এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন৷ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের এ কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ পুলিশও আলাদা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে৷

পুলিশ তাদের কর্তব্যে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে অজ্ঞাত চার শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে৷ কিন্তু শিক্ষকসহ দু'জন নিহত হওয়ার ঘটনায় কোনো হত্যা মামলা হয়নি৷ অধ্যাপক ইউনূস আলি জানান, ‘‘এলকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল প্রতিবাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়