1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

পিঁপড়ার গতিবিধি থেকে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস জানার চেষ্টা

প্রযুক্তিতে অগ্রগামী জাপানের মানুষদের ভূমিকম্পের ছোবল থেকে বাঁচাতে পারেনি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি৷ তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, পিঁপড়ার গতিবিধি লক্ষ্য করে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার মাধ্যমে বাঁচানো যেতে পারে মানুষের জীবন৷

default

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে মানুষ এখনও অসহায়৷ আর এগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ কারণ এটা এতো দ্রুত ঘটে যে ক্ষণিকের মধ্যেই সব লন্ডভন্ড করে দেয়৷ তাই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভূমিকম্প আসার তথ্য আগেভাগে জানার জন্য৷ এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জার্মান বিজ্ঞানী উলরিশ শ্রাইবারের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, পিঁপড়া আগাম জানাতে পারে ভূমিকম্পের খবর৷ তবে সব পিঁপড়া নয়, বরং বিশেষ ধরণের লাল রঙের কাঠ পিঁপড়ারাই পারে এ ধরণের পূর্বাভাস দিতে৷

ডুইসবুর্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ শ্রাইবারের মতে, এই জাতের পিঁপড়াগুলো সাধারণত ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে বাসা বাঁধে৷ অর্থাৎ ভূনিম্নস্থ স্তরগুলোর সংযোগ স্থলের কাছাকাছি তথা ফাটলের নিকটতম এলাকায় এরা বাসা বাঁধে৷ তাঁর মতে, গভীর ভূস্তর থেকে উঠে আসা গ্যাস পিঁপড়ার বাসাগুলোকে উষ্ণ রাখে৷ ভূনিম্নস্থ প্লেটগুলোর ফাটলের কাছে পর্যাপ্ত মাত্রায় আর্দ্রতাও পায় তারা৷

Bdt Riesenameise aus Holz

এত বড় পিঁপড়া

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের আইফেল অঞ্চলে দুই বছর ধরে পিঁপড়ার গতিবিধির উপর লক্ষ্য রাখছেন শ্রাইবার এবং তাঁর সহকর্মী গবেষকরা৷ আধুনিক ক্যামেরা বসিয়ে দিন-রাত সর্বক্ষণ পিঁপড়াদের চলাফেরার উপর নজর রাখছেন তাঁরা৷ বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, কাছাকাছি কোথাও ভূকম্পন হলেও এর আগে বিচিত্র আচরণ দেখা গেছে পিঁপড়াগুলোর৷ এমনকি অস্বাভাবিকভাবে গভীর রাতেও তাদের চলাফেরা করতে দেখা পাওয়া গেছে৷ বাসা থেকে ভূমির উপরে বের হয়ে আসার হারেও দেখা গেছে পরিবর্তন৷ শ্রাইবার মনে করেন, নিচে থেকে বেশি পরিমাণে উঠে আসা গ্যাসের কারণে হয়তো পিঁপড়াদের এমন প্রতিক্রিয়া৷ আবার ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় প্রভাবের ফলেও এটা হতে পারে৷

এছাড়া গত দুই বছর আগে ইটালির লা'কিলা শহরে ভূমিকম্পের পর আবরুৎসো অঞ্চল পরিদর্শন করেন শ্রাইবার৷ সেখানেও তিনি নির্দিষ্ট ভূস্তরের সংযোগ স্থলে পিঁপড়ার বাসা দেখেছেন৷ তুরস্কের ইস্তানবুল শহরে অদূর ভবিষ্যতে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হানা দেবে৷ এমন আশঙ্কার মুখে ইস্তানবুলেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে যেতে যান শ্রাইবার৷ গবেষণার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও শ্রাইবারের বিশ্বাস তিনি একদিন ঠিকই পিঁপড়ার মাধ্যমে ভূমিকম্পের সঠিক পূর্বাভাস নির্ণয় করতে পারবেন৷ আর তা অগণিত মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন